পোস্টগুলি

হাছন রাজা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দি হইয়া রে

শিল্পী: হাছন রাজা মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দি হইয়া রে কান্দে হাসন রাজার মন মনিয়া রে।। মায়ে বাপে বন্দী কইলা, খুশির মাঝারে লালে ধলায় বন্দী হইলাম, পিঞ্জিরার মাঝারে।। উড়িয়া যায় রে ময়না পাখি, পিঞ্জিরায় হইল বন্দি মায়ে বাপে লাগাইলা, মায়া জালের আন্দি।। পিঞ্জিরায় সামাইয়া ময়নায় ছটফট করে মজবুত পিঞ্জিরা ময়নায়, ভাঙ্গিতে না পারে।। উড়িয়া যাইব শুয়া পক্ষী, পড়িয়া রইব কায়া কিসের দেশ কিসের খোশ, কিসের দয়া মায়া।। ময়নাকে পালিতে আছি দুধ কলা দিয়া যাইবার কালে নিষ্ঠুর ময়নায় না চাইব ফিরিয়া।। হাসন রাজায় ডাকব তখন ময়না আয়রে আয় এমন নিষ্ঠুর ময়নায়, আর কি ফিরিয়া চায়।।

আমি না লইলাম আল্লাজির নাম

শিল্পী: হাছন রাজা আমি না লইলাম আল্লাজির নাম | না কইলাম তার কাম | বৃথা কাজে হাছন রাজায় দিন গুয়াইলাম || ভবের কাজে মত্ত হইয়া দিন গেল গইয়া | আপন কার্য না করিলাম, রহিলাম ভুলিয়া || নাম লইব নাম লইব করিয়া আয়ু হইল শেষ | এখনও না করিলাম প্রাণ বন্ধের উদ্দেশ || আশয় বিষয় পাইয়া হাছন (তুমি) কর জমিদারি | চিরকাল থাকিবেনি হাছনরাজা লক্ষ্মণছিরি || কান্দে কান্দে হাছন রাজা, কী হবে উপায় | হাসরের দিন যখন পুছিবে খোদায় || ছাড় ছাড় হাছন রাজা, এই ভবের আশ | (কেবল) এক মনে চিন্তা কর, হইতাম বন্ধের দাস ||

আমি তোমার কাঙ্গালী গো সুন্দরী রাধা

শিল্পী: হাছন রাজা আমি তোমার কাঙ্গালী গো সুন্দরী রাধা, আমি তোমার কাঙ্গালী গো | তোমার লাগিয়া কন্দিয়া ফিরে, হাছন রাজা কাঙ্গালী গো || তোমার প্রেমে হাছন রাজার, মনে হুতাশন | একবার আসি হৃদকমলে, করয়ে আসন || আইস আউস প্রাণ প্রিয়সী ধরি তোমার পায় | তোমায় না দেখিলে আমার, জ্বলিয়ে প্রাণ যায় || ছট্ ফট্ করে হাছন, তোমার কারণ | ত্বরা করি না আসিলে হইব মরণ || কান্দে কান্দে হাছন রাজা পড়ে আছাড় খাইয়া | শীঘ্র করি প্রাণ প্রিয়সী, কোলে লও উঠাইয়া || কোলে ঠান্ডা হইব, হাছন রাজার হিয়া | সব দুঃখ পাসরিব, চান্দ মুখ দেখিয়া || হিন্দুয়ে বলে তোমায় রাধা, আমি বলি খোদা | রাধা বলিয়া ডাকিলে, মুল্লা মুন্সিয়ে দেয় বাধা || হাছন রাজা বলে আমি, না রাখিব যুদা | মুল্লা মুন্সির কথা যত সকলই বেহুদা ||

আল্লা ভব সমুদ্ রে

শিল্পী: হাছন রাজা আল্লা ভব সমুদ্ রে আল্লা ভব সমুদ্ রে তরাইয়া লও মোরে | তরান বরান চাই না আমি কেবল চাই তোরে || তরাই মার যাই কর এর লাগি কে ঝুরে | হাছন রাজার মনের সাধ দেখিত তোমারে || চিত্তে কেন তোমার লাগি সদায় ধড়ফড় করে | হাছন রাজার মনে কেবল থাকত তোর হুজুরে || না চাই ধন, না চাই জন, না চাই জমিদারি | হাছন রাজার মনোবাঞ্ছা থাকত চরণ ধরি || পূর্ণ কর আকাঙ্খা প্রভু, ভক্তি করি তোরে | পদতলে রাখ আশিক হাছন রাজারে ||

আমি মরিয়া পাই যদি শ্যামের রাঙ্গা চরণ

শিল্পী: হাছন রাজা আমি মরিয়া পাই যদি, শ্যামের রাঙ্গা চরণ | (আরে) তবে সে রঙ্গিনী রাধার সাফল্য জীবন || মরিয়া মরিয়া যদি, শ্যামের লাগাল পাই | রাঙ্গা চরণে ধরি জনম গোওয়াই || ছাড়াইলে না ছাড়িমু, ধরিমু চরণ | যাহা করে জগন্নাথ, জগত্ মোহন || হাছন রাজায় বলে জান যাইবে যখন | সে সময় দেখতে চাই যুগল চরণ ||

এগো মইলা তোমার লাগিয়ে হাছন রাজা বাউলা

শিল্পী: হাছন রাজা এগো মইলা, তোমার লাগিয়ে হাছন রাজা বাউলা | ভাবতে ভাবতে হাছন রাজা হইল এমন আউলা || দিনে রাইতে উঠে মনে, প্রেমানলের শওলা | আর কত সহিব প্রাণে, তুই বন্ধের জ্বালা || সোনার রং অঙ্গ আমার, হইয়াছে রে কালা | অন্তরে বাহিরে আমার জ্বলিয়ে রহিল কয়লা || লোকে বলে হাছন রাজা হইল রে আজুলা | হাতে তলি দিয়া গিল্লা, করেরে কট মুল্লা || আজুলা হইয়া হাছন রাজায় বলে আল্লা | বারে বারে বলে, লাইলাহা ইল্লাল্লা | নাচে নাচে হাছন রাজা হইয়া ফানা ফিল্লা ||

ওমা কালী কালী গো এতনি ভঙ্গিমা জান

শিল্পী: হাছন রাজা ওমা কালী ! কালী গো ! এতনি ভঙ্গিমা জান | কত রঙ্গ ঢঙ্গ কর যা ইচ্ছা হয় মন || মাগো স্বামীর বুকে পা দেও মা ক্রোধ হইলে রণ | কৃষ্ণরূপে প্রেমভাবে, মামীর বসন টান || আদ্যাশক্তি হইয়া মাগো ! পুত্রে রইলায় বর | শতবার মারিয়া মাগো ; কর পুত্রের ঘর || কখন কালী, কখন রাধা, কখন গো তারিণী | জ্ঞান চক্ষে চাইয়া দেখি, মা মোর পরাণী || কালীরূপ ধরিয়া মাগো ! অসুর কইলায় নাশ | রামরূপে রাক্ষসগণ করিলায় বিনাশ || তুমি বাড়ি, তুমি ঘর মা ! তুমিই সংসার | তুমি বিনে অন্যজনা কেহই নাই আর || নানা সময় নানা রূপে, অবতার হইয়া | ভক্তবাঞ্ছা পূর্ণ কর দুষ্টকে মারিয়া || হাছন রাজা কালী ভক্ত, কালী পদ সার | কে বুঝিতে পারে মায়ের, অনন্ত ব্যাপার ||

কতদিন আর খেলবে হাছন ভবেরই খেলা

শিল্পী: হাছন রাজা কতদিন আর খেলবে হাছন, ভবেরই খেলা | খেলতে খেলতে হাছন রাজার না লাগে ভালা || এই যে দেখ ভবের বাজার, কেবল এক জ্বালা | স্ত্রী পুত্র কেহ নয় তোর, যাইতে একলা || হাছন জানে, হাছন রাজায় মাইল এক ঠেলা | চল চল শিঘ্র করিয়ে, চল শালার শালা ||

পিরীত করিয়ে পিরীত করিয়ে মোর মন উদাসী

শিল্পী: হাছন রাজা পিরীত করিয়ে, পিরীত করিয়ে মোর মন উদাসী | প্রাণ গেল প্রাণ গেল,বন্ধুরে ভালবাসি || কথা কয় প্রাণ বন্ধে, যখন হাসি হাসি | দেখিয়ে তাঁর রূপের বাহার, আইসে মোর বেহুশী || পিরীত আজব চিজ্ জগতের প্রধান || পিরীতকর প্রেমিকেরা, ছাড়িয়ে কুল মান | পিরীত রত্ন কর যত্ন, পিরীতি জানিয়া সার || পিরীত ভাবে পাইবায়, বন্ধুয়ার দিদার | হাছন রাজায় পিরীত করিয়া বন্ধুয়ারে পাইয়া | এই কথা হাছন রাজা, ফিরে গাইয়া গাইয়া ||

বিচার করি চাইয়া দেখি সকলেই আমি

শিল্পী: হাছন রাজা বিচার করি চাইয়া দেখি সকলেই আমি । সোনা মামি ! সোনা মামি গো ! আমারে করিলায় বদনামি ।। আমি হইতে আল্লা রছুল, আমি হইতে কুল । পাগলা হাছন রাজা বলে, তাতে নাই ভুল ।। আমা হইতে আসমান জমিন আমি হইতেই সব । আমি হইতে ত্রিজগত্, আমি হইতে সব ।। আমি হইতে সাউয়াল, আমি আখের জাহের বাতিন । না বুঝিয়া দেশের লোকে, বাসে মোরে ভিন ।। আমা হইতে পয়দা হইছে, এই ত্রিজগত্ । গউর করি চাইয়া দেখ হে, আমারও মত ।। আক্কল হইতে পয়দা হইল মাবুদ আল্লার । বিশ্বাসে করিল পয়দা, রছুল উল্লার ।। মম আঁখি হইতে পয়দা, আসমান জমিন । কর্ণ হইতে পয়দা হইছে, মুসলমানী দিন ।। আর পয়দা করিল যে, শুনিবারে যত । সবদ, সাবদ, আওয়াজ ইত্যাদি যে কত ।। শরীরে করিল পয়দা, শক্ত আর নরম । আর পয়দা করিয়াছে ঠাণ্ডা আর গরম ।। নাকে পয়দা করিয়াছে খুশবয় আর বদবয় । আমি হইতে সব উত্পত্তি হাছন রাজা কয় ।। মরণ জীয়ন নাইরে আমার ভাবিয়া দেখ ভাই । ঘর ভাঙ্গিয়া ঘর বানানি এই দেখিতে পাই ।। পাগল হইয়া হাছন রাজা কিসেতে কি কয় । মরব মরব দেশের লোক মোর কথা যদি লয় ।। জিহ্বায় বানাইয়া আছে মিঠা আর তিতা । জীবের মরণ নাই রে দেখ সর্বদাই জীতা ।। আপন চিনিলে দেখ খোদা চিন...

যমের দূতে আসিয়া

শিল্পী: হাছন রাজা যমের দূতে আসিয়া তোমার হাতে দিবে দড়ি। টানিয়া টানিয়া লইয়া যাবে যমেরও পুরিরে।। সে সময় কোথায় রইব (তোমার) সুন্দর সুন্দর স্ত্রী। কোথায় রইব রামপাশা কোথায় লক্ষণছিরি রে।। করবায় নিরে হাসন রাজা রামপাশায় জমিদারী। করবায় নিরে কাপনা নদীর তীরে ঘুরাঘুরি রে।। (আর) যাইবায় নিরে হাসন রাজা রাজাগঞ্জ দিয়া। করবায় নিরে হাসন রাজা দেশে দেশে বিয়া রে।। ছাড় ছাড় হাসন রাজা এ ভবের আশা। প্রাণ বন্ধের চরণ তলে কর গিয়া বাসা রে।।

রঙ্গিয়া রঙ্গে আমি মজিয়াছি রে

শিল্পী: হাছন রাজা রঙ্গিয়া রঙ্গে আমি মজিয়াছি রে | মজিয়াছি রে, আমি ডুবিয়াছি রে || আরশি পড়শী যাই চল, যাইমু বন্ধের সনে রে | কিবা ক্ষণে গিয়াছিলাম সুর্মা নদীর গাঙ্গে || বন্ধে মোরে ভুলাইল, রঙ্গে আর ঢঙ্গে রে || হাটিয়া যাইতে খসিয়া যায় বন্ধে অঙ্গে, অঙ্গে | ধনকড়ি তোর কিছু চায় না, যৌবন কেবল মাঙ্গে রে | হাছন রাজায় নাচন করে প্রেমেরি তরঙ্গে | পাইলে কখন ছাড়িবে না, এই মনে পাঙ্গে রে ||