পোস্টগুলি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

হো, এল এল এল রে দস্যুর দল

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হো, এল এল এল রে দস্যুর দল, গর্জিয়া নামে যেন বন্যার জল। চল্‌ তোরা পঞ্চগ্রামী, চল্‌ তোরা কলিঙ্গধামী, মল্লপল্লী হতে চল, “জয় চিত্রাঙ্গদা’ বল্‌, বল্‌ বল্‌ ভাই রে– ভয় নাই, ভয় নাই, ভয় নাই, নাই রে।

হে ভারত, আজি তোমার সভায়

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হে ভারত, আজি তোমারি সভায় শুন এ কবির গান । তোমার চরণে নবীন হরষে এনেছি পূজার দান । এনেছি মোদের দেহের শকতি, এনেছি মোদের মনের ভকতি, এনেছি মোদের ধর্মের মতি, এনেছি মোদের প্রাণ— এনেছি মোদের শ্রেষ্ঠ অর্ঘ্য তোমারে করিতে দান।। কাঞ্চনথালি নাহি আমাদের, অন্ন নাহিকো জুটে । যা আছে মোদের এনেছি সাজায়ে নবীন পর্ণপুটে । সমারোহে আজ নাই প্রয়োজন— দীনের এ পূজা, দীন আয়োজন— চিরদারিদ্র্য করিব মোচন চরণের ধুলা লুটে । সুরদুর্লভ তোমার প্রসাদ লইব পর্ণপুটে ।। রাজা তুমি নহ, হে মহাতাপস, তুমিই প্রাণের প্রিয় । ভিক্ষাভূষণ ফেলিয়া পরিব তোমারি উত্তরীয় ।। দৈন্যের মাঝে আছে তব ধন, মৌনের মাঝে রয়েছে গোপন তোমার মন্ত্র অগ্নিবচন— তাই আমাদের দিয়ো । পরের সজ্জা ফেলিয়া পরিব তোমারি উত্তরীয় । দাও আমাদের অভয়মন্ত্র, অশোকমন্ত্র তব । দাও আমাদের অমৃতমন্ত্র, দাও গো জীবন নব । যে জীবন ছিল তব তপোবনে, যে জীবন ছিল তব রাজাসনে, মুক্ত দীপ্ত সে মহাজীবনে চিত্ত ভরিয়া লব । মৃত্যুতরণ শঙ্কাহরণ দাও সে মন্ত্র তব ।।

হে বিদেশী, এসো এসো

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হে বিদেশী, এসো এসো। হে আমার প্রিয়, এই কথা স্মরণে রাখিয়ো তোমা-সাথে এক স্রোতে ভাসিলাম আমি হে হৃদয়স্বামী, জীবনে মরণে প্রভু।

হে কৌন্তেয়

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হে কৌন্তেয়, ভালো লেগেছিল ব’লে তব করযুগে সখী দিয়েছিল ভরি সৌন্দর্যের ডালি, নন্দনকানন হতে পুষ্প তুলে এনে বহু সাধনায়। যদি সাঙ্গ হল পূজা, তবে আজ্ঞা করো প্রভু, নির্মাল্যের সাজি থাক্‌ পড়ে মন্দির-বাহিরে। এইবার প্রসন্ন নয়নে চাও সেবিকার পানে।

হৃদয়ক সাধ মিশাওল হৃদয়ে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হৃদয়ক সাধ মিশাওল হৃদয়ে, কন্ঠে বিমলিন মালা। বিরহবিষে দহি বহি গল রয়নী, নহি নহি আওল কালা। বুঝনু বুঝনু সখি বিফল বিফল সব, বিফল এ পীরিতি লেহা — বিফল রে এ মঝু জীবন যৌবন, বিফল রে এ মঝু দেহা! চল সখি গৃহ চল, মুঞ্চ নয়ন-জল, চল সখি চল গৃহকাজে, মালতিমালা রাখহ বালা, ছি ছি সখি মরু মরু লাজে। সখি লো দারুণ আধিভরাতুর এ তরুণ যৌবন মোর, সখি লো দারুণ প্রণয়হলাহল জীবন করল অঘোর। তৃষিত প্রাণ মম দিবসযামিনী শ্যামক দরশন আশে, আকুল জীবন থেহ ন মানে, অহরহ জ্বলত হুতাশে। সজনি, সত্য কহি তোয়, খোয়াব কব হম শ্যামক প্রেম সদা ডর লাগয়ে মোয়। হিয়ে হিয়ে অব রাখত মাধব, সো দিন আসব সখি রে, বাত ন বোলবে, বদন ন হেরবে, মরিব হলাহল ভখি রে। ঐস বৃথা ভয় না কর বালা, ভানু নিবেদয় চরণে, সুজনক পীরিতি নৌতুন নিতি নিতি, নহি টুটে জীবন-মরণে।

হে নূতন দেখা দিক আর বার

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ ।। তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন সূর্যের মতন । রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন । ব্যক্ত হোক জীবনের জয়, ব্যক্ত হোক তোমামাঝে অসীমের চিরবিস্ময় । উদয়দিগন্তে শঙ্খ বাজে, মোর চিত্তমাঝে চিরনূতনেরে দিল ডাক পঁচিশে বৈশাখ ।।

সেই ভালো মা, সেই ভালো

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই ভালো মা, সেই ভালো। থাক্‌ তোর মন্ত্র, থাক্‌ তোর– আর কাজ নাই, কাজ নাই ,কাজ নাই। না না না, পড়্‌ মন্ত্র তুই, পড়্‌ তোর মন্ত্র– পথ তো আর নেই বাকি! আসবে সে, আসবে সে, আসবে, আমার জীবনমৃত্যু-সীমানায় আসবে। নিবিড় রাত্রে এসে পৌঁছবে পান্থ, বুকের জ্বালা দিয়ে আমি জ্বালিয়ে দিব দীপখানি– সে আসবে।

স্বর্ণবর্ণে সমুজ্জ্বল নব চম্পাদলে– লিরিক্স – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (চণ্ডালিকা – গীতবিতান)

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বর্ণবর্ণে সমুজ্জ্বল নব চম্পাদলে বন্দিব শ্রীমুনীন্দ্রের পাদপদ্মতলে। পুণ্যগন্ধে পূর্ণ বায়ু হল সুগন্ধিত, পুষ্পমাল্যে করি তাঁর চরণ বন্দিত॥

সেই শান্তিভবন ভুবন

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই শান্তিভবন ভুবন কোথা গেল। সেই রবি শশী তারা, সেই শোকশান্ত সন্ধ্যা-সমীরণ, সেই শোভা, সেই ছায়া, সেই স্বপন। সেই আপন হৃদয়ে আপন বিরাম কোথা গেল, গৃহহারা হৃদয় লবে কাহার শরণ। ( শান্তার প্রতি ) এসেছি ফিরিয়ে, জেনেছি তোমারে, এনেছি হৃদয় তব পায়– শীতল স্নেহসুধা করো দান, দাও প্রেম, দাও শান্তি, দাও নূতন জীবন।

সে যে পথিক আমার

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সে যে পথিক আমার, হৃদয়পথের পথিক আমার। হায় রে আর সে তো এল না এল না, এ পথে এল না, আর সে যে চাইল না জল। আমার হৃদয় তাই হল মরুভূমি, শুকিয়ে গেল তার রস– সে যে চাইল না জল।

সাত দেশেতে খুঁজে খুঁজে গো

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাত দেশেতে খুঁজে খুঁজে গো শেষকালে এই ঠাঁই ভাগ্যে দেখা পেলেম রক্ষা তাই।

সর্দার মহাশয় দেরি না সয়

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সর্দার মহাশয় দেরি না সয়, তোমার আশায় সবাই বসে। শিকারেতে হবে যেতে, মিহি কোমর বাঁধো কষে। বনবাদাড় সব ঘেঁটে ঘুঁটে, আমরা মরব খেটে খুটে, তুমি কেবল লুটে পুটে পেট পোরাবে ঠেসে ঠুসে।

সুমঙ্গলী বধু

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুমঙ্গলী বধূ, সঞ্চিত রেখো প্রাণে স্নেহমধু । আহা । সত্য রহো তুমি প্রেমে, ধ্রুব রহো ক্ষেমে– দুঃখে সুখে শান্ত রহো হাস্যমুখে । আঘাতে হও জয়ী অবিচল ধৈর্যে কল্যাণময়ী । আহা ।। চলো শুভবুদ্ধির বাণী শুনে, সকরুণ নম্রতাগুণে চারি দিকে শান্তি হোক বিস্তার– ক্ষমাস্নিগ্ধ করো তব সংসার । যেন উপকরণের গর্ব আত্মারে না করে খর্ব । মন যেন জানে, উপহাস করে কাল ধনমানে– তব চক্ষে যেন ধূলির সে ফাঁকি নিত্যেরে না দেয় ঢাকি । আহা ।।

সুমধুর শুনি আজি

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুমধুর শুনি আজি, প্রভু, তোমার নাম। প্রেমসুধাপানে প্রাণ বিহ্বলপ্রায়, রসনা অলস অবশ অনুরাগে।।

সে জন কে, সখী, বোঝা গেছে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর **সে জন কে, সখী, বোঝা গেছে – লিরিক্স – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (মায়ার খেলা – গীতবিতান)** সে জন কে, সখী, বোঝা গেছে, আমাদের সখী যারে মনপ্রাণ সঁপেছে। ও সে কে, কে, কে। ওই যে তরুতলে, বিনোদ-মালা গলে, না জানি কোন্‌ ছলে বসে রয়েছে। সখী কী হবে, ও কি কাছে আসিবে কভু, কথা কবে। ও কি প্রেম জানে, ও কি বাঁধন মানে। ও কী মায়াগুণে মন লয়েছে। বিভল আঁখি তুলে আঁখি পানে চায়, যেন কী পথ ভুলে এল কোথায়। (ওগো) যেন কী গানের স্বরে, শ্রবণ আছে ভরে, যেন কোন্‌ চাঁদের আলোয় মগ্ন হয়েছে।

সহে না সহে না কাঁদে পরান

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সহে না সহে না কাঁদে পরাণ। সাধের অরণ্য হল শ্মশান। দস্যুদলে আসি শান্তি করে নাশ, ত্রাসে সকল দিশ কম্পমান। আকুল কানন, কাঁদে সমীরণ, চকিত মৃগ, পাখি গাহে না গান। শ্যামল তৃণদল, শোণিতে ভাসিল, কাতর রোদন-রবে ফাটে পাষাণ। দেবী দুর্গে, চাহো, ত্রাহি এ বনে, রাখো অধীনী জনে, করো শান্তি দান।

সঘন ঘন ছাইল গগন

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সঘন ঘন ছাইল গগন ঘনাইয়া, স্তিমিত দশ দিশি, স্তম্ভিত কানন, সব চরাচর আকুল– কি হবে কে জানে, ঘোরা রজনী, দিক-ললনা ভয়বিভলা। চমকে চমকে সহসা দিক উজলি চকিতে চকিতে মাতি ছুটিল বিজলী থরহর চরাচর পলকে ঝলকিয়ে। ঘোর তিমির ছায় গগন মেদিনী, গুরু গুরু নীরদগরজনে স্তব্ধ আঁধার ঘুমাইছে– সহসা উঠিল জেগে প্রচণ্ড সমীরণ, কড় কড় বাজ!

সখী সাধ করে যাহা দেবে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর **সখী, সাধ করে যাহা দেবে – লিরিক্স – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (মায়ার খেলা – গীতবিতান)** সখী, সাধ করে যাহা দেবে তাই লইব। আহা মরি মরি সাধের ভিখারি, তুমি মনে মনে চাহ প্রাণমন। দাও যদি ফুল, শিরে তুলে রাখিব দেয় যদি কাঁটা। তাও সহিব। আহা মরি মরি সাধের ভিখারি, তুমি মনে মনে চাহ প্রাণমন। যদি এক বার চাও সখী মধুর নয়ানে, ওই আঁখি-সুধাপানে, চিরজীবন মাতি রহিব। যদি কঠিন কটাক্ষ মিলে। তাও হৃদয়ে বিঁধায়ে চিরজীবন বহিব। আহা মরি মরি সাধের ভিখারি, তুমি মনে মনে চাহ প্রাণমন।

সতিমির রজনী সচকিত সজনী

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সতিমির রজনী, সচকিত সজনী শূন্য নিকুঞ্জ অরণ্য। কলয়িত মলয়ে, সুবিজন নিলয়ে বালা বিরহবিষণ্ণ! নীল আকাশে, তারক ভাসে, যমুনা গাওত গান, পাদপ মরমর, নির্ঝর ঝরঝর কুসুমিত বল্লিবিতান। তৃষিত নয়ানে, বন-পথ পানে নিরখে ব্যাকুল বালা, দেখ না পাওয়ে, আঁখ ফিরাওয়ে গাঁথে বনফুলমালা। সহসা রাধা চাহল সচকিত দূরে খেপল মালা, কহল-সজনি শুন, বাঁশরি বাজে কুঞ্জে আওল কালা। চকিত গহন নিশি, দূর দূর দিশি বাজত বাঁশি সুতানে। কন্ঠ মিলাওল ঢলঢল যমুনা কল কল কল্লোলগানে। ভণে ভানু, অব শুন গো কানু পিয়াসিত গোপিনী প্রাণ। তোঁহার পীরিত বিমল অমৃতরস হরষে করবে পান।

সন্ত্রাসের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সন্ত্রাসের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান। সংকটের কল্পনাতে হোয়ো না ম্রিয়মাণ। মুক্ত করো ভয়, আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়। দুর্বলেরে রক্ষা করো, দুর্জনেরে হানো, নিজেরে দীন নিঃসহায় যেন কভু না জানো। মুক্ত করো ভয়, নিজের ‘পরে করিতে ভর না রেখো সংশয়। ধর্ম যবে শঙ্খরবে করিবে আহ্বান নীরব হয়ে নম্র হয়ে পণ করিয়ো প্রাণ। মুক্ত করো ভয়, দুরূহ কাজে নিজেরি দিয়ো কঠিন পরিচয়। সন্ত্রাসের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান। সংকটের কল্পনাতে হোয়ো না ম্রিয়মাণ। মুক্ত করো ভয়, আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়। দুর্বলেরে রক্ষা করো, দুর্জনেরে হানো, নিজেরে দীন নিঃসহায় যেন কভু না জানো। মুক্ত করো ভয়, নিজের ‘পরে করিতে ভর না রেখো সংশয়। ধর্ম যবে শঙ্খরবে করিবে আহ্বান নীরব হয়ে নম্র হয়ে পণ করিয়ো প্রাণ। মুক্ত করো ভয়, দুরূহ কাজে নিজেরি দিয়ো কঠিন পরিচয়।