Posts

Showing posts from 2026

আলোকের পথে, প্রভু, দাও দ্বার খুলে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আলোকের পথে, প্রভু, দাও দ্বার খুলে— আলোক-পিয়াসী যারা আছে আঁখি তুলে, প্রদোষের ছায়াতলে হারায়েছে দিশা, সমুখে আসিছে ঘিরে নিরাশার নিশা। নিখিল ভুবনে তব যারা আত্মহারা আঁধারের আবরণে খোঁজে ধ্রুবতারা, তাহাদের দৃষ্টি আনো রূপের জগতে— আলোকের পথে। ২. ১১. ১৯৪০ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

সবারে করি আহ্বান

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সবারে করি আহ্বান— এসো উৎসুকচিত্ত, এসো আনন্দিত প্রাণ। জয় দেহো পাতি, হেথাকার দিবা রাতি করুক নবজীবনদান। আকাশে আকাশে বনে বনে তোমাদের মনে মনে বিছায়ে বিছায়ে দিবে গান। সুন্দরের পাদপীঠতলে যেখানে কল্যাণদীপ জ্বলে সেথা পাবে স্থান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

দিনের বিচার করো

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিনের বিচার করো— দিনশেষে তব সমুখে দাঁড়ানু ওহে জীবনেশ্বর। দিনের কর্ম লইয়া স্মরণে সন্ধ্যাবেলায় সঁপিনু চরণে— কিছু ঢাকা নাই তোমার নয়নে, এখন বিচার করো। মিথ্যা আচারে যদি থাকি মজি আমার বিচার করো। মিথ্যা দেবতা যদি থাকি ভজি, আমার বিচার করো। লোভে যদি কারে দিয়ে থাকি দুখ, ভয়ে হয়ে থাকি ধর্মবিমুখ, পরনিন্দায় পেয়ে থাকি সুখ, আমার বিচার করো। অশুভকামনা করি যদি কার, আমার বিচার করো। রোষে যদি কারো করি অবিচার, আমার বিচার করো। তুমি যে জীবন দিয়েছ আমারে কলঙ্ক যদি দিয়ে থাকি তারে আপনি বিনাশ করি আপনারে, আমার বিচার করো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

নব বৎসরে করিলাম পণ

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নব বৎসরে করিলাম পণ লব স্বদেশের দীক্ষা— তব আশ্রমে তোমার চরণে, হে ভারত, লব শিক্ষা। পরের ভূষণ, পরের বসন, তেয়াগিব আজ পরের অশন— যদি হই দীন না হইব হীন, ছাড়িব পরের ভিক্ষা। নব বৎসরে করিলাম পণ লব স্বদেশের দীক্ষা। থাকে প্রাসাদ আছে তো কুটির কল্যাণে সুপবিত্র। থাকে নগর আছে তব বন ফলে ফুলে সুবিচিত্র। তোমা হতে যত দূরে গেছি স’রে তোমারে দেখেছি তত ছোটো ক’রে। কাছে দেখি আজ, হে হৃদয়রাজ, তুমি পুরাতন মিত্র। হে তাপস, তব পর্ণকুটির কল্যাণে সুপবিত্র। পরের বাক্যে তব পর হয়ে দিয়েছি পেয়েছি লজ্জা। তোমারে ভুলিতে ফিবায়েছি মুখ, পরেছি পরের সজ্জা। কিছু নাহি গণি’ কিছু নাহি কহি’ জপিছ মন্ত্র অন্তরে বহি— তব সনাতন ধ্যানের আসন মোদের অস্থিমজ্জা। পরের বুলিতে তোমারে ভুলিতে দিয়েছি পেয়েছি লজ্জা। সে-সকল লাজ তেয়াগিব আজ, লইব তোমার দীক্ষা। তব পদতলে বসিয়া বিরলে শিখিব তোমার শিক্ষা। তোমার ধর্ম, তোমার কর্ম, তব মন্ত্রের গভীর মর্ম লইব তুলিয়া সকল ভুলিয়া ছাড়িয়া পরের ভিক্ষা। তব গৌরবে গরব মানিব, লইব তোমার দীক্ষা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002....

আমার মনের বাঁধন ঘুচে যাবে যদি

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমার মনের বাঁধন ঘুচে যাবে যদি ও ভাই রে, থাক্ বাইরে বাঁধন তবে নিরবধি। যদি সাগর যাবার হুকুম থাকে থাক্ তটের বাঁধন বাঁকে বাঁকে, তবে বাঁধে বাঁধে গান গাবে নদী ভাই রে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

নূতন পথের পথিক হয়ে আসে, পুরাতন সাথি

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নূতন পথের পথিক হয়ে আসে, পুরাতন সাথি, মিলন-উষায় ঘোমটা খসায় চিরবিরহের রাতি। যারে বারে বারে হারিয়ে মেলে আজ প্রাতে তার দেখা পেলে নূতন করে পায়ের তলে দেব হৃদয় পাতি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

তোমার আনন্দ ওই গো

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তোমার আনন্দ ওই গো তোমার আনন্দ ওই এল দ্বারে, এল এল এল গো, ওগো পুরবাসী। বুকের আঁচলখানি সুখের আঁচলখানি— দুখের আঁচলখানি ধুলায় পেতে আঙিনাতে মেলো গো। সেচন কোরো— তার পথে পথে সেচন কোরো— পা ফেলবে যেথায় সেচন কোরো গন্ধবারি; মলিন না হয় চরণ তারি— তোমার সুন্দর ওই গো— তোমার সুন্দর ওই এল দ্বারে, এল এল এল গো। হৃদয়খানি— আকুল হৃদয়খানি সম্মুখে তার ছড়িয়ে ফেলো— রেখো না, রেখো না গো ধরে, ছড়িয়ে ফেলো ফেলো গো। তোমার সকল ধন যে ধন্য হল হল গো। বিশ্বজনের কল্যাণে আজ ঘরের দুয়ার— ঘরের দুয়ার খোলো গো। রাঙা হল— রঙে রঙে রাঙা হল— কার হাসির রঙে হেরো রাঙা হল সকল গগন, চিত্ত হল পুলক-মগন— তোমার নিত্য আলো এল দ্বারে, এল এল এল গো। পরান-প্রদীপ— তোমার পরান-প্রদীপ তুলে ধোরো ওই আলোতে— রেখো না, রেখো না গো দূরে— ওই আলোতে জ্বেলো গো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

আ য় আ য় আয় আমাদের অঙ্গনে অতিথি বালক তরুদল

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আ য় আ য় আয় আমাদের অঙ্গনে অতিথি বালক তরুদল— মানবের স্নেহসঙ্গ নে, চল্ আমাদের ঘরে চল্। শ্যাম বঙ্কিম ভঙ্গিতে চঞ্চল কলসঙ্গীতে দ্বারে নিয়ে আয় শাখায় শাখায় প্রাণ-আনন্দ-কোলাহল। তোদর নবীন পল্লবে নাচুক আলোক সবিতার, দে পবনে বনবল্লভে মর্মরগীত-উপহার। আজি শ্রাবণের বর্ষণে আশীর্বাদের স্পর্শ নে, পড়ুক মাথায় পাতায় পাতায় অমরাবতীর ধারাজল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

হে নূতন

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ। তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদ্ঘাটন সূর্যের মতন। রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন। ব্যক্ত হোক জীবনের জয়, ব্যক্ত হোক তোমামাঝে অসীমের চিরবিস্ময়। উদয়দিগন্তে শঙ্খ বাজে, মোর চিত্তমাঝে চিরনূতনেরে দিল ডাক পঁচিশে বৈশাখ। ২৩ বৈশাখ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

জাতীয় সংগীত/ওরে ভাই, মিথ্যা ভেবো না

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ওরে ভাই, মিথ্যা ভেবো না। হবার নয় যা কোনমতেই হবেই না সে, হতে দেব না। পড়ব না রে ধুলায় লুটে, যাবে না রে বাঁধন টুটে— যেতে দেব না। মাথা যাতে নত হবে এমন বোঝা মাথায় নেব না। দুঃখ আছে, দুঃখ পেতেই হবে— যত দূরে যাবার আছে সে তো যেতেই হবে। উপর-পানে চেয়ে ওরে ব্যথা নে রে বক্ষে ধ’রে- নে রে সকলে। নিঃসহায়ের সহায় যিনি বাজবে তাঁরে তোদের বেদনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

এতদিন পরে মোরে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এতদিন পরে মোরে আপন হাতে বেঁধে দিলে মুক্তিডোরে। সাবধানীদের পিছে পিছে দিন কেটেছে কেবল মিছে, ওদের বাঁধা পথের বাঁধন হতে টেনে নিলে আপন ক’রে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

দুইটি হৃদয়ে একটি আসন পাতিয়া বসো হে হৃদয়নাথ

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুইটি হৃদয়ে একটি আসন পাতিয়া বসো হে হৃদয়নাথ। কল্যাণকরে মঙ্গলডোরে বাঁধিয়া রাখো হে দোঁহার হাত। প্রাণেশ, তোমার প্রেম অনন্ত জাগাক হৃদয়ে চিরবসন্ত, যুগল প্রাণের মধুর মিলনে করো হে করুণনয়নপাত। সংসারপথ দীর্ঘ দারুণ, বাহিরিবে দুটি পান্থ তরুণ, আজিকে তোমার প্রসাদ-অরুণ করুক প্রকাশ নব প্রভাত। তব মঙ্গল, তব মহত্ত্ব, তোমারি মাধুরী, তোমারি সত্য— দোঁহার চিত্তে রহুক নিত্য নব নব রূপে দিবস-রাত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

সুধাসাগরতীরে হে, এসেছে নরনারী সুধারসপিয়াসে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুধাসাগরতীরে হে, এসেছে নরনারী সুধারসপিয়াসে। শুভ বিভাবরী, শোভাময়ী ধরণী, নিখিল গাহে আজি আকুল আশ্বাসে। গগনে বিকাশে তব প্রেমপূর্ণিমা, মধুর বহে তব কৃপাসমীরণ। আনন্দতরঙ্গ উঠে দশ দিকে, মগ্ন প্রাণ মন অমৃত-উচ্ছ্বাসে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

মরুবিজয়ের কেতন উড়াও শূন্যে হে প্রবল প্রাণ

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মরুবিজয়ের কেতন উড়াও শূন্যে হে প্রবল প্রাণ। ধুলিরে ধন্য করো করুণার পুণ্যে হে কোমল প্রাণ। মৌনী মাটির মর্মের গান কবে উঠিবে ধ্বনিয়া মর্মর তব রবে, মাধুরী ভরিবে ফুলে ফলে পল্লবে হে মোহন প্রাণ। পথিকবন্ধু, ছায়ার আসন পাতি এসো শ্যামসুন্দর। এসে বাতাসের অধীর খেলার সাথি, মাতাও নীলাম্বর। উষায় জাগাও শাখায় গানের আশা, সন্ধ্যায় আনো বিরামগভীর ভাষা, রচি দাও রাতে সুপ্ত গীতের বাসা হে উদার প্রাণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

জাতীয় সংগীত/আজ সবাই জুটে আসুক ছুটে যে যেখানে থাকে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আজ সবাই জুটে আসুক ছুটে যে যেখানে থাকে— এবার যার খুশি সে বাঁধন কাটুক, আমরা বাঁধব মাকে। আমরা পরান দিয়ে আপন করে বাঁধব তাঁরে সত্যডোরে, সন্তানেরই বাহুপাশে বাঁধব লক্ষ পাকে। আজ ধনী গরিব সবাই সমান। আয় রে হিন্দু, আয় মুসলমান— আজকে সকল কাজ পড়ে থাক্, আয় রে লাখে লাখে। আজ দাও গো সবার দুয়ার খুলে, যাও গো সকল ভাবনা ভুলে— সকল ডাকের উপরে আজ মা আমাদের ডাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

ওহে নবীন অতিথি, তুমি নূতন কি তুমি চিরন্তন

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ওহে নবীন অতিথি, তুমি নূতন কি তুমি চিরন্তন। যুগে যুগে কোথা তুমি ছিলে সঙ্গোপন। যতনে কত-কী আনি বেঁধেছিনু গৃহখানি, হেথা কে তোমারে বলো করেছিল নিমন্ত্রণ। কত আশা ভালোবাসা গভীর হৃদয়তলে ঢেকে রেখেছিনু বুকে কত হাসি-অশ্রুজলে। একটি না কহি বাণী তুমি এলে মহারানী, কেমনে গোপনে মনে করিলে হে পদার্পণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

ওই মহামানব আসে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ওই মহামানব আসে। দিকে দিকে রোমাঞ্চ লাগে মর্তধূলির ঘাসে ঘাসে। সুরলোকে বেজে ওঠে শঙ্খ, নরলোকে বাজে জয়ডঙ্ক— এল মহাজন্মের লগ্ন। আজি অমারাত্রির দুর্গতোরণ যত ধূলিতলে হয়ে গেল ভগ্ন। উদয়শিখরে জাগে ‘মাভৈঃ মাভৈঃ’ নবজীবনের আশ্বাসে। ‘জয় জয় জয় রে মানব-অভ্যুদয়’ মন্দ্রি-উঠিল মহাকাশে। ১ বৈশাখ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

বিশ্বরাজালয়ে বিশ্ববীণা বাজিছে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বরাজালয়ে বিশ্ববীণা বাজিছে। স্থলে জলে নভতলে বনে উপবনে নদীনদে গিরি-গুহা-পারাবারে নিত্য জাগে সরস সঙ্গীতমধুরিমা, নিত্য নৃত্যরসভঙ্গিমা। নববসন্তে নব আনন্দ— উৎসব নব— অতি মঞ্জুল, অতি মঞ্জুল, শুনি মঞ্জুল গুঞ্জন কুঞ্জে; শুনি রে শুনি মর্মর পল্লবপুঞ্জে; পিককূজনপুষ্পবনে বিজনে। তব স্নিগ্ধসুশোভন লোচনলোভন শ্যামসভাতলমাঝে কলগীত সুললিত বাজে। তোমার নিশ্বাসসুখপরশে উচ্ছ্বাসহরষে পল্লবিত, মঞ্জরিত, গুঞ্জরিত, উল্লসিত সুন্দর ধরা। দিকে দিকে তব বাণী— নব নব তব গাথা— অবিরল রসধারা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

অগ্নিশিখা, এসো এসো, আনো আনো আলো

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অগ্নিশিখা, এসো এসো, আনো আনো আলো। দুঃখে সুখে ঘরে ঘরে গৃহদীপ জ্বালো। আনো শক্তি, আনো দীপ্তি, আনো শান্তি, আনো তৃপ্তি, আনো স্নিগ্ধ ভালোবাসা, আনো নিত্য ভালো। এসো পুণ্যপথ বেয়ে এসো হে কল্যাণী— শুভ সুপ্তি, শুভ জাগরণ দেহো আনি। দুঃখরাতে মাতৃবেশে জেগে থাকো নির্নিমেষে আনন্দ-উৎসবে তব শুভ্র হাসি ঢালো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

মধুঋতু নিত্য হয়ে রইল তোমার মধুর দেশে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মধুঋতু নিত্য হয়ে রইল তোমার মধুর দেশে— যাওয়া-আসার কান্নাহাসি হাওয়ায় সেথা বেড়ায় ভেসে। যায় যে জনা সেই শুধু যায়, ফুল ফোটা তো ফুরোয় না হায়— ঝরবে যে ফুল সেই কেবলই ঝরে পড়ে বেলাশেষে। যখন আমি ছিলেম কাছে তখন কত দিয়েছি গান— এখন আমার দূরে যাওয়া, এরও কি গো নাই কোনো দান। পুষ্পবনের ছায়ায় ঢেকে এই আশা তাই গেলেম রেখে— আগুন-ভরা ফাগুনকে ভোৱ কাঁদায় যেন আষাঢ় এসে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

জাতীয় সংগীত/তবু পারি নে সঁপিতে প্রাণ

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তবু পারি নে সঁপিতে প্রাণ। পলে পলে মরি সেও ভালো, সহি পদে পদে অপমান। কথার বাঁধুনি, কাঁদুনির পালা— চোখে নাহি কারো নীর। আবেদন আর নিবেদনের থালা ব’হে ব’হে নত শির। কাঁদিয়ে সোহাগ, ছি ছি একি লাজ! জগতের মাঝে ভিখারির সাজ— আপনি করি নে আপনার কাজ, পরের ’পরে অভিমান। আপনি নামাও কলঙ্কপশরা, যেয়ো না পরের দ্বার— পরের পায়ে ধ’রে মান ভিক্ষা করা সকল ভিক্ষার ছার। ‘দাও দাও’ ব’লে পরের পিছু পিছু কাঁদিয়া বেড়ালে মেলে না তো কিছু— মান পেতে চাও, প্রাণ পেতে চাও, প্রাণ আগে করো দান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

জাতীয় সংগীত/তোমারি তরে, মা, সঁপিনু এ দেহ

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তোমারি তরে, মা, সঁপিনু এ দেহ। তোমারি তরে, মা, সঁপিনু প্রাণ। তোমারি শোকে এ আঁখি বরষিবে, এ বীণা তোমারি গাহিবে গান। যদিও এ বাহু অক্ষম দুর্বল তোমারি কার্য সাধিবে। যদিও এ অসি কলঙ্কে মলিন তোমারি পাশ নাশিবে। যদিও, হে দেবী, শোণিতে আমার কিছুই তোমার হবে না তবু, ওগো মাতা পারি তা ঢালিতে একতিল তব কলঙ্ক ক্ষালিতে— নিভাতে তোমার যাতনা। যদিও, জননী, যদিও আমার এ বীণায় কিছু নাহিক বল কী জানি যদি, মা, একটি সন্তান জাগি উঠে শুনি এ বীণাতান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

শুভদিনে এসেছে দোঁহে চরণে তোমার

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুভদিনে এসেছে দোঁহে চরণে তোমার, শিখাও প্রেমের শিক্ষা, কোথা যাবে আর। যে প্রেম সুখেতে কভু মলিন না হয়, প্রভু, যে প্রেম দুঃখেতে ধরে উজ্জ্বল আকার। যে প্রেম সমান ভাবে রবে চিরদিন, নিমেষে নিমেষে যাহা হইবে নবীন। যে প্রেমের শুভ্র হাসি প্রভাতকিরণরাশি, যে প্রেমের অশ্রুজল শিশির উষার। যে প্রেমের পথ গেছে অমৃতসদনে সে প্রেম দেখায়ে দাও পথিক-দুজনে। যদি কভু শ্রান্ত হয় কোলে নিয়ো দয়াময়— যদি কভু পথ ভোলে দেখায়ো আবার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

নবজীবনের যাত্রাপথে দাও দাও এই বর

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নবজীবনের যাত্রাপথে দাও দাও এই বর হে হৃদয়েশ্বর— প্রেমের বিত্ত পূর্ণ করিয়া দিক চিত্ত; যেন এ সংসারমাঝে তব দক্ষিণমুখ রাজে। সুখরূপে পাই তব ভিক্ষা, দুখরূপে পাই তব দীক্ষা; মন হোক ক্ষুদ্রতমুক্ত, নিখিলের সাথে হোক যুক্ত, শুভকর্মে যেন নাহি মানে ক্লান্তি শান্তি শান্তি শান্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

আঁধার শাখা উজল করি

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আঁধার শাখা উজল করি হরিত-পাতা-ঘোমটা পরি বিজন বনে, মালতীবালা, আছিস কেন ফুটিয়া। শোনাতে তোরে মনের ব্যথা শুনিতে তোর মনের কথা পাগল হয়ে মধুপ কভু আসে না হেথা ছুটিয়া। মলয় তব প্রণয়-আশে ভ্রমে না হেথা আকুল শ্বাসে, পায় না চাঁদ দেখিতে তোর শরমে-মাখা মুখানি। শিয়রে তোর বসিয়া থাকি মধুর স্বরে বনের পাখি লভিয়া তোর সুরভিশ্বাস যায় না তোরে বাখানি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

ফিরে চল্, ফিরে চল্, ফিরে চল মাটির টানে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফিরে চল্, ফিরে চল্, ফিরে চল মাটির টানে— যে মাটি আঁচল পেতে চেয়ে আছে মুখের পানে। যার বুক ফেটে এই প্রাণ উঠেছে, হাসিতে যার ফুল ফুটেছে রে, ডাক দিল যে গানে গানে। দিক হতে ওই দিগন্তরে কোল রয়েছে পাতা, জন্মমরণ তারি হাতের অলখ সুতোয় গাঁথা। ওর হৃদয়-গলা জলের ধারা সাগর-পানে আত্মহারা রে প্রাণের বাণী বয়ে আনে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

একদিন যারা মেরেছিল তাঁরে গিয়ে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একদিন যারা মেরেছিল তাঁরে গিয়ে রাজার দোহাই দিয়ে এ যুগে তারাই জন্ম নিয়েছে আজি, মন্দিরে তারা এসেছে ভক্ত সাজি— ঘাতক সৈন্যে ডাকি ‘মারো মারো’ ওঠে হাঁকি। গর্জনে মিশে পূজামন্ত্রের স্বর— মানবপুত্র তীব্র ব্যথায় কহেন, হে ঈশ্বর! এ পানপাত্র নিদারুণ বিষে ভরা দূরে ফেলে দাও, দূরে ফেলে দাও ত্বরা। ২৫. ১২. ১১৩৯ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

আজি কাঁদে কারা ওই শুনা যায়, অনাথেরা কোথা করে হায়-হায়

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আজি কাঁদে কারা ওই শুনা যায়, অনাথেরা কোথা করে হায়-হায়, দিন মাস যায়, বরষ ফুরায়— ফুরাবে না হাহাকার? ওই কারা চেয়ে শূন্য নয়ানে সুখ-আশা-হীন নববর্ষ-পানে, কারা শুয়ে শুষ্ক ভূমিশয়ানে— মরুময় চারি ধার। আশ্বাসবচন সকলেরে ক’য়ে এসেছিল বর্ষ কত আশা লয়ে, কত আশা দ’লে আজ যায় চ’লে শূন্য কত পরিবার। কত অভাগার জীবনসম্বল মুছে লয়ে গেল, রেখে অশ্রুজল— নব বরষের উদয়ের পথে রেখে গেল অন্ধকার। হায়, গৃহে যার নাই অন্নকণা মানুষের প্রেম তাও কি পাবে না— আজি নাই কি রে কাতরের তরে করুণার অশ্রুধার। কেঁদে বলো, ‘নাথ, দুঃখ দূরে যাক, তাপিত ধরার হৃদয় জুড়াক— বর্ষ যদি যায় সাথে লয়ে যাক বরষের শোকভার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

ইহাদের করো আশীর্বাদ

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইহাদের করো আশীর্বাদ। ধরায় উঠিছে ফুটি ক্ষুদ্র প্রাণগুলি, নন্দনের এনেছে সংবাদ। এই হাসিমুখগুলি হাসি পাছে যায় ভুলি, পাছে ঘেরে আঁধার প্রমাদ, ইহাদের কাছে ডেকে বুকে রেখে, কোলে রেখে, তোমরা করো গো আশীর্বাদ। বলো, ‘সুখে যাও চলে ভবের তরঙ্গ দ’লে, স্বর্গ হতে আসুক বাতাস— সুখ দুঃখ কোরো হেলা, সে কেবল ঢেউখেলা নাচিবে তোদের চারিপাশ।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

কে এসে যায় ফিরে ফিরে আকুল নয়ননীরে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কে এসে যায় ফিরে ফিরে আকুল নয়ননীরে। কে বৃথা আশাভরে চাহিছে মুখ’পরে। সে যে আমার জননী রে। কাহার সুধাময়ী বাণী মিলায় অনাদর মানি। কাহার ভাষা হায় ভুলিতে সবে চায়। সে যে আমার জননী রে। ক্ষণেক স্নেহ-কোল ছাড়ি চিনিতে আর নাহি পারি। আপন সন্তান করিছে অপমান— সে যে আমার জননী রে। পুণ্য কুটিরে বিষণ্ন কে বসি সাজাইয়া অন্ন। সে স্নেহ-উপহার রুচে না মুখে আর। সে যে আমার জননী রে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

এক সূত্রে বাঁধিয়াছি সহস্রটি মন

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক সূত্রে বাঁধিয়াছি সহস্রটি মন, এক কার্যে সঁপিয়াছি সহস্র জীবন- বন্দে মাতরম্। আসুক সহস্র বাধা, বাধুক প্রলয়, আমরা সহস্র প্রাণ বহিব নির্ভয়— বন্দে মাতরম্। আমরা ডরাইব না ঝটিকা-ঝঞ্ঝায়, অযুত তরঙ্গ বক্ষে সহিব-হেলায়। টুটে তো টুটুক এই নশ্বর জীবন, তবু না ছিঁড়িবে কভু এ দৃঢ় বন্ধন— বন্দে মাতরম্। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

জাতীয় সংগীত/একবার তোরা মা বলিয়া ডাক্‌

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার তোরা মা বলিয়া ডাক, জগতজনের শ্রবণ জুড়াক, হিমাদ্রিপাষাণ কেঁদে গলে যাক— মুখ তুলে আজি চাহো রে। দাঁড়া দেখি তোরা আত্মপর ভুলি, হৃদয়ে হৃদয়ে ছুটুক বিজুলি— প্রভাতগগনে কোটি শির তুলি নির্ভয়ে আজি গাহো রে। বিশ কোটি কণ্ঠে মা বলে ডাকিলে রোমাঞ্চ উঠিবে অনন্ত নিখিলে, বিশ কোটি ছেলে মায়েরে ঘেরিলে দশ দিক সুখে হাসিবে। সেদিন প্রভাতে নূতন তপন নূতন জীবন করিবে বপন এ নহে কাহিনী, এ নহে স্বপন— আসিবে সে দিন আসিবে। আপনার মায়ে মা ব’লে ডাকিলে, আপনার ভায়ে হৃদয়ে রাখিলে, সব পাপ তাপ দূরে যায় চলে পুণ্য প্রেমের বাতাসে। সেথায় বিরাজে দেব-আশীর্বাদ— না থাকে কলহ, না থাকে বিষাদ— ঘুচে অপমান, জেগে ওঠে প্রাণ— বিমল প্রতিভা বিকাশে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

তাঁহার অসীম মঙ্গললোক হতে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁহার অসীম মঙ্গললোক হতে তোমাদের এই হৃদয়বনচ্ছায়ে অনন্তেরই পরশরসের স্রোতে দিয়েছে আজ বসন্ত জাগায়ে। তাই সুধাময় মিলনকুসুমখানি উঠল ফুটে কখন নাহি জানি— এই কুসুমের পূজার অর্ঘ্যখানি প্রণাম করো দুইজনে তাঁর পায়ে। সকল বাধা যাক তোমাদের ঘুচে, নামুক তাঁহার আশীর্বাদের ধারা। মলিন ধুলার চিহ্ন সে দিক মুছে, শান্তিপবন বহুক বন্ধহারা। নিত্যনবীন প্রেমের মাধুরীতে কল্যাণফল ফলুক দোঁহার চিতে, সুখ তোমাদের নিত্য রহুক দিতে নিখিলজনের আনন্দ বাড়ায়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

জয় জয় জয় হে জয় জ্যোতির্ময়

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জয় জয় জয় হে জয় জ্যোতির্ময়— মোহকলুষঘন কর’ ক্ষয়, কর’ ক্ষয়। অগ্নিপরশ তব কর’ কর’ দান, কর’ নির্মল মম তনুমন প্রাণ— বন্ধনশৃঙ্খল নাহি সয়, নাহি সয়। গূঢ় বিঘ্ন যত কর’ উৎপাটিত। অমৃতদ্বার তব কর’ উদ্ঘাটিত। যাচি যাত্রিদল, হে কর্ণধার, সুপ্তিসাগর কর’ কর’ পার— স্বপ্নের সঞ্চয় হোক লয়, হোক লয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

যে তরণীখানি ভাসালে দুজনে আজি, হে নবীন সংসারী

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে তরণীখানি ভাসালে দুজনে আজি, হে নবীন সংসারী, কাণ্ডারী কোরো তাঁহারে তাহার যিনি এ ভবের কাণ্ডারী। কালপারাবার যিনি চিরদিন করিছেন পার বিরামবিহীন শুভযাত্রায় আজি তিনি দিন প্রসাদপবন সঞ্চারি। নিয়ো নিয়ো চিরজীবনপাথেয়, ভরি নিয়ো তরী কল্যাণে। সুখে দুখে শোকে আঁধারে আলোকে যেয়ো অমৃতের সন্ধানে। বাঁধা নাহি থেকো আলসে আবেশে, ঝড়ে ঝঞ্ঝায় চলে যেয়ো হেসে, তোমাদের প্রেম দিয়ো দেশে দেশে বিশ্বের মাঝে বিস্তারি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

শুভদিনে শুভক্ষণে পৃথিবী আনন্দমনে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুভদিনে শুভক্ষণে পৃথিবী আনন্দমনে দুটি হৃদয়ের ফুল উপহার দিল আজ— ওই চরণের কাছে দেখো গো পড়িয়া আছে, তোমার দক্ষিণহস্তে তুলে লও রাজরাজ। এক সূত্র দিয়ে, দেব, গেঁথে রাখো এক সাথে— টুটে না ছিঁড়ে না যেন, থাকে যেন ওই হাতে। তোমার শিশির দিয়ে রাখো তারে বাঁচাইয়ে— কী জানি শুকায় পাছে সংসাররৌদ্রের মাঝ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

এসো এসো এসো প্রাণের উৎসবে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এসো এসো এসো প্রাণের উৎসবে, দক্ষিণবায়ুর বেণুরবে। পাখির প্রভাতী গানে এসো এসো পুণ্যস্নানে আলোকের অমৃতনির্ঝরে। এসো এসো তুমি উদাসীন। এসো এসো তুমি দিশাহীন। প্রিয়েরে বরিতে হবে, বরমাল্য আনো তবে— দক্ষিণা দক্ষিণ তব করে। দুঃখ আছে অপেক্ষিয়া দ্বারে— বীর, তুমি বক্ষে লহো তারে। পথের কণ্টক দলি এসো চলি, এসো চলি ঝটিকার মেঘমন্দ্রস্বরে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

সমুখে শান্তিপারাবার

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সমুখে শান্তিপারাবার— ভাসাও তরণী হে কর্ণধার। তুমি হবে চিরসাথি, লও লও হে ক্রোড় পাতি— অসীমের পথে জ্বলিবে জ্যোতি ধ্রুবতারকার। মুক্তিদাতা, তোমার ক্ষমা তোমার দয়া হবে চিরপাথেয় চিরযাত্রার। হয় যেন মর্তের বন্ধনক্ষয়, বিরাট বিশ্ব বাহু মেলি লয়— পায় অন্তরে নির্ভয় পরিচয় মহা-অজানার। ৩·১২·১৯৩৯ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

প্রেমের মিলনদিনে সত্য সাক্ষী যিনি অন্তর্যামী

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রেমের মিলনদিনে সত্য সাক্ষী যিনি অন্তর্যামী নমি তাঁরে আমি— নমি নমি। বিপদে সম্পদে সুখে দুখে সাথি যিনি দিনরাতি অন্তর্যামী নমি তাঁরে আমি— নমি নমি। তিমিররাত্রে যাঁর দৃষ্টি তারায় তারায়, যাঁর দৃষ্টি জীবনের মরণের সীমা পারায়, যাঁর দৃষ্টি দীপ্ত সূর্য-আলোকে অগ্নিশিখায়, জীব-আত্মায় অন্তর্যামী নমি তাঁরে আমি— নমি নমি। জীবনের সব কর্ম সংসারধর্ম করো নিবেদন তাঁর চরণে। যিনি নিখিলের সাক্ষী, অন্তর্যামী নমি তাঁরে আমি— নমি নমি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

সুমঙ্গলী বধূ, সঞ্চিত রেখো প্রাণে স্নেহমধু। আহা

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুমঙ্গলী বধূ, সঞ্চিত রেখো প্রাণে স্নেহমধু। আহা। সত্য রহো তুমি প্রেমে, ধ্রুব রহো ক্ষেমে— দুঃখে সুখে শান্ত রহো হাস্যমুখে। আঘাতে হও জয়ী অবিচল ধৈর্যে কল্যাণময়ী। আহা। চলো শুভবুদ্ধির বাণী শুনে, সকরুণ নম্রতাগুণে চারি দিকে শান্তি হোক বিস্তার— ক্ষমাস্নিগ্ধ করো তব সংসার। যেন উপকরণের গর্ব আত্মারে না করে খর্ব। মন যেন জানে, উপহাস করে কাল ধনমানে— তব চক্ষে যেন ধূলির সে ফাঁকি নিত্যেরে না দেয় ঢাকি। আহা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

জাতীয় সংগীত/দেশে দেশে ভ্রমি তব দুখগান গাহিয়ে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেশে দেশে ভ্রমি তব দুখগান গাহিয়ে নগরে প্রান্তরে বনে বনে। অশ্রু ঝরে দু নয়নে, পাষাণ হৃদয় কাঁদে সে কাহিনী শুনিয়ে। জ্বলিয়া উঠে অযুত প্রাণ, এক সাথে মিলি এক গান গায়— নয়নে অনল ভায়— শূন্য কাঁপে অভ্রভেদী বজ্রনির্ঘোষে! ভয়ে সবে নীরবে চাহিয়ে। ভাই বন্ধু তোমা বিনা আর মোর কেহ নাই। তুমি পিতা, তুমি মাতা, তুমি মোর সকলই। তোমারি দুঃখে কাঁদিব মাতা, তোমারি দুঃখে কাঁদাব। তোমারি তরে রেখেছি প্রাণ, তোমারি তরে ত্যজিব। সকল দুঃখ সহিব সুখে তোমারি মুখ চাহিয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

বাজে রে বাজে ডমরু বাজে হৃদয়মাঝে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাজে রে বাজে ডমরু বাজে হৃদয়মাঝে, হৃদয়মাঝে। নাচে রে নাচে চরণ নাচে প্রাণের কাছে, প্রাণের কাছে। প্রহর জাগে, প্রহরী জাগে— তারায় তারায় কাঁপন লাগে। মরমে মরমে বেদনা ফুটে— বাঁধন টুটে, বাঁধন টুটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

জাতীয় সংগীত/কেন চেয়ে আছ, গো মা, মুখপানে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেন চেয়ে আছ, গো মা, মুখপানে। এরা চাহে না তোমারে চাহে না যে, আপন মায়েরে নাহি জানে। এরা তোমায় কিছু দেবে না, দেবে না— মিথ্যা কহে শুধু কত কী ভাণে। তুমি তো দিতেছ, মা, যা আছে তোমারি— স্বর্ণশস্য তব, জাহ্নবীবারি, জ্ঞান ধর্ম কত পুণ্যকাহিনী। এরা কী দেবে তোরে! কিছু না, কিছু না। মিথ্যা কবে শুধু হীনপরানে। মনের বেদনা রাখো, মা, মনে। নয়নবারি নিবারো নয়নে। মুখ লুকাও, মা, ধুলিশয়নে— ভুলে থাকো যত হীন সন্তানে। শূন্য-পানে চেয়ে প্রহর গণি গণি দেখো কাটে কিনা দীর্ঘ রজনী। দুঃখ জানায়ে কী হবে, জননী, নির্মম চেতনাহীন পাষাণে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

ও তো আর ফিরবে না রে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তো আর ফিরবে না রে, ফিরবে না আর, ফিরবে না রে ঝড়ের মুখে ভাসল তরী— কূলে ভিড়বে না রে। কোন্ পাগলে নিল ডেকে, কাঁদন গেল পিছে রেখে— ওকে তোর বাহুর বাঁধন ঘিরবে না রে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

জাতীয় সংগীত/ভারত রে, তোর কলঙ্কিত পরমাণুরাশি

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারত রে, তোর কলঙ্কিত পরমাণুরাশি যত দিন সিন্ধু না ফেলিবে গ্রাসি তত দিন তুই কাঁদ্ রে। এই হিমগিরি স্পর্শিয়া আকাশ প্রাচীন হিন্দুর কীর্তি-ইতিহাস যত দিন তোর শিয়রে দাঁড়ায়ে অশ্রুজলে তোর বক্ষ ভাসাইবে তত দিন তুই কাঁদরে। যে দিন তোমার গিয়াছে চলিয়া সে দিন তো আর আসিবে না। যে রবি পশ্চিমে পড়েছে ঢলিয়া সে আর পুরবে উঠিবে না। এমনি সকল নীচ হীনপ্রাণ জনমেছে তোর কলঙ্কী সন্তান একটি বিন্দু অশ্রুও কেহ তোমার তরে দেয় না ঢালি। যে দিন তোমার তরে শোণিত ঢালিত সে দিন যখন গিয়াছে চলি তখন, ভারত, কাঁদ্ রে। তবে কেন বিধি এত অলঙ্কারে রেখেছ সাজায়ে ভারতকায়। ভারতের বনে পাখি গায় গান, স্বর্ণমেঘ-মাখা ভারতবিমান— হেথাকার লতা ফুলে ফুলে ভরা, স্বর্ণশস্যময়ী হেথাকার ধরা— প্রফুল্ল তটিনী বহিয়ে যায়। কেন লজ্জাহীনা অলঙ্কার পরি রোগশুষ্কমুখে হাসিরাশি ভরি রূপের গরব করিস হায়। যে দিন গিয়াছে সে তো ফিরিবে না, তবে, রে ভারত, কাঁদ্ রে। ভারত, তোর এ কলঙ্ক দেখিয়া শরমে মলিন মুখ লুকাইয়া আমরা যে কবি বিজনে কাঁদিব, বিজনে বিষাদে বীণা ঝঙ্কারিব, তাতেও যখন স্বাধীনতা নাই।...

আয় রে মোরা ফসল কাটি

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আয় রে মোরা ফসল কাটি— ফসল কাটি, ফসল কাটি। মাঠ আমাদের মিতা ওরে, আজ তারি সওগাতে মোদের ঘরের আঙন সারা বছর ভরবে দিনে রাতে। মোরা নেব তারি দান, তাই-যে কাটি ধান, তাই-যে গাহি গান— তাই-যে সুখে খাটি। বাদল এসে রচেছিল ছায়ার মায়াঘর, রোদ এসেছে সোনার জাদুকর— ও সে সোনার জাদুকর। শ্যামে সোনায় মিলন হল মোদের মাঠের মাঝে, মোদের ভালোবাসার মাটি-যে তাই সাজল এমন সাজে। মোরা নেব তারি দান, তাই-যে কাটি ধান, তাই-যে গাহি গান— তাই-যে সুখে খাটি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

দুজনে এক হয়ে যাও, মাথা রাখো একের পায়ে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুজনে এক হয়ে যাও, মাথা রাখো একের পায়ে— দুজনের হৃদয় আজি মিলুক তাঁরি মিলন-ছায়ে। তাঁহারি প্রেমের বেগে দুটি প্রাণ উঠুক জেগে— যা-কিছু শীর্ণ মলিন টুটুক তাঁরি চরণ-ঘায়ে। সমুখে সংসারপথ, বিঘ্নবাধা কোরো না ভয়— দুজনে যাও চলে যাও— গান করে যাও তাঁহারি জয়। ভকতি লও পাথেয়, শকতি হোক অজেয়— অভয়ের আশিসবাণী আসুক তাঁরি প্রসাদ-বায়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

জাতীয় সংগীত/হে ভারত, আজি তোমারি সভায় শুন এ কবির গান

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হে ভারত, আজি তোমারি সভায় শুন এ কবির গান। তোমার চরণে নবীন হরষে এনেছি পূজার দান। এনেছি মোদের দেহের শকতি, এনেছি মোদের মনের ভকতি, এনেছি মোদের ধর্মের মতি, এনেছি মোদের প্রাণ— এনেছি মোদের শ্রেষ্ঠ অর্ঘ্য তোমারে করিতে দান। কাঞ্চনথালি নাহি আমাদের, অন্ন নাহিকো জুটে। যা আছে মোদের এনেছি সাজায়ে নবীন পর্ণপুটে। সমারোহে আজ নাই প্রয়োজন— দীনের এ পূজা, দীন আয়োজন— চিরদারিদ্র্য করিব মোচন চরণের ধুলা লুটে। সুরদুর্লভ তোমার প্রসাদ লইব পর্ণপুটে। রাজা তুমি নহ, হে মহাতাপস, তুমিই প্রাণের প্রিয়। ভিক্ষাভূষণ ফেলিয়া পরিব তোমারি উত্তরীয়। দৈন্যের মাঝে আছে তব ধন, মৌনের মাঝে রয়েছে গোপন তোমার মন্ত্র অগ্নিবচন– তাই আমাদের দিয়ো। পরের সজ্জা ফেলিয়া পরিব তোমারি উত্তরীয়। দাও আমাদের অভয়মন্ত্র, অশোকমন্ত্র তব। দাও আমাদের অমৃতমন্ত্র, দাও গো জীবন নব। যে জীবন ছিল তব তপোবনে, যে জীবন ছিল তব রাজাসনে, মুক্ত দীপ্ত সে মহাজীবনে চিত্ত ভরিয়া লব। মৃত্যুতরণ শঙ্কাহরণ দাও সে মন্ত্র তব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. ম...

জ্বল্ জ্বল্ চিতা, দ্বিগুণ দ্বিগুণ

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাট্যগীতি জ্বল্ জ্বল্ চিতা, দ্বিগুণ দ্বিগুণ— পরান সঁপিবে বিধবা বালা। জ্বলুক জ্বলুক চিতার আগুন, জুড়াবে এখনি প্রাণের জ্বালা। শোন্ রে যবন, শোন্ রে তোরা, যে জ্বালা হৃদয়ে জ্বালালি সবে সাক্ষী র’লেন দেবতা তার— এর প্রতিফল ভুগিতে হবে। দেখ্ রে জগৎ, মেলিয়ে নয়ন, দেখ্ রে চন্দ্রমা, দেখ্ রে গগন, স্বর্গ হতে সব দেখো দেবগণ— জলদ্-অক্ষরে রাখো গো লিখে। স্পর্ধিত যবন, তোরাও দেখ্ রে, সতীত্ব-রতন করিতে রক্ষণ রাজপুত-সতী আজিকে কেমন সঁপিছে পরান অনলশিখে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

দুজনে যেথায় মিলিছে সেথায় তুমি থাকো, প্রভু, তুমি থাকো

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুজনে যেথায় মিলিছে সেথায় তুমি থাকো, প্রভু, তুমি থাকো। দুজনে যাহারা চলেছে তাদের তুমি রাখো, প্রভু, সাথে রাখো। যেথা দুজনের মিলিছে দৃষ্টি সেথা হোক তব সুধার বৃষ্টি— দোঁহে যারা ডাকে দোঁহারে তাদের তুমি ডাকো, প্রভু, তুমি ডাকো। দুজনে মিলিয়া গৃহের প্রদীপে জ্বালাইছে যে আলোক তাহাতে, হে দেব, হে বিশ্বদেব, তোমারি আরতি হোক। মধুর মিলনে মিলি দুটি হিয়া প্রেমের বৃন্তে উঠে বিকশিয়া, সকল অশুভ হইতে তাহারে তুমি ঢাকো, প্রভু, তুমি ঢাকো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

এসো হে গৃহদেবতা

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এসো হে গৃহদেবতা, এ ভবন পুণ্যপ্রভাবে করো পবিত্র। বিরাজো জননী, সবার জীবন ভরি— দেখাও আদর্শ মহান চরিত্র। শিখাও করিতে ক্ষমা, করো হে ক্ষমা, জাগায়ে রাখো মনে তব উপমা, দেহে ধৈর্য হৃদয়ে— সুখে দুখে সঙ্কটে অটল চিত্ত। দেখাও রজনী-দিবা বিমল বিভা, বিতরো পুরজনে শুভ্র প্রতিভা— নব শোভাকিরণে করো গৃহ সুন্দর রম্য বিচিত্র। সবে করো প্রেমদান পূরিয়া প্রাণ— ভুলায়ে রাখো, সখা, আত্মাভিমান। সব বৈর হবে দূর তোমারে বরণ করি জীবনমিত্র। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

দুটি প্রাণ এক ঠাই তুমি তো এনেছ ডাকি

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুটি প্রাণ এক ঠাই তুমি তো এনেছ ডাকি, শুভকার্যে জাগিতেছে তোমার প্রসন্ন আঁখি। এ জগতচরাচরে বেঁধেছ যে প্রেমডোরে সে প্রেমে বাঁধিয়া দোঁহে স্নেহছায়ে রাখো ঢাকি। তোমারি আদেশ লয়ে সংসারে পশিবে দোঁহে, তোমারি আশিস বলে এড়াইবে মায়ামোহে। সাধিতে তোমার কাজ দুজনে চলিবে আজ, হৃদয়ে মিলাবে হৃদি তোমারে হৃদয়ে রাখি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

কী করিব বলো, সখা, তোমার লাগিয়া

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কী করিব বলো, সখা, তোমার লাগিয়া। কী করিলে জুড়াইতে পারিব ও হিয়া। এই পেতে দিনু বুক, রাখো, সখা, রাখো মুখ— ঘুমাও তুমি গো, আমি রহিনু জাগিয়া। খুলে বলো, বলো সখা, কী দুঃখ তোমার— অশ্রুজলে মিলাইব অশ্রুজলধার! একদিন বলেছিলে মোর ভালোবাসা পাইলে পুরিবে তব হৃদয়ের আশা। কই সখা, প্রাণ মন করেছি তো সমর্পণ— দিয়েছি তো যাহা-কিছু আছিল আমার। তবু কেন শুকালো না অশ্রুজলধার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

উজ্জ্বল করো হে আজি এ আনন্দরাতি

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উজ্জ্বল করো হে আজি এ আনন্দরাতি বিকাশিয়া তোমার আনন্দমুখভাতি। সভা-মাঝে তুমি আজ বিরাজো হে রাজরাজ, আনন্দে রেখেছি তব সিংহাসন পাতি। সুন্দর করো, হে প্রভু, জীবন যৌবন তোমারি মাধুরীসুধা করি বরিষন। লহো তুমি লহো তুলে তোমারি চরণমূলে নবীন মিলনমালা প্রেমসূত্রে গাঁথি। মঙ্গল করো হে, আজি মঙ্গলবন্ধন তব শুভ আশীর্বাদ করি বিতরণ। বরিষ হে ধ্রুবতারা, কল্যাণকিরণধারা— দুর্দিনে সুদিনে তুমি থাকো চিরসাথি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

বাঁধন কেন ভূষণ-বেশে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঁধন কেন ভূষণ-বেশে তোরে ভোলায়, হায় অভাগী। মরণ কেন মোহন হেসে তোরে দোলায়, হায় অভাগী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

জয় তব হোক জয়

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জয় তব হোক জয়। স্বদেশের গলে দাও তুমি তুলে যশোমালা অক্ষয়। বহুদিন হতে ভারতের বাণী আছিল নীরবে অপমান মানি, তুমি তারে আজি জাগায়ে তুলিয়া রটালে বিশ্বময়। জ্ঞানমন্দিরে জ্বালায়েছ তুমি যে নব আলোকশিখা তোমার সকল ভ্রাতার ললাটে দিল উজ্জ্বল টিকা। অবারিতগতি তব জয়রথ ফিরে যেন আজি সকল জগৎ, দুঃখ দীনতা যা আছে মোদের তোমারে বাঁধি না রয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

দয়া করো, দয়া করো প্রভু, ফিরে ফিরে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দয়া করো, দয়া করো প্রভু, ফিরে ফিরে শত শত অপরাধে অপরাধিনীরে। অন্তরে রয়েছ জাগি, তোমার প্রসাদ-লাগি দুর্বল পরান বাধা ঘটায় বাহিরে। শঙ্কা আসে, লজ্জা আসে, মরি অবসাদে। দৈন্যরাশি ফেলে গ্রাসি, ঘেরে পরমাদে। ক্লান্ত দেহে তন্দ্রা লাগে, ধুলায় শয়ন মাগে— অপথে জাগিয়া উঠি ভাসি আঁখিনীরে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

গুরুপদে মন করো অর্পণ

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গুরুপদে মন করো অর্পণ, ঢালো ধন তাঁর ঝুলিতে। লঘু হবে ভার, রবে নাকো আর ভবের দোলায় দুলিতে। হিসাবের খাতা নাড়ো ব’সে ব’সে, মহাজনে নেয় সুদ ক’ষে ক’ষে— খাঁটি যেই জন সেই মহাজনে কেন থাক হায় ভুলিতে। দিন চলে যায় ট্যাঁকে টাকা হায় কেবলই খুলিতে তুলিতে॥ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

সুখে থাকো আর সুখী করো সবে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুখে থাকো আর সুখী করো সবে, তোমাদের প্রেম ধন্য হোক ভবে। মঙ্গলের পথে থেকো নিরন্তর, মহত্ত্বের ’পরে রাখিয়ো নির্ভর— ধ্রুবসত্য তাঁরে ধ্রুবতারা কোরো সংশয়নিশীথে সংসার-অর্ণবে। চিরসুধাময় প্রেমের মিলন মধুর করিয়া রাখুক জীবন, দুজনার বলে সবল দুজন জীবনের কাজ সাধিয়ো নীরবে। কত দুঃখ আছে,কত অশ্রুজল— প্রেমবলে তবু থাকিয়ো অটল। তাঁহারি ইচ্ছা হউক সফল বিপদে সম্পদে শোকে উৎসবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

নীরব রজনী দেখ মগ্ন জোছনায়

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নীরব রজনী দেখো মগ্ন জোছনায়। ধীরে ধীরে, অতি ধীরে, অতি ধীরে গাও গো। ঘুমঘোরময় গান বিভাবরী গায়— রজনীর কণ্ঠ-সাথে সুকণ্ঠ মিলাও গো। নিশার কুহকবলে নীরবতাসিন্ধুতলে মগ্ন হয়ে ঘুমাইছে বিশ্বচরাচর— প্রশান্ত সাগরে হেন তরঙ্গ না তুলে যেন অধীর উচ্ছ্বাসময় সঙ্গীতের স্বর। তটিনী কী শান্ত আছে— ঘুমাইয়া পড়িয়াছে বাতাসের মৃদুহস্ত-পরশে এমনি ভুলে যদি ঘুমে ঘুমে তটের চরণ চুমে সে চুম্বনধ্বনি শুনে চমকে আপনি। তাই বলি, অতি ধীরে, অতি ধীরে গাও গো— রজনীর কণ্ঠ-সাথে সুকণ্ঠ মিলাও গো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে! মেলে দিলেম গানের সুরের এই ডানা মনে মনে। তেপান্তরের পাথার পেরোই রূপকথার, পথ ভুলে যাই দূর পারে সেই চুপ্-কথার— পারুলবনের চম্পারে মোর হয় জানা মনে মনে। সূর্য যখন অস্তে পড়ে ঢুলি মেঘে মেঘে আকাশ-কুসুম তুলি। সাত সাগরের ফেনায় ফেনায় মিশে আমি যাই ভেসে দূর দিশে— পরীর দেশে বন্ধ দুয়ার দিই হানা মনে মনে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

জাতীয় সংগীত/শোনো শোনো আমাদের ব্যথা

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শোনো শোনো আমাদের ব্যথা দেবদেব, প্রভু, দয়াময়— আমাদের ঝরিছে নয়ন, আমাদের ফাটিছে হৃদয়। চিরদিন আঁধার না রয়- রবি উঠে, নিশি দূর হয়— এ দেশের মাথার উপরে এ নিশীথ হবে না কি ক্ষয়। চিরদিন ঝরিবে নয়ন? চিরদিন ফাটিবে হৃদয়? মরমে লুকানো কত দুখ, ঢাকিয়া রয়েছি ম্লান মুখ— কাঁদিবার নাই অবসর— কথা নাই, শুধু ফাটে বুক। সঙ্কোচে ম্রিয়মাণ প্রাণ, দশ দিশি বিভীষিকাময়— হেন হীন দীনহীন দেশে বুঝি তব হবে না আলয়। চিরদিন ঝরিবে নয়ন, চিরদিন ফাটিবে হৃদয়। কোনো কালে তুলিব কি মাথা। জাগিবে কি অচেতন প্রাণ। ভারতের প্রভাতগগনে উঠিবে কি তব জয়গান। আশ্বাসবচন কোনো ঠাঁই কোনোদিন শুনিতে না পাই— শুনিতে তোমার বাণী তাই মোরা সবে রয়েছি চাহিয়া। বলো, প্রভু, মুছিবে এ আঁখি, চিরদিন ফাটিবে না হিয়া। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

তুমি হে প্রেমের রবি আলো করি চরাচর

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তুমি হে প্রেমের রবি আলো করি চরাচর যত করো বিতরণ অক্ষয় তোমার কর। দুজনের আঁখি-’পরে তুমি থাকো আলো ক’রে— তা হলে আঁধারে আর বলো হে কিসের ডর। তোমারে হারায় যদি দুজনে হারাবে দোঁহে— দুজনে কাঁদিবে বসি অন্ধ হয়ে ঘন মোহে, এমনি আঁধার হবে পাশাপাশি বসে রবে তবুও দোঁহার মুখ চিনিবে না পরস্পর। দেখো, প্রভু, চিরদিন আঁখি-’পরে থেকো জেগে— তোমারে ঢাকে না যেন সংসারের ঘন মেঘে। তোমারি আলোকে বসি উজল-আনন-শশী উভয়ে উভয়ে হেরে পুলকিতকলেবর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

তোলন-নামন পিছন-সামন

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তোলন-নামন পিছন-সামন। বাঁয়ে ডাইনে চাই নে, চাই নে। বোসন-ওঠন ছড়ান-গুটন। উল্টা-পাল্টা ঘূর্ণি চালটা— বাস্! বাস্! বাস্! রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

বলেছিল ‘ধরা দেব না’

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিল ‘ধরা দেব না’, শুনেছিল সেই বড়াই। বীরপুরুষের সয় নি গুমোর, বাধিয়ে দিয়েছে লড়াই। তার পরে শেষে কী যে হল কার, কোন্ দশা হল জয়পতাকার।— কেউ বলে জিৎ, কেউ বলে হার, আমরা গুজব ছড়াই॥ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

বিশ্ববিদ্যতীর্থপ্রাঙ্গণ কর’ মহোজ্জ্বল আজ হে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যতীর্থপ্রাঙ্গণ কর’ মহোজ্জ্বল আজ হে। বরপুত্রসংঘ বিরাজ’ হে। ঘন তিমিররাত্রির চিরপ্রতীক্ষা পূর্ণ কর’, লহ’ জ্যোতিদীক্ষা। যাত্রিদল সব সাজ’ হে। দিব্যবীণা বাজ’ হে। এস’ কর্মী, এস’ জ্ঞানী, এস’ জনকল্যাণধ্যানী, এস’ তাপসরাজ হে! এস’ হে ধীশক্তিসম্পদ মুক্তবদ্ধ সমাজ হে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

ধীরে ধীরে প্রাণে আমার এসো হে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ধীরে ধীরে প্রাণে আমার এসো হে, মধুর হাসিয়ে ভালোবেসো হে। হৃদয়কাননে ফুল ফুটাও। আধো নয়নে, সখী, চাও চাও— পরান কাঁদিয়ে দিয়ে হাসিখানি হেসো হে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

জগতের পুরোহিত তুমি— তোমার এ জগৎ-মাঝারে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জগতের পুরোহিত তুমি— তোমার এ জগৎ-মাঝারে এক চায় একেরে পাইতে, দুই চায় এক হইবারে। ফুলে ফুলে করে কোলাকুলি, গলাগলি অরুণে উষায়। মেঘ দেখে মেঘ ছুটে আসে, তারাটি তারার পানে চায়। পূর্ণ হল তোমার নিয়ম, প্রভু হে, তোমারি হল জয়— তোমার কৃপায় এক হল আজি এই যুগলহৃদয়। যে হাতে দিয়েছ তুমি বেঁধে শশধরে ধরার প্রণয়ে সেই হাতে বাঁধিয়াছ তুমি এই দুটি হৃদয়ে হৃদয়ে। জগত গাহিছে জয়-জয়, উঠেছে হরষকোলাহল, প্রেমের বাতাস বহিতেছে— ছুটিতেছে প্রেমপরিমল। পাখিরা গাও গো গান, কহো বায়ু চরাচরময়— মহেশের প্রেমের জগতে প্রেমের হইল আজি জয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

একি অন্ধকার এ ভারতভূমি!

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একি অন্ধকার এ ভারতভূমি! বুঝি, পিতা, তারে ছেড়ে গেছ তুমি। প্রতি পলে পলে ডুবে রসাতলে— কে তারে উদ্ধার করিবে। চারি দিকে চাই, নাহি হেরি গতি। নাহি যে আশ্রয়, অসহায় অতি। আজি এ আঁধারে বিপদপাথারে কাহার চরণ ধরিবে। তুমি চাও পিতা, ঘুচাও এ দুখ। অভাগা দেশেরে হোয়ো না বিমুখ— নহিলে আঁধারে বিপদপাথারে কাহার চরণ ধরিবে। দেখো চেয়ে তব সহস্র সন্তান লাজে নতশির, ভয়ে কম্পমান, কাঁদিছে সহিছে শত অপমান— লাজ মান আর থাকে না। হীনতা লয়েছে মাথায় তুলিয়া, তোমারেও তাই গিয়াছে ভুলিয়া, দয়াময় ব’লে আকুলহৃদয়ে তোমারেও তারা ডাকে না। তুমি চাও পিতা, তুমি চাও চাও। এ হীনতা-পাপ এ দুঃখ ঘুচাও। ললাটের কলঙ্ক মুছাও মুছাও— নহিলে এ দেশ থাকে না। তুমি যবে ছিলে এ পুণ্যভবনে কী সৌরভসুধা বহিত পবনে, কী আনন্দগান উঠিত গগনে, কী প্রতিভাজ্যোতি ঝলিত। ভারত-অরণ্যে ঋষিদের গান অনন্তসদনে করিত প্রয়াণ— তোমারে চাহিয়া পুণ্যপথ দিয়া সকলে মিলিয়া চলিত। আজি কী হয়েছে! চাও পিতা, চাও। এ তাপ এ পাপ এ দুখ ঘুচাও। মোরা তো রয়েছি তোমারি সন্তান যদিও হয়েছি পতিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public...

ওই জানালার কাছে বসে আছে করতলে রাখি মাথা

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ওই জানালার কাছে বসে আছে করতলে রাখি মাথা— তার কোলে ফুল পড়ে রয়েছে, সে যে ভুলে গেছে মালা গাঁথা। শুধু ঝুরু ঝুরু বায়ু বহে যায় তার কানে কানে কী যে কহে যায়— তাই আধো শুয়ে আধো বসিয়ে ভাবিতেছে কত কথা। চোখের উপরে মেঘ ভেসে যায়, উড়ে উড়ে যায় পাখি— সারা দিন ধ’রে বকুলের ফুল ঝ’রে পড়ে থাকি থাকি। মধুর আলস, মধুর আবেশ, মধুর মুখের হাসিটি— মধুর স্বপনে প্রাণের মাঝারে বাজিছে মধুর বাঁশিটি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

কিছুই তো হল না

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিছুই তো হল না। সেই সব— সেই সব— সেই হাহাকাররব, সেই অশ্রুবারিধারা, হৃদয়বেদনা। কিছুতে মনের মাঝে শাস্তি নাহি পাই, কিছুই না পাইলাম যাহা কিছু চাই। ভালো তো গো বাসিলাম, ভালোবাসা পাইলাম, এখনো তো ভালোবাসি— তবুও কী নাই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

সুরের জালে কে জড়ালে আমার মন

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুরের জালে কে জড়ালে আমার মন, আমি ছাড়াতে পারি নে সে বন্ধন। আমার অজানা গহনে টানিয়া নিয়ে যে যায়, বরন-বরন স্বপনছায়ায় করিল মগন। জানি না কোথায় চরণ ফেলি, মরীচিকায় নয়ন মেলি— কী ভুলে ভুলালো দূরের বাঁশি! মন উদাসী আপনারে হারালো, ধ্বনিতে আবৃত চেতন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

জাতীয় সংগীত/অয়ি বিষাদিনী বীণা

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অয়ি বিষাদিনী বীণা, আয় সখী, গা লো সেই-সব পুরানো গান— বহুদিনকার লুকানো স্বপনে ভরিয়া দে-না লো আঁধার প্রাণ। হা রে হতবিধি, মনে পড়ে তোর সেই একদিন ছিল আমি আর্যলক্ষ্মী এই হিমালয়ে এই বিনোদিনী বীণা করে লয়ে যে গান গেয়েছি সে গান শুনিয়া জগত চমকি উঠিয়াছিল। আমি অর্জুনেরে— আমি যুধিষ্ঠিরে করিয়াছি স্তনদান। এই কোলে বসি বাল্মীকি করেছে পুণ্য রামায়ণ গান। আজ অভাগিনী— আজ অনাথিনী ভয়ে ভয়ে ভয়ে লুকায়ে লুকায়ে নীরবে নীরবে কাঁদি, পাছে জননীর রোদন শুনিয়া একটি সন্তান উঠে রে জাগিয়া! কাঁদিতেও কেহ দেয় না বিধি। হায় রে বিধাতা, জানে না তাহারা সে দিন গিয়াছে চলি যে দিন মুছিতে বিন্দু-অশ্রুধার কত-না করিত সন্তান আমার— কত-না শোণিত দিত রে ঢালি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

তুমি আছ কোন্ পাড়া

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তুমি আছ কোন্ পাড়া? তোমার পাই নে যে সাড়া। পথের মধ্যে হাঁ ক’রে যে রইলে হে খাড়া। রোদে প্রাণ যায় দুপুর বেলা, ধরেছে উদরে জ্বালা— এর কাছে কি হৃদয়জ্বালা। তোমার সকল সৃষ্টিছাড়া। রাঙা অধর, নয়ন কালো ভরা পেটেই লাগে ভালো— এখন পেটের মধ্যে নাড়ীগুলো দিয়েছে তাড়া। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

কাজ ভোলাবার কে গো তোরা

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাজ ভোলাবার কে গো তোরা! রঙিন সাজে কে যে পাঠায় কোন্ সে ভুবন-মনো-চোরা! কঠিন পাথর সারে সারে দেয় পাহারা গুহার দ্বারে, হাসির ধারায় ডুবিয়ে তারে ঝরাও বসে সুধা-ঝোরা! স্বপন-তরীর তোরা নেয়ে লাগল পালে নেশার হাওয়া, পাগ্লা পরান চলে গেয়ে। কোন্ উদাসীর উপবনে বাজল বাঁশি ক্ষণে ক্ষণে, ভুলিয়ে দিল ঈশান কোণে ঝঞ্ঝা ঘনায় ঘনঘোরা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

দুই হৃদয়ের নদী একত্র মিলিল যদি

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই হৃদয়ের নদী একত্র মিলিল যদি বলো, দেব, কার পানে আগ্রহে ছুটিয়া যায়। সম্মুখে রয়েছে তার তুমি প্রেমপারাবার, তোমারি অনন্তহৃদে দুটিতে মিলাতে চায়। সেই এক আশা করি দুইজনে মিলিয়াছে, সেই এক লক্ষ্য ধরি দুইজনে চলিয়াছে। পথে বাধা শত শত, পাষাণ পৰ্বত কত, দুই বলে এক হয়ে ভাঙিয়া ফেলিবে তায়। অবশেষে জীবনের মহাযাত্রা ফুরাইলে তোমারি স্নেহের কোলে যেন গো আশ্রয় মিলে দুটি হৃদয়ের সুখ দুটি হৃদয়ের দুখ, দুটি হৃদয়ের আশা মিলায় তোমার পায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

জয় জয় তাসবংশ-অবতংস

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জয় জয় তাসবংশ-অবতংস! ক্রীড়াসরসীনীরে রাজহংস॥ তাম্রকূটঘনধূমবিলাসী! তন্দ্রাতীরনিবাসী! সব-অবকাশ-ধবংস! যমরাজেরই অংশ॥ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

কাছে তার যাই যদি

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাছে তার যাই যদি কত যেন পায় নিধি, তবু হরষের হাসি ফুটে-ফুটে ফুটে না। কখনো বা মৃদু হেসে আদর করিতে এসে সহসা শরমে বাধে, মন উঠে উঠে না। রোষের ছলনা করি দূরে যাই, চাই ফিরি— চরণ-বারণ-তরে উঠে-উঠে উঠে না। কাতর নিশ্বাস ফেলি আকুল নয়ন মেলি চাহি থাকে, লাজবাঁধ তবু টুটে টুটে না। যখন ঘুমায়ে থাকি মুখপানে মেলি আঁখি চাহি থাকে, দেখি দেখি সাধ যেন মিটে না। সহসা উঠিলে জাগি তখন কিসের লাগি শরমেতে ম’রে গিয়ে কথা যেন ফুটে না। লাজময়ী, তোর চেয়ে দেখি নি লাজুক মেয়ে, প্রেমবরিষার স্রোতে লাজ তবু টুটে না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

শেষ ফলনের ফসল এবার

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ ফলনের ফসল এবার কেটে লও, বাঁধো আঁটি। বাকি যা নয় গো নেবার মাটিতে হোক তা মাটি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

সাধ ক’রে কেন, সখা, ঘটাবে গেরো

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাধ ক’রে কেন, সখা, ঘটাবে গেরো। এই বেলা মানে-মানে ফেরো ফেরো। পলক যে নাই আঁখির পাতায়, তোমার মনটা কি খরচের খাতায়,— হাসি ফাঁসি দিয়ে প্রাণে বেঁধেছে গেরো। সখা, ফেরো ফেরো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

জাতীয় সংগীত/ঢাকো রে মুখ, চন্দ্রমা, জলদে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকো রে মুখ, চন্দ্রমা, জলদে। বিহগেরা থামো থামো। আঁধারে কাঁদো গো তুমি ধরা। গাবে যদি গাও রে সবে গাও রে শত অশনি-মহানিনাদে— ভীষণ প্রলয়সঙ্গীতে জাগাও জাগাও, জাগাও রে এ ভারতে। বনবিহঙ্গ, তুমি ও সুখগীতি গেয়ো না। প্রমোদমদিরা ঢালি প্রাণে প্রাণে আনন্দরাগিণী আজি কেন ৰাজিছে এত হরষে— ছিঁড়ে ফেল্ বীণা আজি বিষাদের দিনে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

শোন্ রে শোন্ অবোধ মন

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শোন্ রে শোন্ অবোধ মন,— শোন্ সাধুর উক্তি, কিসে মুক্তি সেই সুযুক্তি কর্ গ্রহণ। ভবের শুক্তি ভেঙে মুক্তিমুক্তা কর্ অন্বেষণ, ওরে ও ভোলা মন॥ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

এই তো ভরা হল ফুলে ফুলে ফুলের ডালা

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই তো ভরা হল ফুলে ফুলে ফুলের ডালা। ভরা হল-কে নিবি কে নিবি গো, গাঁথিবি বরণমালা। চম্পা চামেলি সেঁউতি বেলি দেখে যা সাজি আজি রেখেছি মেলি— নবমালতীগন্ধ-ঢালা। বনের মাধুরী হরণ করো তরুণ আপন দেহে। নববধু, মিলনশুভলগন-রাত্রে লও গো বাসরগেহে— উপবনের সৌরভভাষা, বসতৃষিত মধুপের আশা। রাত্রিজাগর রজনীগন্ধা— করবী রূপসীর অলকানন্দা— গোলাপে গোলাপে মিলিয়া মিলিয়া রচিবে মিলনের পালা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

কথা কোস্ নে লো রাই

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কথা কোস্ নে লো রাই, শ্যামের বড়াই বড়ো বেড়েছে। কে জানে ও কেমন ক’রে মন কেড়েছে। শুধু ধীরে বাজায় বাঁশি, শুধু হাসে মধুর হাসি— গোপিনীদের হৃদয় নিয়ে তবে ছেড়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

কে তুমি গো খুলিয়াছ স্বর্গের দুয়ার

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কে তুমি গো খুলিয়াছ স্বর্গের দুয়ার ঢালিতেছ এত সুখ, ভেঙে গেল— গেল বুক— যেন এত সুখ হৃদে ধরে না গো আর। তোমার চরণে দিনু প্রেম-উপহার— না যদি চাও গো দিতে প্রতিদান তার নাই বা দিলে তা মোরে, থাকো হৃদি আলো করে, হৃদয়ে থাকুক জেগে সৌন্দর্য তোমার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

দেখো ওই কে এসেছে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেখো ওই কে এসেছে।— চাও সখী, চাও। আকুল পরান ওর আঁখিহিল্লোলে নাচাও।— সখী, চাও। তৃষিত নয়ানে চাহে মুখ-পানে, হাসিসুধা-দানে বাঁচাও।— সখী, চাও। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

তরুতলে ছিন্নবৃন্ত মালতীর ফুল

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তরুতলে ছিন্নবৃন্ত মালতী ফুল— মুদিয়া আসিছে আঁখি তার, চাহিয়া দেখিল চারি ধার। শুষ্ক তৃণরাশি-মাঝে একেলা পড়িয়া, চারি দিকে কেহ নাই আর— নিরদয় অসীম সংসার। কে আছে গো দিবে তার তৃষিত অধরে একবিন্দু শিশিরের কণা— কেহ না, কেহ না। মধুকর কাছে এসে বলে, ‘মধু কই। মধু চাই, চাই।’ ধীরে ধীরে নিশ্বাস ফেলিয়া ফুল বলে, কিছু নাই, নাই। ‘ফুলবালা, পরিমল দাও’ বায়ু আসি কহিতেছে কাছে। মলিন বদন ফিরাইয়া ফুল বলে, ‘আর কী বা আছে।’ মধ্যাহ্নকিরণ চারি দিকে খরদৃষ্টে চেয়ে অনিমিখে— ফুলটির মৃদু প্রাণ হায়, ধীরে ধীরে শুকাইয়া যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

চিঁড়েতন হর্তন ইস্কাবন

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিঁড়েতন হর্তন ইস্কাবন অতি সনাতন ছন্দে কর্তেছে নর্তন। কেউ বা ওঠে কেউ পড়ে, কেউ বা একটু নাহি নড়ে, কেউ শুয়ে শুয়ে ভুঁয়ে করে কালকর্তন॥ নাহি কহে কথা কিছু— একটু না হাসে, সামনে যে আসে চলে তারি পিছু পিছু। বাঁধা তার পুরাতন চালটা, নাই কোনো উল্টা-পাল্টা— নাই পরিবর্তন॥ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্র মাস

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্র মাস— তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ॥ এ সংসারের নিত্য খেলায় প্রতিদিনের প্রাণের মেলায় বাটে ঘাটে হাজার লোকের হাস্য-পরিহাস— মাঝখানে তার তোমার চোখে আমার সর্বনাশ॥ আমের বনে দোলা লাগে, মুকুল পড়ে ঝ’রে— চিরকালের চেনা গন্ধ হাওয়ায় ওঠে ভ’রে। মঞ্জরিত শাখায় শাখায়, মউমাছিদের পাখায় পাখায়, ক্ষণে ক্ষণে বসন্তদিন ফেলেছে নিশ্বাস— মাঝখানে তার তোমার চোখে আমার সর্বনাশ॥ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

কত দিন একসাথে ছিনু ঘুমঘোরে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত দিন একসাথে ছিনু ঘুমঘোরে, তবু জানিতাম নাকো ভালোবাসি তোরে। মনে আছে ছেলেবেলা কত যে খেলেছি খেলা, কুসুম তুলেছি কত দুইটি আঁচল ভ’রে। ছিনু সুখে যতদিন দুজনে বিরহহীন তথন কি জানিতাম ভালোবাসি তোরে! অবশেষে এ কপাল ভাঙিল যখন, ছেলেবেলাকার যত ফুরালো স্বপন, লইয়া দলিত মন হই প্রবাসী— তখন জানিনু, সখী, কত ভালোবাসি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

যে ভালোবাসুক সে ভালোবাসুক

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে ভালোবাসুক সে ভালোবাসুক সজনি লো, আমরা কে! দীনহীন এই হৃদয় মোদের কাছেও কি কেহ ডাকে। তবে কেন বলো ভেবে মরি মোরা কে কাহারে ভালোবাসে! আমাদের কিবা আসে যায় বলো কেবা কাঁদে কেবা হাসে! আমাদের মন কেহই চাহে না, তবে মনখানি লুকানো থাক— প্রাণের ভিতরে ঢাকিয়া রাখ্। যদি, সখী, কেহ ভুলে মনখানি লয় তুলে, উলটি-পালটি ক্ষণেক ধরিয়া পরখ করিয়া দেখিতে চায়, তখনি ধূলিতে ছুঁড়িয়া ফেলিবে নিদারুণ উপেখায়। কাজ কী লো, মন লুকানো থাক, প্রাণের ভিতরে ঢাকিয়া রাখ্— হাসিয়া খেলিয়া ভাবনা ভুলিয়া হরষে প্রমোদে মাতিয়া থাক্। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

আমরা চিত্র অতি বিচিত্র

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমরা চিত্র অতি বিচিত্র, অতি বিশুদ্ধ, অতি পবিত্র আমাদের যুদ্ধ নহে কেহ ক্রুদ্ধ। ওই দেখো গোলাম অতিশয় মোলাম। নাহি কোনো অস্ত্র খাকি-রাঙা বস্ত্র। নাহি লোভ, নাহি ক্ষোভ। নাহি লাফ, নাহি ঝাঁপ। যথারীতি জানি, সেই মতো মানি। কে তোমার শত্রু, কে তোমার মিত্র। কে তোমার টক্কা, কে তোমার ফক্কা« রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

প্রিয়ে, তোমার ঢেঁকি হলে যেতেম বেঁচে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রিয়ে, তোমার ঢেঁকি হলে যেতেম বেঁচে রাঙা চরণতলে নেচে নেচে। ঢিপ্ঢিপিয়ে যেতেম মারা, মাথা খুঁড়ে হতেম সারা— কানের কাছে কচ্কচিয়ে মানটি তোমার নিতেম যেচে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

হাঁচ্ছোঃ!— ভয় কী দেখাচ্ছ

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হাঁচ্ছোঃ!— ভয় কী দেখাচ্ছ। ধরি টিপে টুঁটি, মুখে মারি মুঠি— বলো দেখি কী আরাম পাচ্ছ। হাঁচ্ছো। হাঁচ্ছো॥ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

বাহির হলেম আমি আপন ভিতর হতে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাহির হলেম আমি আপন ভিতর হতে, নীল আকাশে পাড়ি দেব খ্যাপা হাওয়ার স্রোতে। আমের মুকুল ফুটে ফুটে যখন পড়ে ঝ’রে ঝ’রে মাটির আঁচল ভ’রে ভ’রে— ঝরাই আমার মনের কথা ভরা ফাগুন-চোতে। কোথা তুই প্রাণের দোসর বেড়াস ঘুরি ঘুরি— বনবীথির আলোছায়ায় করিস লুকোচুরি। আমার একলা বাঁশি পাগলামি তার পাঠায় দিগন্তরে তোমার গানের তরে— কবে বসন্তেরে জাগিয়ে দেব আমাতে আর তোতে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

প্রমোদে ঢালিয়া দিনু মন

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমোদে ঢালিয়া দিনু মন, তবু প্রাণ কেন কাঁদে রে। চারি দিকে হাসিরাশি, তবু প্রাণ কেন কাঁদে রে। আন্ সখী, বীণা আন্, প্রাণ খুলে কর্ গান, নাচ্ সবে মিলে ঘিরি ঘিরি ঘিরিয়ে— তবু প্রাণ কেন কাঁদে রে। বীণা তবে রেখে দে, গান আর গাস নে— কেমনে যাবে বেদনা। কাননে কাটাই রাতি, তুলি ফুল মালা গাঁথি, জোছনা কেমন ফুটেছে— তবু প্রাণ কেন কাঁদে রে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

হৃদয়ে রাখো গো দেবী, চরণ তোমার

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হৃদয়ে রাখো গো দেবী, চরণ তোমার। এসো মা করুণারানী, ও বিধুবদনখানি হেরি হেরি আঁখি ভরি হেরিব আবার। এসো আদরিনী বাণী, সমুখে আমার। মৃদু মৃদু হাসি হাসি বিলাও অমৃতরাশি, আলোয় করেছ আলো, জ্যোতিপ্রতিমা— তুমি গো লাবণ্যলতা, মূর্তি-মধুরিমা। বসন্তের বনবালা অতুল রূপের ডালা, মায়ার মোহিনী মেয়ে ভাবের আধার— ঘুচাও মনের মোর সকল আঁধার। অদর্শন হলে তুমি ত্যেজি লোকালয়ভুমি অভাগা বেড়াবে কেঁদে গহনে গহনে। হেরে মোরে তরুলতা বিষাদে কবে না কথা, বিষণ্ন কুসুমকুল বনফুলবনে। ‘হা দেবী’ ‘হা দেবী’ বলি গুঞ্জরি কাঁদিবে অলি, ঝরিবে ফুলের চোখে শিশির-আসার— হেরিব জগত শুধু আঁধার— আঁধার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

তুই রে বসন্তসমীরণ

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তুই রে বসন্তসমীরণ। তোর নহে সুখের জীবন। কিবা দিবা কিবা রাতি পরিমলমদে মাতি কাননে করিস বিচরণ। নদীরে জাগায়ে দিস লতারে রাগায়ে দিস চুপিচুপি করিয়া চুম্বন তোর নহে সুখের জীবন। শোন্ বলি বসন্তের বায়, হৃদয়ের লতাকুঞ্জে আয়। নিভৃত নিকুঞ্জ ছায় হেলিয়া ফুলের গায় শুনিয়া পাখির মৃদু গান লতার-হৃদয়ে-হারা সুখে-অচেতন-পারা ঘুমায়ে কাটায়ে দিবি প্রাণ। তাই বলি বসন্তের বায়, হৃদয়ের লতাকুঞ্জে আয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

শুনি ওই রুনুরুনু পায়ে পায়ে নূপুরধ্বনি

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুনি ওই রুনুঝুনু পায়ে পায়ে নূপুরধ্বনি চকিত পথে বনে বনে। নির্ঝর ঝরো ঝরো ঝরিছে দূরে, জলতলে বাজে শিলা ঠুনু-ঠুনু ঠুনু-ঠুনু। ঝিল্লিঝঙ্কৃত বেণুবনছায়া পল্লবমর্মরে কাঁপে, পাপিয়া ডাকে, পুলকিত শিরীষশাখে দোল দিয়ে যায় দক্ষিণবায় পুন পুন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

ভালো যদি বাস, সখী, কী দিব গো আর

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভালো যদি বাস, সখী, কী দিব গো আর— কবির হৃদয় এই দিব উপহার। এত ভালোবাসা, সখী, কোন্ হৃদে বলো দেখি— কোন্ হৃদে ফুটে এত ভাবের কুসুমভার। তা হলে এ হৃদিধামে তোমারি তোমারি নামে বাজিবে মধুর স্বরে মরমবীণার তার। যা-কিছু গাহিব গান ধ্বনিবে তোমারি নাম— কী আছে কবির বলো, কী তোমারে দিব আর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

বুঝেছি বুঝেছি সখা, ভেঙেছে প্রণয়

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বুঝেছি বুঝেছি সখা, ভেঙেছে প্রণয়! ও মিছে আদর তবে না করিলে নয়? ও শুধু বাড়ায় ব্যথা— সে-সব পুরানো কথা মনে করে দেয় শুধু, ভাঙে এ হৃদয়। প্রতি হাসি প্রতি কথা প্রতি ব্যবহার আমি যত বুঝি তত কে বুঝিবে আর। প্রেম যদি ভুলে থাক সত্য ক’রে বলো-নাকো— করিব না মুহূর্তের তরে তিরস্কার। আমি তো বলেই ছিনু, ক্ষুদ্র আমি নারী তোমার ও প্রণয়ের নহি অধিকারী। আর-কারে ভালোবেসে সুখী যদি হও শেষে তাই ভালোবেসো নাথ, না করি বারণ। মনে ক’রে মোর কথা মিছে পেয়ো নাকো ব্যথা, পুরানো প্রেমের কথা কোরো না স্মরণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

চলো নিয়ম-মতে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চলো নিয়ম-মতে। দূরে তাকিয়ো নাকো, ঘাড় বাঁকিয়ো নাকো! চলো সমান পথে। ‘হেরো অরণ্য ওই, হোথা শৃঙ্খলা কই— পাগল ঝর্নাগুলো দক্ষিণপর্বতে।’ ও দিক চেয়ো না, চেয়ো না— যেয়ো না, যেয়ো না। চলো সমান পথে॥ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

আমরা দূর আকাশের নেশায় মাতাল ঘরভোলা সব যত

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমরা দূর আকাশের নেশায় মাতাল ঘরভোলা সব যত— বকুলবনের গন্ধে আকুল মউমাছিদের মতো। সূর্য ওঠার আগে মন আমাদের জাগে— বাতাস থেকে ভোৱ-বেলাকার সুর ধরি সব কত। কে দেয় রে হাতছানি নীল পাহাড়ের মেঘে মেঘে, আভাস বুঝি জানি। পথ যে চলে বেঁকে বেঁকে অলখ-পানে ডেকে ডেকে ধরা যারে যায় না তারি ব্যাকুল খোঁজেই রত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

না সখা, মনের ব্যথা কোরো না গোপন

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর না সখা, মনের ব্যথা কোরো না গোপন। যবে অশ্রুজল হায় উচ্ছ্বসি উঠিতে চায় রুধিয়া রেখো না তাহা আমারি কারণ। চিনি, সখা, চিনি তব ও দারুণ হাসি— ওর চেয়ে কত ভালো অশ্রুজলরাশি। মাথা খাও— অভাগীরে কোরো না বঞ্চনা, ছদ্মবেশে আবরিয়া রেখোনা যন্ত্রণা। মমতার অশ্রুজলে নিভাইব সে অনলে, ভালো যদি বাস তবে রাখো এ প্রার্থনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন