পোস্টগুলি

2026 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কেমনে পাইমুরে কালা তোর দরশন

শিল্পী: আরকুম শাহ গীতিকার: আরকুম শাহ চাইর চিজে পিঞ্জিরা বানাই, মোরে কইলায় বন্ধু রে বন্ধু নিরধনিয়ার ধন কেমনে পাইমু রে কালা তোর দরশন ।। সমদ্রে জল উঠে বাতাসের জোরে আবর হইয়া ঘুরে পবনের ভরে জমিনে পড়িয়া শেষে সমুদ্রেতে যায় জাতেতে মিশিয়া জাত তরঙ্গ খেলায় । তুমি আমি আমি তুমি জানিয়াছি মনে বিচিতে জন্মিয়া গাছ বিচি ধরে কেনে এক হইতে দুই হইল প্রেমেরই কারণ সে অবধি আশিকের দিল করে উচাটন ।। পরিন্দা জানোয়ার যদি কোন এক কলে জাতি ছাড়া বন্ধ হয় শিকারিয়ার জালে কিরুপে জিন্দেগি কাটে বন্ধ খানায় তার মাশুক হইয়া কর আশিকের বিচার । আশক মাশুক যদি থাকে দুই স্থানে টেলী দিয়া খুসীর মঙ্গল যদি জানে বিনা দরশনে কিলা বাঁচিব জীবন শুন প্রভু প্রাণ প্রিয়া মোর নিবেদন ।। পাগল আরকুমে কয় মাশুক বানিয়া দুহাং পাতাইয়া থইছে উলুরে গাথিয়া আহার করিতে যদি না যাইত মন না লাগিত প্রেম লাঠা না হইত মরণ ।।

না জাগিলে সব ভারত-ললনা

শিল্পী: দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় গীতিকার: দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় না জাগিলে সব ভারত-ললনা, এ ভারত আর জাগে না জাগে না। অতএব জাগ, জাগ গো ভগিনি, হও “বীরজায়া, বীর-প্রসবিনী”। শুনাও সন্তানে, শুনাও তখনি, বীর-গুণগাথা, বিক্রম-কাহিনী, স্তন্যদুগ্ধ যবে পিয়াও জজনী। বীরগর্বে তার নাচুক ধমনী, তোরা না করিলে এ মহাসাধনা, এ ভারত আর জাগে না জাগে না।

চোখে চোখে কে চোখ রেখে মনে মনে দিল দোল

শিল্পী: মোহিনী চৌধুরী ছবি: ব্লাইণ্ড লেন (শৈলজানন্দ পরিচালিত) গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী চোখে চোখে কে চোখ রেখে মনে মনে দিল দোল দিল দোল দিল গোল দিল দোল অঙ্গে অঙ্গে তাই জাগে ভরা অঙ্গে অঙ্গে তাই জাগে ঝর ঝর ঝরণার কল্লোল কল রোল মনে মনে দিল দোল দিল দোল দিল দোল দিল দোল চোখে চোখে কে চোখ রেখে বনের চকোরী বলে চির চাওয়া চাঁদ সে রনের চকোরী বলে চঞ্চলা বলে ভাঙ্গে মোর নাথ যে অনুরাগে আঁখি মেলি চম্পা চামেলী জাগে বলে সে কুণ্ঠা ভোল অবগুণ্ঠন খোল মনে মনে দিল দোল দিল দোল দিল দোল দিল দোল চোখে চোখে কে চোখ রেখে মনের ময়ূর নাচে আয় বঁধু আয়রে মনের ময়ূর নাচে মনের ময়ূর নাচে আয় বঁধু আয়রে যৌবন মৌবনে মধু ঝরে যায় রে মধু ঝরে যার রে যায় যে মাধবী রাতি আয়রে জাগার সাথী নুপুরে জাগায়ে তোল নুপুরে জাগায়ে তোল রুম্ ঝম্ ঝম্ বোল মনে মনে দিল দোল দিল গোল দিল দোল দিল গোল চোখে চোখে কে চোখ রেখে

তীর বেঁধা আমি পাখী ব্যাথায় কাঁদে এ প্রাণ

শিল্পী: মোহিনী চৌধুরী ছবি: ব্লাইণ্ড লেন (শৈলজানন্দ পরিচালিত) গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী তীর বেঁধা আমি পাখী ব্যাথায় কাঁদে এ প্রাণ বোলো না আমায় শোনাতে বলো না আনন্দ কলতান তীর বেঁধা আমি পাখী। আমার পৃথিবী রক্তে রোদনে ভরা যেন বিধাতার অভিশাপ দিয়ে গড়া পথে পথে আজ বাঁচার পথের মিছে অনুসন্ধান বোলো না আমায় শোনাতে বলো না আনন্দ কলতান, তীর ঘেঁষা আমি পাখী। অন্ধগলির অন্ধকারে যে অন্ধেরি মত চলি যত প্রেম ছিল যত গান ছিল ক্ষুধায় দিয়েছি বলি অন্ধেরি মত চলি। তবু দাও দাও আরো দাও কাদে ক্ষুধা (হায়) এই বসুধায় কোথায় স্বরগ সুধা হে মহামানব বলো বলো এ বেদনা কবে হবে অবসান কবে হবে অবসান?

কী দেব আমি অঞ্জলি চঞ্চল তব চরণে

শিল্পী: মোহিনী চৌধুরী ছবি: ব্লাইণ্ড লেন (শৈলজানন্দ পরিচালিত) গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী কী দেব আমি অঞ্জলি চঞ্চল তব চরণে বরণ ডালায় নাই প্ৰদীপ, প্রদীপ জ্বেলেছি নয়নে।। ফুল যদি চাও প্রিয়তম হৃদয় পদ্ম নাও মম, হৃদয় পদ্ম নাও মম ফুল যদি চাও প্রিয়তম তোমার পরশ পিয়াসে পরাণ কম্পিত সুখ স্বপনে।। দেবতা আমার দয়িত আমার ব্যাথার ব্যথী আমার তুমি চির আপনার কী তোমার পূজা জানি না গো জানি না কী তোমার পূজা জানি না গো সংগীতে মোর জাগো জাগো জীবন লীলার সংগী যে তুমি আমার জীবনে মরণে।।

কে আমায় কাছে চায় কে ভালবাসে

শিল্পী: মোহিনী চৌধুরী ছবি: ব্লাইণ্ড লেন (শৈলজানন্দ পরিচালিত) গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী কে আমায় কাছে চায় কে ভালবাসে? যেই আমার খুলি দ্বার কে ছুটে আসে? পথিক হাওয়া সে দখিন হাওয়া সে। কে আমার কাছে চায় কে ভালবাসে? ঝিকি মিকি আলোতে কে ভাঙে আমার ঘুম? চুপি চুপি আদরে কে আঁকে চোখে চুম? কে আমার জানালার আড়ালে হাসে? চাঁদ আকাশে সে চাঁদ আকাশে। কে আমার কাছে চায় কে ভালবাসে? যে আমায় গান শোনায় ডাকে ও পিয়া ভীরু সে যে উড়ে আসা বন পাপিয়া। মনে মনে নিরজনে আসা যাওয়া যার নয়নে সে স্বপনেরি আনে ফুল ভার এ জীবন এ ভুবন দোলে যার আশে মরীচিকা সে মরীচিকা সে। কে আমার কাছে চায় কে ভালবাসে?

আজ এলে বুঝি এলে ফিরে

শিল্পী: মোহিনী চৌধুরী ছবি: রায়-চৌধুরী (শৈলজানন্দ পরিচালিত) গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী আজ এলে বুঝি এলে ফিরে। সেই হারানো পাখী এই নতুন নীড়ে। বনে তাই ফুল ফুটেছে মনে মনে গান জেগেছে ঝিকি মিকি আলো নাচে তোমায় ঘিরে, সেই হারানো পাখী সেই নতুন নীড়ে।

অভিনয় নয় গো অভিনয় নয়

শিল্পী: মোহিনী চৌধুরী গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী ছায়াছবি – অভিনয় নয় (শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়-এর পরিচালিত) অভিনয় নয় গো— অভিনয় নয়। এই হাসি এই গান, এই যে প্রণয় অভিনয় নয় গো অভিনয় নয়।। ভুল বোঝো ক্ষতি নেই ভুল ভাঙ্গে দু’ দিনেই ক্ষণিকের ভাল লাগা মনে জেগে রয়।। নিতি মোর অভিসার নিতি ফুল সজ্জা তাই বলে’ হে অতিথি মিছে কেন লজ্জা বুকভরা মধু মোর নিয়ে যাও হে ভ্রমর জেনে যাও অজানার কিছু পরিচয়।।

জয় বাংলা বাংলার জয়

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: আনোয়ার পারভেজ, জয় বাংলা বাংলার জয় হবে হবে হবে, হবে নিশ্চয় কোটি প্রাণ একসাথে জেগেছে অন্ধরাতে নতুন সূর্য ওঠার এই তো সময়।। বাংলার প্রতি ঘর ভরে দিতে চাই মোরা অন্নে, আমাদের রক্ত টগবগ দুলছে মুক্তির দীপ্ত তারুণ্যে। এই পথ— হয় হোক রক্তের প্রচ্ছদপট তবু করি না করি না করি না ভয় ॥ অশত্থের ছায়ে যেন রাখালের বাঁশরি হয়ে গেছে একেবারে স্তব্ধ চারিদিকে শুনি আজ নিদারুণ হাহাকার আর ঐ কান্নার শব্দ। শাসনের নামে চলে শোষণের সুকঠিন যন্ত্র, বজ্রের হুংকারে শৃঙ্খল ভাঙতে সংগ্রামী জনতা অতন্দ্ৰ। আর নয়— তিলে তিলে বাঙালির এই পরাজয় তবু করি না করি না করি না ভয় ॥ ভুখা আর বেকারের মিছিলটা যেন ঐ দিন দিন শুধু বেড়ে যাচ্ছে, রোদে পুড়ে জলে ভিজে অসহায় হয়ে আজ ফুটপাতে তারা ঠাঁই পাচ্ছে। বারবার ঘুঘু এসে খেয়ে যেতে দেব না তো আর ধান, বাংলার দুশমন তোষামোদি চাটুকার সাবধান সাবধান সাবধান এই দিন— সৃষ্টির উল্লাসে হবে রঙিন আর মানি না মানি না কোনো সংশয় ॥ মায়েদের বুকে আজ শিশুদের দুধ নেই, অনাহারে তাই শিশু কাঁদছে, গরিবের পেটে আজ ভাত নেই...

দিন দুনিয়ার মালিক, তোমার দীনকে দয়া হয় না

শিল্পী: মোহিনী চৌধুরী গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী ছায়াছবি – অভিনয় নয় (শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়-এর পরিচালিত) দিন দুনিয়ার মালিক, তোমার দীনকে দয়া হয় না এ দীনকে দয়া হয় না। কাঁটার জ্বালা দাও তারে যার ফুলের আঘাত সয় না।। এই খেলাঘর ভাঙ্গবে যদি কেনই-বা ঘর বাঁধলে সব-হারাকে কাঁদাও যত নিজেও তত কাঁদলে। (তাই) সব দিয়ে যার সব কেড়ে নাও সেও তো কথা কয় না ॥ সব কথা যার ব্যথায় ভরা কোন্ কথা সে বলবে? সব পথই যার কাঁটায় ঘেরা কোন্ পথে সে চলবে? (তার) মনের বনে লাগে আগুন, ফাগুন হাওয়া বয় না।।

আবু সুফিয়ান চৌধুরীর গান

শিল্পী: বাংলা গান ১) ও তুই ভেবে দেখরে মন চোখ মুঝিলে এই দুনিয়ার কেউ নি তর আপন রাখতে নি পারবো তরে কেউ আসিলে স্বমন ও তুই ভেবে দেখরে মন চোখ মুঝিলে এই দুনিয়ার কেউ নি তর আপন যারে তুই ভুলিয়া রইলি এই দুনিয়ায় রঙে স্ত্রী-পুত্র আত্মীয় স্বজন যাইবো নি তর সঙ্গে যাইবি রে তুই একলা একা (২) করবি স্বামীর চোখ এই মুঝিলে এই দুনিয়ার কেউ নি তর আপন ও তুই ভেবে দেখরে মন চোখ মুঝিলে এই দুনিয়ার কেউনি তর আপন যাইবি যেদিন স্বামীর ঘরে জিজ্ঞাসিবে তরে কি কর্ম করেছো আমার দুনিয়ার ভীতরে ভাবছো নি কি জবাব দিবি (২) স্বামীর কাছে তর চোখ মুঝিলে এই দুনিয়ার কেউ নি তর আপন ওই তুই ভেবে দেখরে মন চোখ মুঝিলে এই দুনিয়ার কেউ নি তর আপন করলি না কাম আদেশ মতে রঙের দুনিয়ায় মাটির ঘরে যাইবে যেদিন কি হবে উপায় সেদিন তিনি বিনে কেউনি আপন ভেবে দেখরে মন চোখ মুঝিলে এই দুনিয়ার কেউ নি তর আপন সুফিয়ান কয় ডাকো তারে থাকিতে সময় সে বিনে আর ওই দিনেতে আপন কেহো নয় করো রে মন তাহার কর্ম যিনি আপনজন ও তুই ভেবে দেখরে মন চোখ মুঝিলে এই দুনিয়ার কেউ নি তর আপন ২) যার কারনে আইলি ভবে চাইলি না তো তারে (২) মন তু...

ভোলো ভোলো ব্যথা ভোলো

শিল্পী: মোহিনী চৌধুরী গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী ছায়াছবি – অভিনয় নয় (শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়-এর পরিচালিত) ভোলো ভোলো ব্যথা ভোলো। তব বেদনা আঁধারে ঢাকা ছিল যে নভ রঙে রঙে রঙে রঙে রাঙ্গা হ’লো।। জাগে আলো জাগে আশা প্রাণে জাগে ভালো বাসা রজনী ভোরে ভাঙ্গা বাঁশরী খানি সুরে সুরে সুরে সুরে ভরে’ তোলো।। দুখের স্বপনে বল কে রাখে মনে, সুখের দিনে সে কি স্মরণে থাকে, তবু হারাণো দিনের স্মৃতি ভুলি কেমনে সে যে বারে বারে পিছু ডাকে।। আঁখি কোণে যদি কোনো ব্যথা জাগে শোনো শোনো প্রাণের প্রণতি গানে মিনতি করে ভোলো ব্যথা, ব্যথা ভোলো কথা বলো॥

আমাদের বন্দী করে যদি ওরা ভাবে

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান, আমাদের বন্দী করে যদি ওরা ভাবে দুনিয়ায় পাপের ভারে পুণ্য গেছে ডুবে ভুল ভুল ভুল কত বড় ভুল আমাদের সন্তানেরা দেবে সে ভুল ভেঙে দেবে ॥ আমাদের এই জীবনে সুখ-দুঃখের হিসাব-নিকাশ নাই আমাদের সুখের ভাগ ষোলো আনাই দুখে ভরা ভাই হবেই হবে হবে রে এর বিচার হবে আমাদের সন্তানেরা হিসাব করে বুঝে নেবে ॥ এই দিন তাই দিন নয় রে আরও দিন আছে এই দিনকে ঠেলে নেব সেই দিনের কাছে। আমাদের ঘরে ঘরে অনাদরে জন্ম নিল যারা অপমানে অভিমানে দিনে দিনে বড় হবে তারা নেবেই নেবে নেবে আদায় করে নেবে আমাদের পাওনাটুকু আদায় করে তারাই নেবে ॥ সুখ দুঃখ (৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১)

এমন লগনে আহা মান করে না

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, এমন লগনে আহা মান করে না কেন ও মুখে কথা সরে না ॥ হাতখানি যদি রাখো হাতে তুমি বলো ওগো দোষ কী তাতে দূর হতে দেখে শুধু মন ভরে না যদি ও মুখে কথা সরে না ॥ সখা গো, কালো চুল ভালো, কালো চোখ ভালো লাগে কালো মুখে বড় ভয় দয়া করে তুমি ক্ষমা করো, মানিয়াছি পরাজয় সখা তোমারই হয়েছে জয়। কত ভালো লাগে যখন হাসো একটু না হয় আরও কাছে আসো মিলনমালা যেন কভু ঝরে না ॥ আমার বউ (২২ জানুয়ারি ১৯৭১)

এই সে সোনার দেশ যার শ্যামল প্রান্তরে

শিল্পী: নূরুল ইসলাম গীতিকার: নূরুল ইসলাম, সুরকার: মালিক মনসুর, এই সে সোনার দেশ যার শ্যামল প্রান্তরে স্বপ্নভরা সবুজ আঁচল দোলে নীল-সবুজের বাসরঘরে হেথায় সোনার ফসল ফলে।। বাউল সুর আর রাখালিয়া গানে ভাটিয়ালি ঢেউ তুলে দেয় প্ৰাণে (আহা রাখালিয়া গানে দোয়েল শ্যামা কোকিল ডাকে মনভোলানো সুরে ॥ রূপে ঘেরা রূপকথারই দেশে নাই ভেদাভেদ রই যে মিলেমিশে (আহা রূপকথারই দেশে) মাটির মানুষ পরম সুখে থাকি মাটির ঘরে ॥ শেষ রাতের তারা (২২ জানুয়ারি ১৯৭১)

এই শহরে আমি যে এক নতুন ফেরিওয়ালা

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, এই শহরে আমি যে এক নতুন ফেরিওয়ালা হরেক রকম সওদা নিয়ে ঘুরি সারা বেলা— ফেরিওয়ালা ॥ আয়না আছে চিরুনি আছে নেবে যদি এসো কাছে আয়না আছে চিরুনি আছে আছে কাচের চুড়ি স্নো পাউডার আলতা সাবান মিলবে না তার জুড়ি আরও আছে চুলের ফিতা রঙিন মোতির মালা— ফেরিওয়ালা ॥ চার চাকাতে ভাগ্য বেঁধে বুঝে নিলাম ভাই সব জিনিসের মূল্য আছে মানুষের দাম নাই। ভাই বন্ধু সবাই শোনো মিছে এত ভাবছ কেন ভাই বন্ধু সবাই শোনো, শোনো খোকাখুকি সস্তা দামে কিনবে যদি এসো গরিব-দুখি সবার মুখের হাসি দেখে ভুলব মনের জ্বালা— ফেরিওয়ালা ॥* মানুষের মন (১৪ জানুয়ারি ১৯৭২) * পৃথিবী আমারে চায় (১৯৫৭) ছবিতে বিধায়ক ভট্টাচার্যের লেখা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া ‘নীলামওয়ালা ছ’আনা’ গানের বাণীর সঙ্গে ওই গানের সাদৃশ্য লক্ষণীয়। একই রকম সাদৃশ্য দেখা যায় তোমার আমার (১৯৬১) ছবিতে আবু হেনা মোস্তফা কামাল রচিত ‘আয়না আছে, আয়না আছে’ গানটিতেও।

রাত বলে, ওগো তুমি যে আমার

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, রাত বলে, ওগো তুমি যে আমার সে কথা বলার অধিকার পেয়েছি চাঁদ বলে, ওগো তুমি যে আমার তাই তো আঁধার আলোকে ছেয়েছি ॥ দুজনার অনুরাগে হৃদয়ের দোলা পেয়ে বনতল ফুলে ফুলে নীরবে গেল ছেয়ে এত গান তাই তো আমি গেয়েছি ॥ প্রণয়ের তিথিডোরে অলখে বেঁধে নিলে মধুময় অভিসারে এ জীবন ভরে দিলে তোমাকে ছাড়া আর কী বা চেয়েছি ॥ আমার বউ (২২ জানুয়ারি ১৯৭১)

এক বরষার বৃষ্টিতে ভিজে দুটি মন কাছে আসলো

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: খোন্দকার নূরুল আলম, এক বরষার বৃষ্টিতে ভিজে দুটি মন কাছে আসলো এক সমুদ্র কল্পনা বেয়ে দুটি মন ভালোবাসল।। এক ভাবনার একটু আকাশ অনুরাগের লেখে ইতিহাস (সা নি সা রে নি সা দা নি পা গা পা গা সা) এক ফাগুনের মন্ত্রণা নিয়ে দুটি চোখ যেন হাসল ॥ এক বাসনার একটু সময় অবকাশের হলো সঞ্চয় এক জীবনের রোমাঞ্চ নিয়ে দুটি প্রাণ স্রোতে ভাসল।। জলছবি (১ জানুয়ারি ১৯৭১)

শহর থেকে অনেক দূরে চলেছি

শিল্পী: মুকুল চৌধুরী গীতিকার: মুকুল চৌধুরী, সুরকার: আলম খান, শহর থেকে অনেক দূরে চলেছি পথ চলি আমি এক যাত্রী মাঠ ঘাট প্রান্তর ছাড়িয়ে চলেছি একা একা।। দেখি এক চাঁদমুখ খোলা জানালায় কত কী ভাবে বসে একেলা ঠোঁট দুটি কাঁপে তবু কথা বলে না এ কোন খেলা এ কোন চলা পথের সাথি হয়ে।। আড়চোখে চেয়ে দেখা সে তো ভালো নয় ক্ষতি কী যদি হয় পরিচয় হাত দুটি হাতে রেখে কথা বিনিময় চলার পথে নতুন বেশে মনের সাথি হয়ে ॥ স্মৃতিটুকু থাক (১৭ জানুয়ারি ১৯৭১)

একটি কাগজ কিনে নিন

শিল্পী: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান গীতিকার: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সুরকার: রবীন ঘোষ, একটি কাগজ কিনে নিন আপনার ক্ষতি হবে না আমার কেটে যাবে দিন গরম খবর পড়ে নিন একটি কাগজ কিনে নিন বড় বড় মানুষের বড় বড় খবর হয় ছোট ছোট মানুষের নেই কোনো পরিচয়।। কেউ তো ফিরে দেখে না, কেউ তো ভুলে ডাকে না আমায় কিছু পয়সা দিন, আপনার ক্ষতি হবে না একটি কাগজ কিনে নিন এত বড় শহরের অলিগলি ঘুরে যাই হায় এ গরিবের আশা কেন মিছে হয়।। কেউ তো কভু খোঁজে না, ব্যথা যে কেউ বোঝে না কাগজ কিনে পয়সা দিন, আপনার ক্ষতি হবে না আমার কেটে যাবে দিন বড় বড় সাহেবের গাড়িঘোড়া ছুটে যায় ফুটপাতে অভাগার পেট চলা বড় দায় ॥ সবাই পায়ে ঠেলে যায়, আমরা কেন অসহায় আমায় কিছু পয়সা দিন, আপনার ক্ষতি হবে না একটি কাগজ কিনে নিন বড় বড় মানুষের বড় বড় আশা হয় কেন হায় গরিবের চোখে শুধু ধাঁধা রয় ॥ নাচের পুতুল (৮ জানুয়ারি ১৯৭১)

এক বরষার বৃষ্টিতে ভিজে দুটি চোখ কিছু পায়নি

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: খোন্দকার নূরুল আলম, এক বরষার বৃষ্টিতে ভিজে দুটি চোখ কিছু পায়নি এক সমুদ্র কল্পনা বেয়ে এই মন ফিরে যায়নি।। এক আকাশের শূন্যতা দিয়ে এ জীবন কেন নিই ভরিয়ে এক ফাগুনের মৌসুমি নিয়ে এই মন গান গায়নি।। এক বিরহের মৌনতা নিয়ে সেই শপথ কোথা যায় হারিয়ে এক স্বপনের তন্দ্রালু তৃষা চোখে আর কভু ছায়নি।। জলছবি (১ জানুয়ারি ১৯৭১)

আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন

শিল্পী: কে জি মোস্তফা গীতিকার: কে জি মোস্তফা, সুরকার: রবীন ঘোষ, [–হ্যালো, কাকে চাই? —তোমাকে! —আপনি, আপনি কে? —সেই আমি…] আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন কপোলের কালো তিল পড়বে চোখে ফুটবে যখন ফুল বকুল শাখে ভ্রমর যে এসেছিল জানবে লোকে ॥ [—কী বলছেন আপনি? —বুঝতে পারছ না? ] মনটি তোমার কেন দুরু দুরু কাঁপছে মনের মানুষ কি গো চেনা চেনা লাগছে তুমি কি তারে কাছে ডাকবে? হৃদয়ের কাছে সে রয় অলখে হঠাৎ যখন তুমি দেখবে তাকে শরমে নয়ন কি গো রাখবে ঢেকে ॥ [—কিছু বলছ না যে? —কী বলব!] জানি না এখন তুমি কার কথা ভাবছ আনমনে কার ছবি চুপিচুপি আঁকছ তুমি কি তারে ভালোবাসবে? ধরা যদি দেয় সে এক পলকে দেখবে যখন তারে অবাক চোখে দুহাতে নয়ন কি গো রাখবে ঢেকে ॥* নাচের পুতুল (৮ জানুয়ারি ১৯৭১) * সংলাপ : শবনম, রাজ্জাক।

এক অন্তবিহীন স্বপ্ন ছিল

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সুবল দাস, এক অন্তবিহীন স্বপ্ন ছিল গানে ভুবন ভরিয়ে দেব ব্যর্থ আশার এই তিক্ত দাহ ভাবিনি তো আমি পাব।। এই কণ্ঠে নিয়ে সুরেরই জ্বালা আমি তো চলেছি ফিরে কোনো দিন আর গাইব না গান তোমাদের আসর ঘিরে পাষাণে আমার লিখো না এ নাম যখন আমি চলে যাব।। এই গানের মেলায় কুড়িয়েছিলাম কত না জয়েরই মালা বিদায়বেলায় এল আবার অশ্রুঝরার পালা সকল ব্যথার প্রদীপ জ্বেলে আড়াল হয়ে দূরে রব। কত প্রাণ ঝরে যায় নীরবে তারে আর মনে রেখে কী হবে মনে রেখো শুধু তার শেষ গান ॥ স্বরলিপি (১ জানুয়ারি ১৯৭১)

আমার এ গান তুমি শুনবেই

শিল্পী: খন্দকার ফারুক আহমেদ, গীতিকার: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সুরকার: সত্য সাহা, আমার এ গান তুমি শুনবেই, জানি শুনবেই হয়তো বা আজ নয় আর কোনো দিন আমার কথা তুমি রাখবেই, কথা রাখবেই যদিও বা আজ নয় অন্য সেদিন ॥ সপ্তসুরের মাধুরী দিয়ে রচেছি এ গান তোমায় নিয়ে এই প্রিয় গীতি, এ মধুর স্মৃতি হারাবে না কখনো সে রবে চিরদিন।। একা একা তুমি রইবে যখন এ গান তোমার মনে পড়বে তখন। ভীরু হৃদয়ের সন্ধিক্ষণে মধু গুঞ্জন তুলবে প্ৰাণে চোখে চোখ রেখে, কাছে নেব ডেকে প্রেমের আবেগে হবে স্বপ্ন রঙিন ॥ দীপ নেভে নাই (১ নভেম্বর ১৯৭০)

জানি না সে হৃদয়ে কখন এসেছে

শিল্পী: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান গীতিকার: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সুরকার: আলী হোসেন, জানি না সে হৃদয়ে কখন এসেছে প্রাণের মাঝে দোলা দিয়েছে আমার এ মন কারে যেন ভালোবেসেছে। আকাশে দেখি কত স্বপ্ন মেঘে মেঘে আনে মায়া লগ্ন পাখির কাকলিতে বুঝি সে আজ কত কথা বলে গিয়েছে ॥ আমায় সে চায় তবু চায় না তারে কেন ধরে রাখা যায় না জীবন-মরণেতে আমি যে তার সে কি তবে জেনে নিয়েছে। একই অঙ্গে এত রূপ (১৮ নভেম্বর ১৯৭০)

ও মেয়ের নাম দেব কী ভাবি শুধু তাই

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সুবল দাস, ও মেয়ের নাম দেব কী ভাবি শুধু তাই ও তার মনের সাথে মন বেঁধেছি তাই তো এ গান গাই (আমি)।। ও কালো চোখের ‘পরে বসেছে কোন ভ্রমরে জানি না ডুবল সে কি রূপের সাগরে যত দেখি সাধ মেটে না, ফিরে ফিরে চাই (আমি) ॥ পথের ধারে নামহারা ফুল ফোটে কত রাত্রি-দিনে যে তারে চিনতে পারে দাম দিয়ে তারে কেনে। ও হাসি ঝরনা হয়ে আবেশে যায় ভরায়ে আমারে অনুরাগে নিল জড়ায়ে তারে নিয়ে তাই তো শুধু কাব্য করে যাই (আমি)।। স্বরলিপি (১ জানুয়ারি ১৯৭১)

আহা রে, লোকলাজ কিছু মানে না

শিল্পী: আইরিন পারভিন, গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সুবল দাস, [না… ধা নি সা গা মা গা গা মা গা নি সা] না না, ও ঘাটে যাব না তার খেলার পুতুল আমি আর তো হব না না না, যাব না ॥ আহা রে, লোকলাজ কিছু মানে না রীতিনীতি কিছু জানে না আমারে সবাই দোষে সে তো ভালো থাকে না না, কলঙ্ক আর নেব না ॥ যতই বলি যাব না যাব না মন তো বলে ঘরে রব না রব না। আহা রে, ভুল করে এ কী করেছি মন দিয়ে আমি মরেছি আমারে ফাঁদে ফেলে সে তো দেখি হাসে না না, বন্ধন আর নেব না ॥ স্বরলিপি (১ জানুয়ারি ১৯৭১)

রিকশাওয়ালা বলে কারে তুমি আজ ঘৃণা করো

শিল্পী: খন্দকার ফারুক আহমেদ, গীতিকার: নিজাম-উল হক, রিকশাওয়ালা বলে কারে তুমি আজ ঘৃণা করো মুটে-কুলি বলে কারে তুমি আজ ঘৃণা করো কিষান বলে কেন হেলা করো শ্রমিক বলে কেন এড়িয়ে চলো ॥ আমার রক্ত-ঘাম বুকের পাঁজর দিয়ে তোমার প্রাসাদ তৈয়ার সাতমহলার স্বপ্নচূড়ায় বসে ভাবো একা দাবিদার না না না না না না, বন্ধু ভুল ধারণা দিতে হবে অধিকার আমরা মানুষ এই পৃথিবীতে আমরাও যে দাবিদার ॥ এই দুনিয়ার যত নিঃস্ব মানুষ নাই যাদের ঠিকানা বঞ্চিত ব্যথাহত নিপীড়িত লাঞ্ছিত তাদের কথা ভোলো না না না না না না না, তারাই তোমাদের মান দিতে হবে সম্মান জেগেছে আজিকে সর্বহারার দল দিতে হবে সম্মান ॥ কোথায় যেন দেখেছি (১ নভেম্বর ১৯৭০)

বড় একা একা লাগে তুমি পাশে নেই বলে

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, বড় একা একা লাগে তুমি পাশে নেই বলে নিশিজাগা কত কথা মনে এসে সুর তোলে।। নূপুর কখনো বাজে কি আহা চরণ যদি না চলে আকাশ কভু কি সাজে গো আহা তারা যদি না জ্বলে চরণে নূপুর, আকাশে তারা মিতালির রাগে দোলে এইটুকু মনে হলে বড় একা একা লাগে ॥ পরাগ কখনো ঝরে কি আহা বাতাস যদি না আসে শিশির কভু কি পড়ে গো আহা গোলাপ যদি না হাসে বাতাসে পরাগ, শিশিরে গোলাপ মিলনের কথা বলে এইটুকু মনে হলে বড় একা একা লাগে ॥ দীপ নেভে নাই (১ নভেম্বর ১৯৭০)

জলতরঙ্গ মন আমার

শিল্পী: মুকুল চৌধুরী গীতিকার: মুকুল চৌধুরী, সুরকার: আলম খান, জলতরঙ্গ মন আমার সা রে মা পা নি সা বাজে জলতরঙ্গ বাজে ॥ জীবনের প্রতিদিন পদধ্বনি শুনি তার গোপনে রঙের তুলি দিয়ে সাজাতে সে চায় মোরে যতনে পা নি সা নি পা মা মা পা নি পা মা রে রে মা পা নি রে সা বাজে ॥ ভালো লাগা সেই নাম নিশিদিন বাজে মোর মরমে কাছের মানুষ হয়ে জড়াতে সে চায় মোরে বাঁধনে পা নি সা নি পা মা মা পা নি সা মা রে রে মা পা নি রে সা বাজে।। কাঁচ কাটা হীরে (১ নভেম্বর ১৯৭০)

স্বরে অ-তে অজগর, স্বরে আ-তে আম

শিল্পী: সৈয়দ আবদুল হাদী, গীতিকার: হেমায়েত হোসেন, সুরকার: ওমর ফারুক, স্বরে অ-তে অজগর, স্বরে আ-তে আম হ্রস্ব ই-তে ইঁদুর ভায়ার কাটুসকুটুস কাম ॥ দীর্ঘ ঈ-তে ঈগল পাখি হ্রস্ব-উ দিল ঐ যে উঁকি উটের আগে হ্রস্ব উ, ট দিলে হয় তার নাম ॥ লিখতে ঊষা দীর্ঘ ঊ এ-তে এক্কা চলে বহু ঐ-তে হলো ঐরাবত হাতির অন্য নাম।। ও-তে বুঝি ওজন ভারী দেখো ধরে পাল্লা দাড়ি ঔ-তে কেন ঔষধ সব হোক না যা তার দাম ॥ ঘূর্ণিঝড় (২ অক্টোবর ১৯৭০)

মন ছুটে যায় আহা রে

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, মন ছুটে যায় আহা রে মন ছুটে যেতে চায় কোন সুদূরে সবুজের ছায়াঘেরা তেপান্তরে ॥ শাল-পিয়ালের বন যেথা দোলা দেয় মধুর মায়ায় যেথা কাছে টেনে নেয় যেখানে হাওয়ার বাঁশি উদাস করে সেখানে হারায় মন বারে বারে।। সোনার দেশে রুপালি নদী চলে কত রঙ্গে মরমের কথা আমারে শোনায় ঢেউয়ের জলতরঙ্গে ও-ও-ও নদী রে…। খেতখামারের মাঠে কিষানের মন ফসলের স্বপ্নে রয় যে মগন জন্ম নিয়ে এ মাটির ঘরে ধন্য হলাম আমি চিরতরে।। নতুন প্রভাত (২৩ অক্টোবর ১৯৭০)

বাবা শুভঙ্কর একি ভয়ঙ্কর

শিল্পী: জহির রায়হান গীতিকার: জহির রায়হান, সুরকার: আলতাফ মাহমুদ, বাবা শুভঙ্কর একি ভয়ঙ্কর হিসেব নিকেষ শেখালে জগত পরে এখন টাকা আনা পাই, নিয়ে যে সবাই শুধুই ঘুরে মরে ॥ মনের দামের বামে দাদা তিলেক মাত্ৰ দিলে আধা পোয়ার দাম যদি গো অনায়াসে মেলে (বলুন সুধিজন—) মানুষের মনের বামে কতটুকু দিলে পাওনাদারের ঝঞ্ঝাট থেকে রেহাইটুকু মেলে ॥ টাকা পয়সা কিছু নয় মিল মোহাব্বত আসল কথা সাধুজনে ডেকে কয়। টাকা পয়সার কী দাম ভাই টাকা হলো হাতের ময়লা আজকে আছে কালকে নাই। নুতন কোনো আর্যা লিখে পাঠাও এ সংসারে শুনলে যাহা পাওনাদারে এমনি কেটে পড়ে (বাবা শুভঙ্কর!*) নিয়মের বদল করো তুমি পৃথিবীতে পাওনাদারই উল্টো যাতে আসে টাকা দিতে। টাকা আনা পাই (১৬ অক্টোবর ১৯৭০) * প্রকৃত নাম ভৃগুরাম দাস। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে বর্ধমান জেলায় (মতান্তরে বাকুড়ায়) তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পাটিগণিতের জটিল নিয়মসমূহ শিশুদের জন্য শুভঙ্কর পদ্যাকারে রচনা করেন, যা একসময় আর্যা নামে সুবিদিত ছিল। শুভঙ্করের একটি আর্যা : ‘আছিল দেউল এক বিচিত্র গঠন / ক্রোধে জলে ফেলে দিল পবন নন্দন। / অর্ধেক পঙ্কেতে তার তেহাই সলিলে / দশম ভাগে ভা...

কোথায় তোমায় যেন দেখেছি

শিল্পী: খন্দকার ফারুক আহমেদ, গীতিকার: ফিরোজা হক, সুরকার: নিজাম-উল-হক, কোথায় তোমায় যেন দেখেছি খুঁজে মরি এই ক্ষণে স্মৃতির গহনে ॥ সেই বরষামুখর রাতে সেই একলা চলার পথে মানসী প্রিয়া ওগো তোমারে যে পেয়েছি সুরের আকাশ মোর সুধা ভরে নিয়েছি ॥ কত দিন কেটে গেছে ভেবে ভেবে তোমারে আজ তাই এলে বুঝি কম্পিত অঙ্গের ছন্দিত কলরোলে আমার সুরের বাসরে। তাই আমার কবিতাগুলি আজ সুরে সুরে ভরে তুলি তোমার কাজল চোখের আলোটুকু নিয়েছি চলার ছন্দটুকু কান পেতে শুনেছি।। কোথায় যেন দেখেছি (১ নভেম্বর ১৯৭০)

আমরা যারা সর্বহারা আছি পথের ‘পরে

শিল্পী: কল্লোল রায়হান, গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, [পথের মানুষ একটু দাঁড়াও শুনবে যদি তাদের কথা দিবানিশি কাঁদে যারা বুকে নিয়ে গভীর ব্যথা] আমরা যারা সর্বহারা আছি পথের ‘পরে পথিক তুমি তাদের কথা শোনো নতুন করে।। ফুটপাতের ঐ ধূলির মাঝে শুকায় যাদের প্রাণ মানুষ হয়ে পায় না যারা মানুষেরই দাম অবহেলা সয়ে তারা ধুঁকে ধুঁকে মরে ॥ আকাশছোঁয়া সাতমহলার প্রতিটি ইট জানে দিনে দিনে উঠল বেড়ে কাদের মাথায় ঘামে সে যে তোমার আমার ঘামে। তবু মোদের বেঁচে থাকার নেই যে অধিকার কোন বিচারে এমন হলো হিসাব নেব তার দয়ার দানে ভুলব না তো পাওনা নেব কেড়ে এই দুনিয়ায় সবই সমান শোনো নতুন করে।। নতুন প্রভাত (২৩ অক্টোবর ১৯৭০)

কেন যে সাথে চলিতে কথা বলিতে

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: রাজা হোসেন খান, কেন যে সাথে চলিতে কথা বলিতে ফিরিয়ে নিলে মুখ দুজনার প্রেম পরিচয় সারা দেশময় জেনেছে সব লোক যেও না, না না না, যেও না ॥ তোমায় নিয়ে চলা বড়ই ঝামেলা তুমি একেলাই থাকো শোনো প্রিয়তম, ওগো অনুপম চলো যেও নাকো একা একা লাগে যে ভয় তুমি আমায় করেছ জয়।। ওগো ললনা তুমি বলো না কেন ছলনা করো এবার কাছে এসে আমায় ভালোবেসে হাত দুটি ধরো আমি তোমার সে তো জানি তাই এত কানাকানি।। ঢেউ এর পরে ঢেউ (২৮ আগস্ট ১৯৭০)

নামের বড়াই কোরো নাকো নাম দিয়ে কী হয়

শিল্পী: আঞ্জুমান আরা বেগম ও সহশিল্পী, গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, নামের বড়াই কোরো নাকো নাম দিয়ে কী হয় নামের মাঝে পাবে নাকো সবার পরিচয়।। মতিঝিলে মোতি নেই নেই কোনো ঝিল সোনার গাঁয়ে সোনা নেই আছে শুধু বিল ঢাকা শহর খোলা থাকে, ঢাকা নাহি রয় (তাই না? তাই তো!) নামের বড়াই কোরো নাকো নাম দিয়ে কী হয় নামের মাঝে পাবে নাকো সবার পরিচয়।। রাজা নেই শাহী নেই রাজশাহী নাম হাতি-ঘোড়া কিছু নেই আছে শুধু আম (খাবে নাকি? হ্যাঁ।) সিংহ নেই তবু সে কি ময়মনসিংহ নয় নামের মাঝে পাবে নাকো সবার পরিচয় ॥ কর্ণফুলীর কানে ফুল দেখে না তো কেউ বুড়িগঙ্গায় বুড়ি নেই আছে শুধু ঢেউ পদ্ম ছাড়া নদীর নাম পদ্মা কেন কয় নামের বড়াই কোরো নাকো নাম দিয়ে কী হয় নামের মাঝে পাবে নাকো সবার পরিচয়।। পিতাপুত্র (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭০)

হৃদয় কেন আয়না হয়ে

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, হৃদয় কেন আয়না হয়ে মধুর ছবি এক রাখল ধরে আমি তো ভেবেছি মুছে দেব স্মৃতি বলে কেন, ‘থাক না পড়ে’ ॥ কখন কেমন করে একটু আলো আঁধারের বুকে যেন হাত বাড়াল আমি তো ভেবেছি কল্পনা সব আশা কেন তবু ছন্দ করে।। আড়ালে ছিলেম আমি সঙ্গোপনে বাইরে এলেম তার নিমন্ত্রণে নিজের কাছেই যেন পালিয়ে বেড়াই এ কোন দ্বিধা মোরে আকুল করে ॥ পিতাপুত্র (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭০)

একটি মনের আশিস তুমি কাছে যখন এলে

শিল্পী: এস এম হেদায়েত গীতিকার: এস এম হেদায়েত, সুরকার: ওমর ফারুক, একটি মনের আশিস তুমি কাছে যখন এলে নিলেম তোমায় নিবিড় করে মনের মাঝে তুলে ॥ মেঘলা চোখের দৃষ্টি তোমার আনল যে আজ শপথ আবার চলার পথে আলোর মানিক ছড়িয়ে যেন দিলে ॥ ছন্দময়ী বন্ধু বেশে থাকবে তুমি আমার পাশে চাওয়া-পাওয়ার হিসেব কষে নাই বা কিছু পেলে।। ঘূর্ণিঝড় (২ অক্টোবর ১৯৭০)

খুশির নেশায় আজকে বুঝি মাতাল হলাম গানে

শিল্পী: ফজল-এ-খোদা গীতিকার: ফজল-এ-খোদা, সুরকার: ওমর ফারুক, খুশির নেশায় আজকে বুঝি মাতাল হলাম গানে সুরের জালে জড়িয়ে গেলাম মধুর অভিমানে ॥ মায়াঝরা এমন সাঁঝে ভুল করি যে সকল কাজে পরশে তার হৃদয় মাঝে আবেশ কেবল আনে।। কেন যে আজ অকারণে দখিন হাওয়া খেলে মন বলাকা সঙ্গোপনে রঙিন পাখা মেলে। মুগ্ধ মনে আবির মেখে শত কথার ছবি এঁকে আজকে আমি দিশেহারা হৃদয় কি তা জানে ॥ ঘূর্ণিঝড় (২ অক্টোবর ১৯৭০)

আঁধারে আলো হয়ে তুমি যে কাছে এলে

শিল্পী: বশীর আহমদ, শাহনাজ রহমতউল্লাহ; গীতিকার: মাসুদ করিম, সুরকার: বশীর আহমদ, আঁধারে আলো হয়ে তুমি যে কাছে এলে অনুরাগে মায়া দিলে দুটি নয়নে ফাগুনে অলি হয়ে তুমি যে পাশে এলে ভালোবেসে কাছে নিলে মধু কূজনে ॥ আমি যেন নদী সাগরে মিশেছি এসে যাব যুগে যুগে তোমারে ভালো যে বেসে আমি ধন্য হয়েছি পেয়েছি তোমারে জীবনে।। ওগো মধুমিতা, আমারই হয়ে গো থেকো চিরসাথি করে বুকেতে জড়িয়ে রেখো তুমি শুধু আমারই জীবনে মরণে স্বপনে ॥ মধুমিলন (৩১ জুলাই ১৯৭০)

স্বপনের মতো লাগে এত আলো এত হাসি

শিল্পী: বশীর আহমদ, গীতিকার: শহীদুল ইসলাম, সুরকার: বশীর আহমদ, স্বপনের মতো লাগে এত আলো এত হাসি চিনে নিতে পারিনি তো ছিলে তুমি কাছাকাছি।। দুটি চোখে অত মায়া দেখিনি তো আমি আগে লাজে ভীরু সুদূরিকা দোলা দিল অনুরাগে আহা যেন দ্বারে এসে ধরা দিল রাঙা শশী।। জীবনপথে কেন যে ভেবেছিনু এত আমি কোনো দিনও বুঝিনি তো সাথি হয়ে আছ তুমি কেন ভুলে ভুলে মিশে জেনেছিনু একা আছি ॥ মধুমিলন (৩১ জুলাই ১৯৭০)

কত আশা ছিল মনে কত আশা ছিল

শিল্পী: বশীর আহমদ, গীতিকার: হাবিবুর রহমান*, সুরকার: বশীর আহমদ, কত আশা ছিল মনে কত আশা ছিল ভাবি শুধু এ মন যে কী চেয়ে কী পেল ॥ কে জানে গো বারে বারে কেন স্মৃতি জাগে ছিঁড়ে যাবে বাঁধা বীণা বুঝিনি তো আগে প্রীতিভরা ফুলমালা পথে ঝরে গেল ॥ অচেনারে দেখে কেন ঝরে দুটি আঁখি ভাষা লয়ে বোবা হয়ে শুধু চেয়ে থাকি ভালোবাসা এ জীবনে এ কী জ্বালা দিল ॥ মধুমিলন (৩১ জুলাই ১৯৭০)

এই বাসর প্রদীপ ম্লান হলো যে

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: রাজা হোসেন খান, এই বাসর প্রদীপ ম্লান হলো যে তোমার ঐ রূপেরই কাছে ঐ কপোল দেখে লাজে গোলাপ নীরব হয়ে যেন আছে।। রেশমি চুলে দুষ্টু হাওয়া লুকোচুরি যেন খেলে কাজল আঁখি পদ্মকলির পাপড়ি হয়ে যেন দোলে চপল অধর গোপন তৃষায় কারে যাচে।। তোমার পায়ে কৃষ্ণচূড়া আলতা হয়ে যেন হাসে বৃষ্টিভেজা অঙ্গে তোমার আকাশ যেন গেছে মিশে সোনার কাঁকন তোমার হাতে হার মেনেছে।। ঢেউ এর পরে ঢেউ (২৮ আগস্ট ১৯৭০)

কে যেন আমায় ডাকে প্রিয় নাম ধরে

শিল্পী: মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, গীতিকার: সৈয়দ শামসুল হক, সুরকার: আলী হোসেন, কে যেন আমায় ডাকে প্রিয় নাম ধরে আঁখি জলে ভরে চোখ তারই তরে ॥ ভালোবাসা দিয়ে কেউ ভালোবাসা পায় আমি তো যেদিকে চাই সাগর শুকায় যদি আমি চাই ফুল সে আমার হয় ভুল ফোটার আগে ফুল যায় যে ঝরে ॥ উড়ে যায় খাঁচা ছেড়ে পাখি নীলিমায় কঠিন শিকলে শুধু আমারে কাঁদায় যদি আমি যেতে চাই বারে বারে বাধা পাই আশার প্রদীপ নেভে আমারই ঘরে ॥ অধিকার (২১ আগস্ট ১৯৭০)

জানতাম যদি শুভঙ্করের ফাঁকি

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, জানতাম যদি শুভঙ্করের ফাঁকি আমার ঘরে পড়ত না ভাই শূন্য আমি বোকার হদ্দ পড়ে আছি একা রইল না কেউ আমার জন্য ।। দুইয়ে দুইয়ে চার আবার দুই দুগুনে চার যোগ-বিয়োগ আর পূরণ-ভাগের এ কী অত্যাচার বুদ্ধিমানে হিমশিম খায়, আরে আমি তো ভাই নগণ্য ।। এ সংসারে সং আছে নানা রংবেরং বেঁচে থাকার ঝামেলাতে করছে সবাই ঢং নিজের হাতে কাজ করি ভাই নিজে আমি তাই ধন্য ।। এত ভাবনার বলো কী আছে দরকার লেত্তি ধরে লাট্টু ঘোরাক যত খুশি তার চলব সবার খেদমত করে (আমি) বুঝি না ভাই পাপ-পুণ্য ॥ বিনিময় (৩ জুলাই, ১৯৭০)

তুমি সাত সাগরের ওপার থেকে আমায় ডেকেছ

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: আনোয়ার পারভেজ, তুমি সাত সাগরের ওপার থেকে আমায় ডেকেছ আর মনভোমরের কাজল পাখায় ছবি এঁকেছ। আমি ময়ূরপঙ্খি নাও ভিড়িয়ে তোমায় দেখেছি আর প্রবালদ্বীপের পান্না ভেবে চেয়ে থেকেছি ।। আগুনঝরা ফাগুন যখন এল পলাশবনে তোমার কথাই ভেবেছিলেম আমি মনে মনে ওগো তোমার চোখে তাই তো খুশির পরাগ মেখেছি ।। শুক্লা চাঁদের পঞ্চমীতে সাগর যখন দোলে তোমার আশায় বসেছিলেম বাতায়ন খুলে আমি দখিন হাওয়ায় তাই তো তোমায় চিঠি লিখেছি ॥ কত যে মিনতি (১৯ জুন ১৯৭০)

কিছু বলা যায় না

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, কিছু বলা যায় না কিছু শোনা হয় না তবু আমার জানাতে কিছু ইচ্ছে করে ॥ সবুজ দোলাতে এ কী হলো না বলা কথাটি রয়ে গেল হাওয়ার বাঁশিতে সে কথা শোনাতে কেন যে বারে বারে ইচ্ছে করে ॥ ঝিলের জলেতে ছায়া দেখে আঁচলে রেখেছি ও মুখ ঢেকে সোহাগে শরমে কারে যে গোপনে সাজাতে মনের ঘরে ইচ্ছে করে ॥ বিনিময় (৩ জুলাই, ১৯৭০)

আমি গানকে ভালোবেসেছি

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: আনোয়ার পারভেজ, আমি গানকে ভালোবেসেছি এত গান নিয়ে তাই এসেছি আজ সুরে সুরে মন উজাড় করে দেব গানে ভরে এই পৃথিবীরে ॥ বাতাস যখন আকুল হবে সবুজ বনের মাঝে এ গান যেন নিবিড় হয়ে মরমে তার বাজে স্বরলিপি থাকবে লেখা স্মৃতির পাতা ঘিরে ॥ যখন আমি হারিয়ে যাব অনেক দূরের দেশে এ গান যেন ধরার বুকে ফাগুন নিয়ে আসে পথিক পাখি তাই তো গেয়ে কুলায় যাবে ফিরে ॥ কত যে মিনতি (১৯ জুন ১৯৭০)

আমার প্রিয়ের দেশে যা রে পাখি যা

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: আনোয়ার পারভেজ, আমার প্রিয়ের দেশে যা রে পাখি যা উড়ে যা ‘পা নি নি সা রে নি সা’ গা পাখি ‘পা নি নি সা রে নি সা’ ॥ ছোট্ট খাঁচায় পড়ে কেন খুঁজিস মনের মিল দেখ না চেয়ে আকাশ কত হয়েছে আজ নীল ‘গা পা মা রে মা গা’ গা পাখি গা ॥ তুই তো আমার গানের পাখি গানের স্বয়ংম্বরা বসন্তের ঐ মৌ বনেতে মধু কলস্বরা। চপল ডানার চঞ্চলতা বন্ধ করে আজ দুষ্টু পাখি হঠাৎ কি রে ভুলে গেলি কাজ ‘গা পা মা রে মা গা’ গা পাখি গা ॥ কত যে মিনতি (১৯ জুন ১৯৭০)

গান নয় যদি গল্প বলি

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: খোন্দকার নূরুল আলম, গান নয় যদি গল্প বলি, বলো না কেমন হয় একটি মন নিজে এসে আরেক মনের কাছে মেনে নিল নিজের পরাজয় [বলো না কেমন হয়?] সে মন যদি হতো পাখি উড়েই যেত দূরে হতো না কি তাদের পরিচয় গান নয় যদি গল্প বলি [বলো না কেমন হয়?] গান নয় এসো গল্প বলি।। দুটি পান্থ হৃদয় অনেক চলার শেষে দাঁড়াল সহসা মোহনার তীরে এসে মিলনের গান শুনল যখন ভাবেনি তখন এ জীবন এত গীতিময় গান নয় যদি গল্পে বলি বলো তো কেমন হয়।। দুটি মুগ্ধ চোখের মধুময় মাধুরীতে এল যে বসন্ত দুজনার পৃথিবীতে শপথের বীণ বাজল তখন স্বপ্ন মগন দুটি মন হলো প্রীতিময় গান নয় যদি গল্প বলি।। অন্তরঙ্গ (১২ জুন ১৯৭০)

এই পৃথিবীর পান্থশালায় গাইতে গেলে গান

শিল্পী: আবু হেনা মোস্তফা কামাল গীতিকার: আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সুরকার: সুবল দাস, এই পৃথিবীর পান্থশালায় গাইতে গেলে গান কান্না হয়ে বাজে, কেন বাজে আমার প্রাণ ॥ কেউ চলে যায়, কেউ বা আসে দুদিনের এই পরবাসে কেউ বোঝে না কারও হাসি অভিমান ॥ এই যোগ-বিয়োগের রঙ্গমেলায় এলাম কেন তবে? বাজলে বাঁশি আবার যদি ফিরেই যেতে হবে। কিছুই দিতে পারব না যে আমার সকল গানের মাঝে অশ্রু বুঝি তাই ঝরে অফুরান ॥ যোগ বিয়োগ (১ মে ১৯৭০)

ভুল যদি হয় মধুর এমন হোক না ভুল

শিল্পী: ওবায়েদ-উল হক গীতিকার: ওবায়েদ-উল হক, সুরকার: খোন্দকার নূরুল আলম, ভুল যদি হয় মধুর এমন হোক না ভুল ভুলের রঙে রাঙল যে মন, হোক না ভুল।। এই ভুলের সুধায় হৃদয় ভরে যাক না ভুলের মায়া আঁখির পাতায় থাক না মন ভোলায় এই ভুলের স্বপন, হোক না ভুল ॥ এমনি ভুলে প্রথম প্রেমের পরশ লাগে এমনি ভুলে কবির মনে কাব্য জাগে। এই ভুলের আবেশ আকুল করে যাক না ভুলের সুরে ভুবন ভরে থাক না একটি ভুলে ধন্য জীবন, হোক না ভুল ॥ অন্তরঙ্গ (১২ জুন ১৯৭০)

বলাকা মন হারাতে চায়

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সুবল দাস, বলাকা মন হারাতে চায় আকাশের ঐ সুদূর সীমায় ॥ সাগর কেন নদীটিরে বারে বারে ডেকে যায় মিলনের মোহনায় জানি না কী কথা শোনাতে চায় ॥ ফুলের কানে ভ্রমর কেন তোলে এত গুঞ্জন রাঙাতে কি ভীরু মন? তবু যে ধরা সে দিতে না চায় ॥ যোগ বিয়োগ (১ মে ১৯৭০)

এই কি এসেছে জীবনে প্রথম ফাল্গুনী

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: খোন্দকার নূরুল আলম, এই কি এসেছে জীবনে প্রথম ফাল্গুনী বনে নয় আজ মনে যেন মোর অজানা পাখির গান শুনি।। দখিনা দিয়েছে দুয়ার খুলে সুরভি লেগেছে মালার ফুলে স্বপনের তীরে চাওয়া-পাওয়া নিয়ে কত না আশার জাল বুনি ॥ ওগো বাতাস বলো বলো কেন এত আয়োজন হৃদয়ের ছায়ে নেমে এল এত ঝলকিত শিহরণ। বাঁশরি বেজেছে আমার দ্বারে কণ্ঠ সেজেছে গানের হারে সে কি এল আজ যার পথ চেয়ে গিয়েছি কেবল কাল গুনি।। অন্তরঙ্গ (১২ জুন ১৯৭০)

এই উতলা রাতে কেন যে শুধু জেগে থাকে মন

শিল্পী: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান গীতিকার: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সুরকার: রবীন ঘোষ, এই উতলা রাতে কেন যে শুধু জেগে থাকে মন কবে জানি ওগো তুমি আমায় জানাবে নিমন্ত্ৰণ ॥ এই রাত্রির চোখে ঘুম নেই মধুস্বপ্নের ভাষা নেই একা আমি যেন শুনি হৃদয়ে গুঞ্জরন এ ক্ষণ লগন মধুর এ সুর তুমি দেবে যে ভরিয়ে।। মন বলছে তুমি আসবেই পথ চাওয়ার শেষ এই এল বুঝি মোর দ্বারে তোমার আমন্ত্রণ এ মন জীবন এ গান এ প্রাণ তোমায় দেব গো সাজিয়ে।। পীচ ঢালা পথ (২৪ এপ্রিল ১৯৭০)

ভুলে গেছি সুর ওগো স্বরলিপি নেই

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: রবীন ঘোষ, ভুলে গেছি সুর ওগো স্বরলিপি নেই প্রাণের মুকুরে তারই ছায়া যে পড়ে বলো না শোনাব গান আমি কী করে।। নয়নে কাজল হয়ে সে তো হেসেছে স্বপনে আপন হয়ে কাছে এসেছে আমারে জড়িয়ে গেছে সুরভি হারে ॥ ঝিনুকে প্রেমের ছবি সে তো এঁকেছে মুকুলে ফাগুন হয়ে শুধু ডেকেছে প্রাণের অতিথি হাসে গানের দ্বারে ॥ পীচ ঢালা পথ (২৪ এপ্রিল ১৯৭০)

ঝড়ের পাখি হয়ে উড়ে

শিল্পী: আহমদ জামান চৌধুরী গীতিকার: আহমদ জামান চৌধুরী, সুরকার: রবীন ঘোষ, ঝড়ের পাখি হয়ে উড়ে যেতে হবে কত দূরে জানি না কোনো সীমানা হারিয়েছি ঠিকানা ॥ এত বড় এই পৃথিবী খুঁজে তারে পাব কি না [যে গেছে সে চলে যাক যাক না তারে তুমি মিছিমিছি খুঁজো না] মন যে বাঁধন মানে না ভুলিতে তারে তাই পারি না [লা লা লা লা লা] ॥ তোমাদের এই ভুবনে ভেঙে গেছে মনবীণা [যে গেছে সে চলে যাক যাক না তারে তুমি মিছিমিছি খুঁজো না] দাও বলে মোর ঠিকানা আমি তো এইখানে অচেনা [লা লা লা লা লা] ॥ পীচ ঢালা পথ (২৪ এপ্রিল ১৯৭০)

ফুলের কানে ভ্রমর এসে চুপিচুপি বলে যায়

শিল্পী: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান গীতিকার: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সুরকার: রবীন ঘোষ, ফুলের কানে ভ্রমর এসে চুপিচুপি বলে যায় তোমায় আমার সারাটি হৃদয় নীরবে জড়াতে চায় ॥ এসেছ আমার প্রাণে গানের মালা হাতে চেয়েছি তোমায় শুধু আমার কাছে পেতে ফুলের সুরভি হয়ে ভালোবেসে যেতে ॥ বকুল ঝরানো পথে জীবনে তুমি এলে তোমার পরশে যেন ভুবন ভরে দিলে মুগ্ধ আবেশে দেখি দুটি হিয়া দোলে ॥ পীচ ঢালা পথ (২৪ এপ্রিল ১৯৭০)

দুনিয়ার যত গরিবকে আজ জাগিয়ে দাও

শিল্পী: আল্লামা ইকবাল গীতিকার: আল্লামা ইকবাল দাও দাও দাও দাও দুনিয়ার যত গরিবকে আজ জাগিয়ে দাও ওমরাহদের সিংহদ্বারের ভিত্তি কাঁপিয়ে দাও।। শ্রমিকের মনে আগুন জ্বালাও কঠিন আত্মবিশ্বাসে ছোট পাখিদের ঈগলের সাথে যুদ্ধে লড়িয়ে দাও ॥ জনতাই হবে দেশের মালিক ঐ আসে সেই জামানা ঘুণে ধরা যত পুরোনো বিধান আজকে মিটিয়ে দাও।। যে দেশের বুকে পায় না চাষিরা পেটের ক্ষুধার অন্ন সে দেশের প্রতি শস্যকণায় আগুন লাগিয়ে দাও।। আমার এ মন পায় না শান্তি শ্বেতপাথরের মহলে আমার জন্য মাটির একটা কুটির বানিয়ে দাও।। মূল : আল্লামা ইকবাল * অনুবাদ ও সুর : খান আতাউর রহমান, জীবন থেকে নেয়া (১০ এপ্রিল ১৯৭০)

এ খাঁচা ভাঙব আমি কেমন করে

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান এ খাঁচা ভাঙব আমি কেমন করে এ খাঁচা ভাঙব আমি কেমন করে।। দিকে দিকে বাজল যখন শিকলভাঙার গান আমি তখন চোরের মতো হুজুর হুজুর করায় রত চাচা আপন বাঁচা বলে বাঁচিয়েছি প্রাণ আসলে ভাই একা একা বাঁচার নামে আছি মরে ॥ কথা-সুর-কণ্ঠ : খান আতাউর রহমান, জীবন থেকে নেয়া (১০ এপ্রিল ১৯৭০)

অনুরাগের গানে গানে আরও কাছে এলেই যদি

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: আলতাফ মাহমুদ, অনুরাগের গানে গানে আরও কাছে এলেই যদি তোমার প্রেমের মোহনাতে ছুটে গেলে হৃদয়নদী কীসের ক্ষতি, কীসের ক্ষতি, কীসের ক্ষতি ॥ এ আঁখি পাখি হয়ে যদি উড়ে যায় ও হাসি বাঁশি হয়ে বাজে মন ছায় আবেশে এ হাত ধরে রাখো যদি নিরবধি কীসের ক্ষতি ॥ এ চাওয়া পাওয়া হয়ে যদি কথা কয় এ গীতি স্মৃতি হয়ে যদি জেগে রয় নয়নে পাব বলে যদি আমি নয়ন মুদি কীসের ক্ষতি ॥ আঁকাবাঁকা (২৭ মার্চ ১৯৭০)

শালুক শালুক ঝিলের জলে ভ্রমর বাউল দোলে

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: আলতাফ মাহমুদ, শালুক শালুক ঝিলের জলে ভ্রমর বাউল দোলে দোদুল দোদুল মনময়ূরী পেখম পেখম খোলে।। স্বপ্নগহনে রেখেছে ছোট্ট কুঁড়ি গন্ধ ছড়িয়ে মুগ্ধ নয়নে খেলেছে লুকোচুরি লজ্জা জড়িয়ে তুমি কি তৃষ্ণা হয়ে এসেছ স্বপ্ন লয়ে প্রাণেরই মহুল মহুল ছায় ॥ দুষ্টু পাখিটি প্রেমের পিঞ্জিরাতে বন্দী হয়েছে সপ্ত সুরেতে মনের এ আঙিনাতে ঝরনা বয়েছে তুমি কি সঙ্গোপনে দিলে গো ছন্দ এনে আমারই লাজুক লাজুক পায় ॥ ক খ গ ঘ ঙ (১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০)

এই, যদি বলি যেতে নাহি দেব

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: আলতাফ মাহমুদ, এই, যদি বলি যেতে নাহি দেব তবু কি তুমি চলে যাবে, চলে যাবে? মন বলে শুধু কাছে রব তবুও চলে যেতে হবে, যেতে হবে।। এখনো অনেক কিছু হয়নি বলা রাতের কথা জানে চন্দ্রকলা দুজনার অনুরাগে রাঙানো এ ক্ষণ পেয়েছি ওগো পেয়েছি অনুভবে [তবু কি তুমি চলে যাবে? বাহ্, যাব না? যাবই তো!] জড়ালে আমায় এ কী কৌতূহলে হাওয়ার বাঁশি ডেকে তাই তো বলে হৃদয়ের দুটি তারে মিলনের গান চিরদিন ওগো চিরদিন জেগে রবে [তবুও—চলে—যেতে হবে…] ॥ ক খ গ ঘ ঙ (১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০)

আমায় ঝুমকো লতার বাজুবন্ধে কে জড়াল

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: আলতাফ মাহমুদ, আমায় ঝুমকো লতার বাজুবন্ধে কে জড়াল আমি তার নাম বলব না না আমায় লজ্জারাঙা বেনারসি কে পরাল আমি তার নাম বলব না ॥ আহা চলতে গেলে চরণ কেন থামে আমার চোখে কেন এত শরম নামে আমার পথের পরে কনকচাপা কে ছড়াল আমি তার নাম বলব না ॥ আমি ভালোবাসায় তারে পেলাম নাকি আমার এত পাওয়া আহা কোথায় রাখি আমার রিক্ত হিয়া অনুরাগে কে ভরাল আমি তার নাম বলব না। ক খ গ ঘ ঙ (১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০)

তুমি সুন্দর হে এসো না

শিল্পী: আইরিন পারভিন, মুজিব আলম; গীতিকার: আল কামাল আবদুল ওয়াহাব, সুরকার: সুবল দাস, তুমি সুন্দর হে এসো না মধুমিতা নামে ডাকো না ॥ কত যে দোলা মনেতে ওগো সুন্দর এসো স্বপনে তোমারে চেয়ে বলো না কী পেয়েছি এ জীবনে।। কে তুমি দিলে যে দোলা এই জীবনে ওগো বলো না ব্যাকুল হয়ে ডাকি যে এ নহে শুধু ছলনা ॥ সহসা কেন যে আসে মোর কণ্ঠের বাণী জড়ায়ে পেয়েছি ওগো তোমারে হায় শুধু যে প্রাণ ভরায়ে ॥ তানসেন (৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০)

খোকন সোনা বলি শোনো

শিল্পী: আঞ্জুমান আরা বেগম, গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, খোকন সোনা বলি শোনো থাকবে না আর দুঃখ কোনো মানুষ যদি হতে পারো ॥ এই কথাটি মনে রেখো দুখি জনের সহায় থেকো কারও মনে আঘাত দিলে নিজেই ব্যথা পাবে আরও ॥ সত্য কথা সদাই বলো সঠিক পথে এগিয়ে চলো লোভে যে পাপ, পাপে মরণ সকল কাজেই স্মরণ করো ॥ লেখাপড়া শিখতে হবে তবে বড় বলবে সবে বিপদ যদি আসে কভু সাহস নিয়ে ধৈর্য ধরো আমার দোয়া সাথে রবে যেথায় থাকো, যেমন ভাবে— নিজের জীবন নিজেই গড়ো ॥ সন্তান (২৩ জানুয়ারি ১৯৭০)

ঝনক ঝনক পায়েল বাজে

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, ঝনক ঝনক পায়েল বাজে কার গুনগুন গাওয়াতে লাজুক লাজুক হৃদয় দোলে মৌ ঝুরঝুর হাওয়াতে আঁচল উড়ে যায় করি কী উপায় আঁচল উড়ে যায়, যায় যায় যায়।। ঝরনা কেন মাতাল হলো নীল পাহাড়ের গায় কার পরশে সবকিছু যে নতুন হয়ে যায় আমি তো কিছুই বুঝি না যে মন চুরি করে নিল কে যে ফাগুন ফাগুন মেলাতে।। এত খুশি কোথায় রাখি ভেবে মরি আজ হঠাৎ যেন পেলাম ছুটি, ভুলেছি সব কাজ আমি যেন নেই আমার মাঝে কোথায় যাব জানি না যে অলস অলস বেলাতে।। সূর্য উঠার আগে (৯ জানুয়ারি ১৯৭০)

যদি এমন করে অভিমানে রবে দূরে সরে

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, যদি এমন করে অভিমানে রবে দূরে সরে বনের মুকুল সেই বেদনায় যাবে ওগো ঝরে ॥ কথার আঘাত কথা ওগো তুমি দিয়েছিলে নিজে তুমি নিজের কথা কখন ভেঙে দিলে পথ চাওয়ার ক্লান্তিতে মোর নয়ন গেছে ভরে তুমি এমন করে অভিমানে যেও না দূরে সরে ।। চোখের আড়াল জেনো তুমি মনের আড়াল নয় তোমার মাঝেই হারিয়ে গেছি; সেই তো আমার জয় প্রাণের তারে বেঁধেছি গো তোমায় আপন করে যখন দূরে থাকি তোমার কথা শুধুই মনে পড়ে কাছে এলে লাজে কেন মরমে যাই মরে আহা জেনে গেছি ভালোবাসা বলে ওগো কারে দুটি হৃদয় বাঁধা যখন একই সুরের হারে দুটি হৃদয় বাঁধা হলো একই সুরের হারে ।। সূর্য উঠার আগে (৯ জানুয়ারি ১৯৭০)

ঐ আকাশটা ঘুরে এসেছি

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান, ঐ আকাশটা ঘুরে এসেছি মেঘে মেঘে কত যে ভেসেছি ওগো তোমার প্রেমের তুলনায় ওরা কিছু নয় কিছু নয় তাই তোমাকেই ভালোবেসেছি।। ছিল যেথা নিঃসীম শূন্যতা সেই মনে এল কী যে পূর্ণতা তোমার দুখানি চোখে অপলকে চেয়ে থেকে আমি অন্তর ভরে নিয়েছি।। এই মন মাখি যদি আকাশে, ঐ প্রভাত হবে গো ম্লান এই সুর ঢালি যদি পাহাড়ে, থেমে যাবে ঝরনার গান। মন যখন তোমাকে চিনত না জীবনের মানেটাই জানত না তাই তো এ পৃথিবীতে তোমার দুখানি হাতে আমি জীবনের ভার দিয়েছি ॥[১৩] কসম উস ওয়াক্ত কি (১২ ডিসেম্বর ১৯৬৯)

তুমি যদি বলে দিতে

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: খোন্দকার নূরুল আলম, [—প্রিয়তম। উঁহু, শুধু ‘প্ৰিয়’। না না, ‘বন্ধু’। উঁহু, তাও নয়।] তুমি যদি বলে দিতে কী বলে তোমায় আমি করব সম্বোধন মুক্তি পেত হয়তো আমার লজ্জা ঢাকা এ মন ॥ তুমি তো শুধু চেয়েছ আমার অনেক খবর ওগো জানতে তোমার কথা লেখোনি কিছুই তোমার চিঠির এ প্রান্তে [—তার চেয়ে নীরবতা কি ভালো ছিল না?] পথ চেয়ে যেত শুধু তন্দ্রাহারা দু’নয়ন ॥ এমনও যে হয়ে যায়, এমনও যে হতে পারে এ কথা শিখেছি সাজালে যখন গানের অলংকারে। দেবার মতো একটি খবর শুধু আমার ওগো এই তো— তুমি জানো, তবু জানো নাই আমার কাছে তুমি নেই তো [—এর চেয়ে বেশি আর কী লিখব!] অনুভবে জাগে শুধু চঞ্চলতা অনুক্ষণ ॥ যে আগুনে পুড়ি (২ জানুয়ারি ১৯৭০)

কে যেন আজ আমার চোখে

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: খোন্দকার নূরুল আলম, কে যেন আজ আমার চোখে নতুন আলো দুলিয়ে দিল চলার পথের ক্লান্তিগুলো কে যেন আজ ভুলিয়ে দিল ॥ আমার গানের মণিহারে সাজিয়ে দিতে চাই যে তারে সে-ই তো প্রথম সুরের পরশ আমার প্রাণে বুলিয়ে দিল ॥ হঠাৎ পাওয়া একটু খুশি যেন ভরিয়ে দিল মন, জানি না কখন। মুগ্ধ প্রাণের অভিসারে সে-ই কি এল পাইনি যারে নীরব-নিঝুম অন্ধকারে প্রেমের প্রদীপ জ্বালিয়ে দিল ॥ যে আগুনে পুড়ি (২ জানুয়ারি ১৯৭০)

নীরব পৃথিবী দুয়ারে তোমার

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: খোন্দকার নূরুল আলম, নীরব পৃথিবী দুয়ারে তোমার রয়েছি দুহাত পেতে যে আগুনে পুড়ি তারে উৎসরি কেন যে পারি না যেতে।। আমার ক্লান্ত চোখের পাতায় বঞ্চিত রাত থমকে দাঁড়ায় দীর্ঘশ্বাসের প্রলয় তিমিরে বেদনা ওঠে যে মেতে।। জীবনের বীণা আহত ব্যথায় তোলে শুধু ঝংকার নিষ্ফল আশা শ্যামল মাটিতে করে যেন হাহাকার। হাজার স্তব্ধ অবাক তারায় পুঞ্জিত ব্যথা কেন যে ঝরায় যতটুকু পাই তারও চেয়ে বেশি কেন যে হয় গো দিতে।। যে আগুনে পুড়ি (২ জানুয়ারি ১৯৭০)

ক্ষণে গোরাচাঁদ ক্ষণে কালা

শিল্পী: অরিজিৎ সিং ছবি: লহ গৌরাঙ্গের নাম রে গীতিকার: ঋতম সেন সুরকার: ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত কম্পিত তনুদল গুঞ্জিত বাদল পুঞ্জিত শ্যামল মালা।। নওল কিশোর মম কোমল ননীর সম ক্ষণে গোরা চাঁদ, ক্ষণে কালা। জনমিয়া দেখি নাহি হেন রূপ চাঁদের মুকুর যেন চাঁদের স্বরূপ। পরশিয়া মনোহর, চিত জনু থরোথরো মধুকূপী হেরি যথা অবশ মধূপ। চুয়াচন্দন হার, ফুল শয্যা বাহার প্রিয় বিনে কন্টক জ্বালা। নওল কিশোর মম কোমল ননীর সম ক্ষণে গোরা চাঁদ ক্ষণে কালা।। বিগলিত চিকুর, মৃদু হাসে মধুর, ঝংকৃত নূপুর, দেহে মোর লহু লহু চুমিত, বদন বিকশিত, কিঙ্কীত কিঙ্কিনী, কানুরই ওর। কম্পিত তনুদল গুঞ্জিত বাদল পুঞ্জিত শ্যামল মালা।। নওল কিশোর মম কোমল ননীর সম ক্ষণে গোরা চাঁদ, ক্ষণে কালা।

ঢেউয়ে দোলায় ডিঙা আমার তার সাথে এই মন

শিল্পী: লোকমান হোসেন ফকির, সাবিনা ইয়াসমীন; গীতিকার: শাহেদ আলী মজনু, সুরকার: ওমর ফারুক, ঢেউয়ে দোলায় ডিঙা আমার তার সাথে এই মন চান্দের আলো উদাস করে আজকে অকারণ বন্ধু, কেন আমার মন ॥ দুই চোখেতে ঘুম আসে না কাছে পেয়েও মন হাসে না আকুল এ মন ব্যাকুল থাকে সদায় উচাটন বন্ধু, কেন অকারণ ॥ ও নদীজল, যার লাগিয়া বইছ দিবারাতি হবে কি আর সেজন তোমার জীবন-মরণ সাথি। এমনি করে ভেসে স্রোতে দূর অজানায় হারিয়ে যেতে তোমায় লয়ে ঘর বাঁধিবার স্বপ্নে বিভোর মন কন্যা, কেন আমার মন ॥ মলুয়া (১৯ ডিসেম্বর ১৯৬৯)

প্রেমের নাম বেদনা সে কথা বুঝিনি আগে

শিল্পী: মাহমুদুন্নবী, গীতিকার: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সুরকার: সত্য সাহা, প্রেমের নাম বেদনা সে কথা বুঝিনি আগে দুটি প্রাণের সাধনা কেন যে বিধুর লাগে ॥ যে প্রেম দিল শুধু ছলনা কেন তারে ভোলা যায় না তৃষিত আঁখি তবু পথ চেয়ে তার পরশ কেন মাগে ।। যে মন প্রতিদান পেল না সান্ত্বনা সে তো চায় না আহত আশা কেন মিছে বারে বার স্মৃতি হয়ে জাগে ॥ * নীল আকাশের নীচে (১০ অক্টোবর ১৯৬৯)

ঢেউ দিও না জলে

শিল্পী: আরতি ধর, গীতিকার: লোকমান হোসেন ফকির, ঢেউ দিও না, ঢেউ দিও না, ঢেউ দিও না জলে ওলো প্রাণ সজনী, আর জলে ঢেউ দিও না।। এই জলেরই আরশিতে সই দেখি বন্ধুর মুখ নিদয়া তুই হইস না সখি, ভাঙিস না সে সুখ ঐ ছবি মোর মন কাইড়াছে চোখ সরানো যায় না ॥ নয়নে হেরিয়া সে রূপ মরিলাম মরমে মনের কথা কইতে নারি বাধে যে শরমে। না জানিয়া না শুনিয়া মন সঁপিলাম তায় বারে বারে ঘাটে আসার ইচ্ছা মনে লয় বলতে কি সই পারিস কেন মন হইলো দিওয়ানা ॥ মলুয়া (১৯ ডিসেম্বর ১৯৬৯)

কী আনন্দ দিয়ে এ ভুবন মাতিয়ে

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান, কী আনন্দ দিয়ে এ ভুবন মাতিয়ে এ কী স্বপ্ন এঁকেছ নয়নে কী যে গান শুনিয়ে এই মন মাতিয়ে এ কী আগুন জ্বেলেছ ফাগুনে ॥ দুটি পাখি-মন আপন মনে যায় উড়ে যায় কোন লগনে যেদিকে চোখ যায় যাক না চলে হারিয়ে যাব এই দুজনে কোন মায়াবী মায়া কোন সোনালি ছোঁয়া এ কী শান্তি এনেছে মিলনে ॥ তোমায় পেয়েছি পরান ভরে তাই তো বেঁধেছি জীবনডোরে স্মরণ রেখো মনের বদলে মনটি দিলাম উজাড় করে কোন সুর বাজিয়ে কী বা তাল সাজিয়ে এ কী ছন্দ জাগালে জীবনে ॥ আলিঙ্গন (১২ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯)

হেসে খেলে জীবনটা যদি চলে যায়

শিল্পী: মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, গীতিকার: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সুরকার: সত্য সাহা, হেসে খেলে জীবনটা যদি চলে যায় ভাবনা কী আর তাতে ক্ষতি বলো কার সেই তো ভালো মন যাহা চায় ॥ এই যে দুনিয়া চিড়িয়াখানা কে রাখে তার খোঁজ আজগুবি সব কাণ্ড কত এখানে ঘটে রোজ রোজ যাচ্ছে মানুষ চাঁদে আর পড়ছে কেউ বা ফাঁদে কেন আমি মিছে ভেবে করি শুধু হায় হায় ॥ মন্দ-ভালো সাদা-কালো হয়েছে একাকার কার পোশাকে কে যে ঘোরে চেনা হলো ভার চোখে লাগে ধাঁধা সব ঘূর্ণিচাকায় বাঁধা দেখেশুনে বুঝে নেয়া সে যে বড় দায়।। * নীল আকাশের নীচে (১০ অক্টোবর ১৯৬৯)

গান হয়ে এলে মন যেন বলে

শিল্পী: ফেরদৌসী রহমান, গীতিকার: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সুরকার: সত্য সাহা, গান হয়ে এলে মন যেন বলে সারা বেলা এত সুর নিয়ে নিজেরে কেমনে বলো রাখি লুকিয়ে ॥ ওগো মোর ভাবনা ওগো মোর কামনা এসেছ জীবনে তবু তোমারে যেন বুঝি না এ কেমন অলংকারে নিলে জড়িয়ে ॥ তুমি মোর নয়নে তুমি মোর স্বপনে যে ছবি এঁকেছ সে তো শুধুই রবে গোপনে এ হৃদয় অহংকারে দিলে ভরিয়ে ॥ নীল আকাশের নীচে (১০ অক্টোবর ১৯৬৯)

এ কী চঞ্চলতায় মন ভরেছে

শিল্পী: কে জি মোস্তফা গীতিকার: কে জি মোস্তফা, সুরকার: আনোয়ার উদ্দীন খান, এ কী চঞ্চলতায় মন ভরেছে দুচোখে কেন রং লেগেছে আমি জানি না, আমি বুঝি না ॥ এ মন যারে ডাকে সে দূরে দূরে থাকে সে ধরা কেন দেয় না কেন কাছে আমারে সে টানে না।। আজ মধুর মধুর কেন লাগছে আহা গানের পাখিরা যেন ডাকছে। এ কার ছোঁয়া মনে লাগে ক্ষণে ক্ষণে সে চেনা কি অচেনা কী যে বলে আভাসে এ দখিনা।। মায়ার সংসার (২২ আগস্ট ১৯৬৯)

দেখে এলাম রূপমহলে

শিল্পী: কে জি মোস্তফা গীতিকার: কে জি মোস্তফা, সুরকার: আনোয়ার উদ্দীন খান, দেখে এলাম রূপমহলে মজার ছবি এক চলছে ইস্টার আজাদে গাড়ি করে মিস্টার বেগম সাহেব নিয়ে চলছে ॥ শাবিস্তান আর নিশাতে জোনাকি মধুমিতাতে হাউসফুল দেখে এলাম যায় ডায়ানা কো কো কোরিনা ॥ মুন লায়নে তাজমহলে নাজে আর নাগরমহলে ট্যাকনিকালার ফাইটিং পিকচার চলে। গুলিস্তান আর বলাকায় টেডি বয় মর্নিং শো-তে যায় দুটাকা ষাট পয়সা দাও না ভাবি ও ভাবি, প্যারে ভাবি, ভাবি নেহি, তু মেরি মা হ্যায়, প্যারে ভাবি ॥ মায়ার সংসার (২২ আগস্ট ১৯৬৯)

আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে যায়

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে যায় কেন দিয়ে যায় কেন দিয়ে যায় দূর অজানায় আমি জানতে পারিনি, কে সে।। খুলেছি আমার হৃদয় দুয়ার অতিথি এলো নিয়ে উপহার পলাতকা মন বাইরে এলো হয়ে অভিসারিণী ॥ আভাসে ইঙ্গিতে তারে শুধু কাছে পাই সে যেন আমায় দিল অজানা নতুন ঠাঁই। বাহুলতায় জড়িয়ে গেলাম মরণ যেন ডেকে নিলাম কখন অলখে হারিয়ে গেছি হয়ে দিশাহারিণী ॥ আলিঙ্গন (১২ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯)

ঘুরে এলাম কত দেখে এলাম

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, ঘুরে এলাম কত দেখে এলাম অশান্ত মনে আমি ছুটে গেলাম আমার গাঁয়ের মতো কভু দেখিনি আহা সে যে আমার জন্মভূমি ॥ দূর আকাশে পান্থ পাখি নীড় ছেড়ে চলে যায় অস্তবেলায় আবার ফেরে আপন ঠিকানায় তেমনি কোথাও ঘরছাড়া মন রইতে পারিনি ছেড়ে আমার প্রিয় এই জন্মভূমি।। ও নদী রে, আঁকাবাঁকা পন্থ রে বাইয়া কতই দ্যাশে যাও কইবারনি রে পারো বন্ধু দেখছ নাকি কোথাও তুমি এমন সোনার গাঁও ও নদী রে, দেখছ নাকি এমন সোনার গাঁও। এই যে মাটি এই বনানী কত আপন মনে হয় এই পৃথিবীর আর কিছুই তো মায়ের মতো নয় জন্মভূমি মা গো তোমায় ভুলতে পারিনি তুমি আদরের জন্মভূমি।। আলিঙ্গন (১২ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯)

দিগন্তে দাঁড়িয়ে দুবাহু বাড়িয়ে

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, দিগন্তে দাঁড়িয়ে দুবাহু বাড়িয়ে ডেকে নিতে চায় কে যেন আমায় ডেকে নিতে চায়।। আমি কার কে আমার কেন ভয় মিছে আর অনন্ত জীবনের অন্বেষণে মন যদি কিছু খুঁজে পায়।। দয়াল মুর্শিদ গো, চাতক মরে জল পিপাসায় মেঘের দেখা নাই তুমি থাকতে ভবে পথের দিশা কেন নাহি পাই তুমি দয়া করে এসো দয়াল আমার হৃদমাঝারে দয়াল মুর্শিদ গো ॥ এ কেমন আবাহন জাগাল আলোড়ন সঞ্চিত হৃদয়ের অন্ধকারে তার দেখা পাব যে কোথায়।। আলিঙ্গন (১২ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯)

আমি যে কেবল বলে চলি

শিল্পী: আবু হায়দার সাজেদুর রহমান গীতিকার: আবু হায়দার সাজেদুর রহমান, সুরকার: আজাদ রহমান, আমি যে কেবল বলে চলি, তুমি তো কিছু বলো না মিষ্টি মুখে হাসি হেসে করছ না তো ছলনা। তোমায় ভালোবেসেছি আমি যেমন করে তুমি কি আমারই মতো ভালোবাসো আমারে তুমি যে আমার জীবনসাথি সে কথা কি জানো না ॥ বলো বলো গো বলো, বলো কিছু তো বলো প্রণয় মধুর আলাপে মনের দুয়ারখানি খোলো মিনতি করি দুহাত ধরে নীরবে আর থেকো না ॥ কেমনে কেমনে বোঝাব বলো তুমি যে আমার কত আপনার কেমনে বোঝাব বলো নয়নে নয়ন রেখে দেখো হাতেতে হাত রেখে জেনে নাও তুমি যে আমার প্রাণের প্রিয় সে কথা কেন বোঝো না ॥ আগন্তুক (১ আগস্ট ১৯৬৯)

বন্দী পাখির মতো মনটা কেঁদে মরে

শিল্পী: আবু হায়দার সাজেদুর রহমান গীতিকার: আবু হায়দার সাজেদুর রহমান, সুরকার: আজাদ রহমান, বন্দী পাখির মতো মনটা কেঁদে মরে মুক্ত আকাশখানি কে আমার নিল কেড়ে ও পাহাড় ও নদী, বলে দাও কী নিয়ে থাকি এ ব্যথা কী দিয়ে ঢেকে রাখি ॥ স্বর্ণ-ইগল মন আমার অসীম আকাশে ওড়ে না আর ডানা তার ভেঙে গেছে ঝড়ের আঘাতে জানো না কি।। দিনের আলো রাতের আঁধার আমার চোখে সবই আঁধার জানি না এ জীবনে কত ব্যথা আছে বাকি।। আগন্তুক (১ আগস্ট ১৯৬৯)

অলিরা গুনগুন গুনগুন গুনগুনিয়ে

শিল্পী: আজিজুর রহমান গীতিকার: আজিজুর রহমান, সুরকার: আজাদ রহমান, অলিরা গুনগুন গুনগুন গুনগুনিয়ে বাতাসে রুমঝুম রুমঝুম রুমঝুমিয়ে কলির কানে গান শুনিয়ে স্বপনে দোলা দিয়ে যায়।। মন আজ যারে কাছে পেতে চায় দূর থেকে ডাকে সে ইশারায় কাছে কেন আসে না তবে কি সে আমারে ভালোবাসে না।। এত ফুল নিয়ে আজ কী করি বারে বারে তাই ভেবে মরি কোথায় যাই বলো না মন যে মানে না, মানে না, মানে না। আগন্তুক (১ আগস্ট ১৯৬৯)

প্রিয়তম তুমি এলে

শিল্পী: সাবিনা ইয়াসমীন, বশীর আহমদ; গীতিকার: সৈয়দ শামসুল হক, সুরকার: আলী হোসেন, প্রিয়তম তুমি এলে তুমি এলে জীবনে মধুময় লগনে প্রিয়তমা তুমি এলে তুমি এলে জীবনে মধুময় লগনে প্রিয়তম! প্রিয়তমা! মোর হৃদয় দিলে বাসনার দীপ জ্বেলে মোর জীবনে তুমি কত সুর নিয়ে এলে এই ভালোবাসা দিল তারে ভাষা ভরে ওঠে কূজনে ॥ মোর পরানে ওগো বাঁশি হয়ে তুমি বাজো আমি জানিনি আগে এত কাছে মোর আছ মোরা মুখোমুখি যেন চখাচখি ফুলবনে বিজনে ॥ অবাঞ্ছিত (১৩ জুন ১৯৬৯)

দেখা হলো পথ চলিতে

শিল্পী: মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, গীতিকার: সৈয়দ শামসুল হক, সুরকার: আলী হোসেন, ও-ও-ও, দেখা হলো পথ চলিতে সাগর যেন আহা ডাগর আঁখি স্বপনবনে সে তো সোনার পাখি মন চায় মন দিতে।। জীবন পথে একা চলেছি সহসা তারে আমি দেখেছি ভাবনা এলোমেলো সে যেন কাছে এল কিছু বলিতে ।। সে কেন আরও কাছে এল না কণ্ঠে ফুলমালা নিল না শুধু যে মন নিয়ে আমারই পথ দিয়ে গেল চকিতে।। অবাঞ্ছিত (১৩ জুন ১৯৬৯)

আমি সারাটি জীবন শুধু তোমার মুখের পানে চেয়ে থাকব

শিল্পী: আবদুল লতিফ গীতিকার: আবদুল লতিফ, আমি সারাটি জীবন শুধু তোমার মুখের পানে চেয়ে থাকব সারাক্ষণ আমি আমার হৃদয় দিয়ে তোমাকেই ভালোবাসব ॥ চোখের তুলিতে যে ছবি তোমার বারে বার আমি এঁকেছি প্রাণের ছোঁয়ায় যে রূপ তোমার সারাদিন আমি দেখেছি সে মধুর স্মৃতি সুরের বাঁধনে চিরকাল ধরে রাখব।। তোমার অধরে গোলাপের হাসি বলাকার মতো ভাসানো কপোলে তোমার মেহেদীর রঙ ফাগুনের রঙে রাঙানো সে রঙের ছোঁয়ায় পলকবিহীন সারারাত আমি জাগব।। শেষ পর্যন্ত (৮ আগস্ট ১৯৬৯)

মন যারে দিয়েছি সে তো মোরে চায় না

শিল্পী: ইসমত আরা, গীতিকার: মাসুদ করিম, সুরকার: এ মান্নান, মন যারে দিয়েছি সে তো মোরে চায় না যে ছবি এঁকেছি মনে সে তো ভোলা যায় না ॥ অনেক আশায় পথ চলেছিনু হায় সে পথের শেষ ওগো জানি না কোথায় মনের ছায়া পড়ে মন হয় আয়না।। কখন তরির পাল ঝড়ের হাওয়া লেগে গেছে ছিঁড়ে দেখেও দেখে না হায় তটিনীস্রোত কভু পিছু ফিরে। সাগরবেলায় এসে কুড়াতে ঝিনুক যার দেখা পেয়েছিনু না-ই সে চিনুক কোথায় আজ পাব তার হারানো সে ঠিকানা।। প্রতিকার (৪ এপ্রিল ১৯৬৯)

আরে, টাকা তুমি সময়মতো আইলা না

শিল্পী: আনোয়ার উদ্দীন খান, গীতিকার: সৈয়দ শামসুল হক, সুরকার: বশীর আহমদ, আরে, টাকা তুমি সময়মতো আইলা না এই টাকা চাইলাম যাহার তরে, হায় সে চইলা গেল পরের ঘরে তোমারে পাইলাম কিন্তু তারে তো পাইলাম না ॥ এখন টাকার ছড়াছড়ি তোমার ওপর গড়াগড়ি ইচ্ছা করলে দিতে পারি কিন্তু আমি দিমু না তাতে যে মনের জ্বালা হায় রে আমার মিটব না আমি যারে হারাইলাম তারে পাইমু না।। টাকা তুমি দেখতে গোল করো তুমি গন্ডগোল আমারে খাওয়াইছ ঘোল, আমি কিন্তু ছাড়ুম না টাকা তোমায় শাস্তি দিমু, আমি খরচ করুম না আরে সিন্দুকে তো বাহাদুরি চলব না ॥ ময়নামতি (১৬ মে ১৯৬৯)

জীবনের আঙিনায় মন ভোমরা

শিল্পী: ইসমত আরা, গীতিকার: ফজল-এ-খোদা, সুরকার: মোহাম্মদ ওসমান খান, জীবনের আঙিনায় মন ভোমরা গুনগুনিয়ে কেন এল জানি না হৃদয় মোর এই লগনে কার ইশারা পেল।। কেন যে ভোরের পাখি করে আজ ডাকাডাকি কানে কানে দখিন হাওয়া কী যে কয়ে গেল।। ঘুমের ঘোরে যার ছবি দেখেছি হৃদয় মাঝে তারে গোপনে দেখেছি যার ছবি দেখেছি। কেন যে মনের বনে দোলা দেয় ক্ষণে ক্ষণে চুপিচুপি এসে যেন মন নিয়ে গেল ॥ প্রতিকার (৪ এপ্রিল ১৯৬৯)

হরিণ হরিণ নয়ন কেন ছলছল

শিল্পী: বশীর আহমদ, গীতিকার: সৈয়দ শামসুল হক, সুরকার: বশীর আহমদ, হরিণ হরিণ নয়ন কেন ছলছল অভিমানী বলো ওগো কী হলো ॥ সজনী, বলো না দুটি কথা সহে না প্রাণে এ নীরবতা আঁধারে হারাল কেন হাসি বাজে না কেন যে মনবাঁশি আমি যে তোমারই— সে কি জানো না হৃদয়ে কীসেরই আগুন জ্বলজ্বল ॥ যা কিছু শুনেছ চুপিসারে সে কি গো জীবনে হতে পারে যে মালা দিয়েছি তব গলে ফিরিয়ে দিও না কোনো ছলে তুমি যে আমারই— সে কি মানো না আনো গো খুশির হাসি টলমল ॥ ময়নামতি (১৬ মে ১৯৬৯)

সুরের বাঁধনে তুমি যতই কণ্ঠ সাধো

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান, ছবি : সুরের বাঁধনে তুমি যতই কণ্ঠ সাধো তাকে আমি বলব না গান সে তো শুধু নিষ্প্রাণ ‘সা নি ধা পা মা গা রে সা’ নেই তাতে হৃদয়ের দান ॥ মরমের ছোঁয়া যদি শিল্পীর কণ্ঠে না থাকে গানের কবিতা যদি জীবনের ছবিটি না আঁকে তাকে আমি বলব না গান সে তো শুধু নিষ্প্রাণ ‘সা নি ধা পা মা গা রে সা’ নেই তাতে হৃদয়ের দান।। গান আহা গান যাকে বলে- লক্ষ মনের মধু স্বপ্ন, লক্ষ হারিয়ে যাওয়া লগ্ন তার বুকে ধিকিধিকি জ্বলে।। সে জ্বালার অনুভূতি যদি ঐ অন্তরে থাকে হৃদয় উজাড় করে সুরে সুরে ঢেলে দিও তাকে তাহলেই গান হবে গান না হলে তা নিষ্প্রাণ ‘সা নি ধা পা মা গা রে সা’ নেই তাতে হৃদয়ের দান ॥ মনের মত বউ (৪ এপ্রিল ১৯৬৯)

যারে ছেড়ে এলাম অবহেলে রে

শিল্পী: আবদুল আলীম, গীতিকার: জসীমউদ্দীন, সুরকার: আলতাফ মাহমুদ, যারে ছেড়ে এলাম অবহেলে রে সে কি আবার আসবে ফিরে দোতারা মোর বাজবে কি আর রে ও যার তার গিয়াছে ছিঁড়ে ॥ পোষা পঙ্খি ছেড়ে দিয়ে শূন্য খাঁচা লয়ে ওরে আর কত দিন কাঁদব রে আমি দেশান্তরি হয়ে সে ছিল মোর বুকের মণি রে এখন জ্বলে সাপের শিরে ॥ সে ছিল মোর আন্ধার ঘরে পূর্ণমুখীর চাঁদ ও তারে একদিনও না করলাম রে আদর পুরাইয়া সাধ আসমান তারে কাইড়া নিছে রে না আসে দিলে মাথার কিরে ॥ বেদের মেয়ে (১৩ জুন ১৯৬৯)

মান মান মান মানিক মান না

শিল্পী: আহমদ জামান চৌধুরী গীতিকার: আহমদ জামান চৌধুরী, সুরকার: আলী হোসেন, মান মান মান মানিক মান না আজ গান গান গান নয় রে গান না মামা রে মামা, জানি না সারেগামা ধরিস তবু যে বাহানা ॥ আমার কারখানাটা যে ঘরবাড়ি আসে ভাঙাচোরা যে কত গাড়ি নাটবল্টু নাড়ি যে, কলকব্জা সারি যে আর তো কিছুই বুঝি না ॥ (হেইয়া হো ইয়া হো হেইয়া হো ইয়া হো হেইয়া হো ইয়া হো রে) আরে চঞ্চল চঞ্চল মামা আমার গোমড়া মুখে রয় না আরে ঝটপট ঝটপট খুশি হয়ে কেন যে কথা কয় না লক্ষ্মীসোনা মানিক আমার আরে মন ভারী তোর যাক না ॥ নতুন নামে ডাকো (১০ মার্চ ১৯৬৯)

আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান, আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো জ্বালো আগুন আরও জ্বালো ঢালো আরও ব্যথা ঢালো ॥ আমি তো পুড়ে পুড়ে অঙ্গার হয়েছি দিয়েছ আঘাত যত সবই তা সয়েছি নিঠুর ওগো তবুও তোমাকে লেগেছে ভালো তোমাকে বেসেছি ভালো। এ হৃদয় ধূপসম তোমারই জ্বালায় যাক যদি জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।। কিছু তার সুরভি কিছু তার বেদনা পড়বে তোমার মনে যেখানেই থাকো না সেদিনের সে স্মৃতি জানি গো তোমার মনে জ্বালবে না আলো ॥ মনের মত বউ (৪ এপ্রিল ১৯৬৯)

কে তুমি এলে গো আমার এই জীবনে

শিল্পী: আহমদ জামান চৌধুরী গীতিকার: আহমদ জামান চৌধুরী, সুরকার: আলী হোসেন, কে তুমি এলে গো আমার এই জীবনে নতুন নামে ডাকব তোমায় শুধু যে আমি এই জানি ॥ সুখ দুঃখের মধুমিতা, রূপ-অরূপের মায়াময়ী স্বপনে স্মরণে যার ছায়া তুমি যে সেই সুধাময়ী শুধু আমি এই জানি এই জানি এই জানি ॥ কান্না হাসির চিরসাথি আলো-আঁধারে দীপময়ী গহনে বিজনে যার ছায়া তুমি যে সেই চিন্ময়ী শুধু আমি এই জানি এই জানি এই জানি ॥ স্বপ্ন দিয়ে গড়া এ ক্ষণ এসো না অমর করে রাখি সোনালি অঞ্জন মেখে তুমি এসো নীড়ে তুমি এসো পাখি এরই তরে জনম ধরে পিয়াসি আমি এই জানি ॥ নতুন নামে ডাকো (১০ মার্চ ১৯৬৯)

আহা কী যে সুন্দর হারিয়েছি অন্তর

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান, আহা কী যে সুন্দর হারিয়েছি অন্তর ভাষা নেই, নেই ভাষা নেই কথা নেই, নেই কথা নেই ॥ এ কী ঢেউ জীবনে, এ কী রং নয়নে এ কী জাদু করেছ, কী যে সুর ভরেছ দিশা নেই, নেই দিশা নেই কথা নেই, নেই কথা নেই।। এত ছবি এঁকেছি, এত রূপে দেখেছি এত ভালোবেসেছি, কত কিছু ভেবেছি সীমা নেই, নেই সীমা নেই কথা নেই, নেই কথা নেই।। মনের মত বউ (৪ এপ্রিল ১৯৬৯)

রূপানলে জ্বলবে বন্ধু নয়ন মিলাইও না

শিল্পী: আহমদ জামান চৌধুরী গীতিকার: আহমদ জামান চৌধুরী, সুরকার: আলী হোসেন, [মায়াবিনী ছলনাতে এই রুপালি রাতে কেন তুমি দিশাহারা নিজেরে বিলিয়ে দিতে] রূপানলে জ্বলবে বন্ধু নয়ন মিলাইও না রূপবতী সর্বনাশী কেন তুমি বোঝো না জড়ালে বন্ধু ছাড়া পাবে না ॥ হৃদয়ের ক্ষুধা কেন এখানে মেটাতে চাও সুরার পেয়ালাতে কেন ডুবিতে চাও ডুবিলে বন্ধু থই পাবে না ॥ রূপসীর এই হাটে দিনগুলি কেমনে কাটে তুমি বন্ধু রূপেই মজো মন আর কেন খোঁজো এই বাজারে তুমি মন পাবে না।। নতুন নামে ডাকো (১০ মার্চ ১৯৬৯)

কেমনে কাটাই বলো এ মধু রজনী

শিল্পী: ফেরদৌসী রহমান, গীতিকার: মাসুদ করিম, সুরকার: সত্য সাহা, কেমনে কাটাই বলো এ মধু রজনী তুমি না এলে কাছে হায় গো সজনী ॥ ‘পিউ পিউ পিউ কাঁহা’ ডাকে মনকোণে এসো প্রিয় চুপিচুপি মৃদু চরণে তুমি বিনা ঝরে যায় মনের কামিনী ॥ এই ফুলসাজ মোর যায় যে বিফলে আঁখি দুটি অভিমানে ভরে বাদলে তুমি বিনা মিছে হলো এমন যামিনী ॥ অপরিচিতা (২৯ নভেম্বর ১৯৬৮)

নতুন নামে ডাকো আমায় এই তো ছিল কামনা

শিল্পী: আহমদ জামান চৌধুরী গীতিকার: আহমদ জামান চৌধুরী, সুরকার: আলী হোসেন, নতুন নামে ডাকো আমায় এই তো ছিল কামনা রঙের পরশে রাঙিয়ে দিলে মনের যত বাসনা কে তুমি বলো না ॥ প্রজাপতি মনে আমার কেন যে বাজে শুধু বীণা আকাশ গীতালি কেন বলে, ‘কেঁদো না তুমি কেঁদো না’ এত যে সুখ সইবে কি, সইবে কি— জানি না ॥ মায়ার বাঁধনে দিয়ে ধরা খাঁচার পাখি মেলে ডানা সুখস্বপনে হয়ে বিভোর মানে না যে আর কোনো মানা এত যে সুখ সইবে কি, সইবে কি— জানি না ॥ কত না গানে সুরে সুরে করেছ আমায় রচনা সেই সুরেতে ভেসে আমি পেয়েছি আমার ঠিকানা এত যে সুখ সইবে কি, সইবে কি— জানি না ॥ নতুন নামে ডাকো (১০ মার্চ ১৯৬৯)

এ সংসারে কেউ নয় আপনজনা

শিল্পী: আবদুল আলীম, গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, এ সংসারে কেউ নয় আপনজনা চিনে নে তোর আপনারে ওরে অবুঝ মনা ॥ আসল রূপে নকল যত হানবে আঘাত অবিরত, ওরে যেমন কাল ভুজঙ্গ স্বভাবমতো তোলে বিষের ফণা ॥ মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে যদি ডাকিস তারে নিরবধি, ওরে মনের আঁধার ঘুচবে রে তোর দেখবি আলোর কণা সবার তরে আছে সে একজনা ॥ পালাবদল (২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯)