পোস্টগুলি

বাসুদেব ঘোষ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

গোরা-গুণে প্রাণ কান্দে কি বুদ্ধি করিব

শিল্পী: বাসুদেব ঘোষ গোরা-গুণে প্রাণ কান্দে কি বুদ্ধি করিব। গৌরাঙ্গ গুণের নিধি কোথা গেলে পাব॥ কে আর করিবে দয়া পতিত দেখিয়া। দুর্লভ হরির নাম কে দিবে যাচিয়া॥ অকিঞ্চন দেখি কেবা উঠিবে কান্দিয়া। গোরা-বিনু শূন্য হৈল সকল নদীয়া॥ বাসুদেব ঘোষ কান্দে গুণ সোঙরিয়া। ঝুরয়ে নদীয়া-লোক গোরা না হেরিয়া॥

কি লাগিয়া দণ্ড ধরে অরুণ বসন পরে

শিল্পী: বাসুদেব ঘোষ কি লাগিয়া দণ্ড ধরে অরুণ বসন পরে কি লাগিয়া মুড়াইল কেশ। কি লাগিয়া মুখ-চাঁদে রাধা রাধা বলি কাঁদে কি লাগিয়া ছাড়িল নিজ দেশ॥ শ্রীবাসের উচ্চ রায় পাষাণ মিলাঞা যায় গদাধর না জিয়ে পরাণে। বহিছে তপত ধারা যেন মন্দাকিনী পারা মুকুন্দের ও দুই নয়ানে॥ সকল মোহান্ত-ঘরে বিধাতা বুঝাইয়া ফিরে তবু স্থির নাহি হয় কেহ। জ্বলন্ত অনল হেন রমণী ছাড়িল কেন কি লাগি তেজিল তার লেহ॥ কি কব দুখের কথা কহিতে মরম-ব্যথা না দেখি বিদরে মোর হিয়া। দিবানিশি নাহি জানি বিরহে আকুল প্রাণী বাসু ঘোষ পড়ে মুরছিয়া॥

শচীর আঙ্গিনায় নাচে বিশ্বম্ভর রায়

শিল্পী: বাসুদেব ঘোষ শচীর আঙ্গিনায় নাচে বিশ্বম্ভর রায়। হাসি হাসি ফিরি ফিরি মায়েরে লুকায়॥ বয়নে বসন দিয়া বলে লুকাইনু। শচী বলে বিশ্বম্ভর আমি না দেখিনু॥ মায়ের অঞ্চল ধরি চঞ্চল চরণে। নাচিয়া নাচিয়া যায় খঞ্জন গমনে॥ বাসুদেব ঘোষ কহে অপরূপ শোভা। শিশুরূপ দেখি হয় জগ মন লোভা॥

আজিকার স্বপনের কথা শুনলো মালিনী সই

শিল্পী: বাসুদেব ঘোষ আজিকার স্বপনের কথা শুনলো মালিনী সই নিমাই আসিয়াছিল ঘরে। আঙ্গিনাতে দাঁড়াইয়া গৃহপানে নেহারিয়া মা বলিয়া ডাকিল আমারে॥ ঘরেতে শুতিয়াছিলাম অচেতনে বাহির হৈলাম নিমাইয়ের গলার সাড়া পাঞা। আমার চরণের ধূলি নিল নিমাই শিরে তুলি পুন কাঁদে গলায় ধরিয়া॥ তোমার প্রেমের বশে ফিরি আমি দেশে দেশে রহিতে নারিলাম নীলাচলে। তোমারে দেখিবার তরে আইলাম নদীয়া পুরে কাঁদিতে কাঁদিতে ইহা বলে॥ আইস মোর বাছা বলি হিয়ার মাঝারে তুলি হেন কালে নিদ্রাভঙ্গ হৈল। পুন না দেখিয়া তারে পরাণ কেমন করে কাঁদিয়া রজনী পোহাইল॥ সেই হৈতে প্রাণ কাঁদে হিয়া থির নাহি বাঁধে কি কহিব কহ না উপায়। বাসুদেব ঘোষে কয় গৌরাঙ্গ তোমারি হয় নহিলে কি সদা দেখ তায়॥

শচীর মন্দিরে আসি দুয়ারের পাশে বসি

শিল্পী: বাসুদেব ঘোষ শচীর মন্দিরে আসি দুয়ারের পাশে বসি ধীরে ধীরে কহে বিষ্ণুপ্রিয়া। শয়ন-মন্দিরে ছিলা নিশাভাগে কোথা গেলা মোর মুণ্ডে বজর পাড়িয়া॥ গৌরাঙ্গ জাগয়ে মনে নিদ্রা নাহি দু-নয়নে শুনিয়া উঠিলা শচীমাতা। আউদড়-কেশে ধায় বসন না রহে গায় শুনিয়া বধূর মুখে কথা॥ তুরিতে জালিয়া বাতি দেখিলেন ইতি উতি কোন ঠাঞি উদ্দেশ না পাইয়া। বিষ্ণুপ্রিয়া বধূ সাথে কান্দিতে কান্দিতে পথে ডাকে শচী নিমাই বলিয়া॥ শুনিয়া নদিয়া-লোকে কান্দে উচ্চস্বরে শোকে যারে তারে পুছেন বারতা। একজন পথে যায় দশজনে পুছে তায় গৌরাঙ্গ দেখ্যাছ যাইতে কোথা॥ সে বলে দেখ্যাছি পথে কেহো তা নাহিক সাথে কাঞ্চননগর পথে ধায়। কহে বাসু-ঘোষ ভাষা ষচীর এমন দশা পাছে জানি মস্তক মুড়ায়॥