পোস্টগুলি

শিলাজিৎ মজুমদার লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আমিই তো তোমাকে বসুন্ধরার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছি

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার আমিই তো তোমাকে বসুন্ধরার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছি সোনাদাদের বাড়ির বাইরের দিকে পোড়ো চানঘর তার ছাদের ওপর ডুমুর গাছের বাস নগেন বলে একটা ছেলে একটা প্ল্যাস্টিকের প্যাকেটে ভর্তি করছিল ডুমুর সবে তখন বাচ্চা পেড়েছিল সাদা হলদে বেড়ালটা আমি আলাপ করাইনি ? আমিই তো তোমাকে ডেকেছিলাম জানালার শিকের ওপর হুমড়ি খেতে বাধ্য করেছিলাম | কাজলকাকুর বাবার গরুটার নাম লক্ষ্মী ঐ ডুমুর গাছের ফাঁক দিয়ে এক চিলতে জংলা মাঠের ওপর গর্ভবতী লক্ষ্মী প্ল্যাসেন্টা আস্তে আস্তে বাছুরটা ভুমিষ্ট হল উঠে দাঁড়াল মা লক্ষ্মী চেটে খেল জীবাণু-বীজাণু শ্যামপার্কে ছিটকে পড়ে গেলে ছড়ে গেল হাঁটু স্কুলের নীল প্যান্টটার ছিঁড়ে যাওয়া ভয়— কে ছিল তোমার সঙ্গে গঙ্গা জলের নীচে পড়ে থাকা পল#2495; সেই পলি তুলে পুতুল গড়ার ব্যর্থ চেষ্টা বাথরুমের জং ধরা ফ্লাশ-এর ওপর গোলা পায়রা —পালক —ডিম সারা দুপুর সবার ঘুমের সুযোগে বাথরুমের দরজা বন্ধ করে পায়রা ধরা একদিন লুকিয়ে খেলে নেভিকাট মুখে কীরকম গরম লাগছিল মনে হচ্ছিল পুড়ে যাবে তবুও ছাড়োনি —- ধোঁয়ার সঙ্গে প্রথম মোলাকাৎ নিষিদ্ধ স্বাদ সাধুপুরির ভগ্নস্ত...

স্যার আমি পারব (হন্টারভিউ)

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার স্যার আমি পারব স্যার আমি টাইয়ের নট্ বাঁধতে পারি না কিন্তু কোন বাস ছিদাম মুদি লেনে দাঁড়ায় এক্ষুনি বলে দিতে পারি এক্ষুনি বলে দিতে পারি গুমঘর লেনটা ঠিক কোথায় আমি শিমুল গাছের পাতা চিনি আমার বন্ধুরা বলে আমি হেভি কথা বলতে পারি রাধা স্টোর্সের মালিকের কাছ থেকে পঁচিশ টাকা চাঁদা একমাত্র আমিই তুলে দিতে পারি স্যার এখান থেকেও একটিপে ঐ ল্যাম্পপোস্টের আলো ভেঙে দিতে পারি আমি এক্ষুনি আমি দাড়ি কামাতে পারি না রামের সেলুনে গোবিন্দ কেটে দেয় সপ্তাহে তিনদিন সঙ্গে মালিশ আমি মাঞ্জা দিতে পারি একটানে একবার একসঙ্গে তিনটে ঘুড়ি কেটেছিলাম রাত্রিবেলা ঠোঙার মধ্যে মোমবাতি সেট করে ঘুড়ি ওড়াতে পারি স্যার সাধনদার দোতলার বারান্দায় পাইপ বেয়ে উঠে বল পাড়তে হয় আমাকেই একবার বল পারতে গিয়ে বিবসনা বৌদিকে দেখে চেখ ফেরাতে পারি বঙ্গ বিদ্যালয়ে পড়তাম তো— ইংরাজি বুঝতে পারি, বলতে পারি না কিন্তু একবার একটা সাহেবকে নিমতলা ঘাটের রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছিলাম — বাংলাতেই হল কালেকশনটা ভালো হলে মাধ্যমিকের অঙ্কে লেটারটা পেয়ে যেতাম তিনটে টিউশনি করি স্যার একটা ছাত্রী এবার ক্লাসে ফিফথ্ হয়েছে আ...

সীতা ওউর গীতা

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার সীতা একা বসেছিলেন অশোক কাননে আমি গেলাম হনু সেজে তোমরা জাননে আমার বুকে ছবি লেজে ভর্তি কেরোসিন সীতা গেলেন মূর্ছা দেখে অগ্নিকাণ্ড সিন, তারপর যা হয়েছিল তোমরা জাননে জানলে পরেও দাঁত দেখিয়ে তোমরা মাননে বলছি শোনো দেখতে পেলাম অশোক গাছের ফাঁকে মুকুট পরা একখানা মাল আটকে মধুর চাকে দেঁতো হাসি হাতে বাঁশি বলল আমায় ডেকে ওরে হনু ঘন্টু মনু বড্ড গেছিস পেকে বুকের মধ্যে ছবির কপি লঙ্কা জুড়ে চিতা কোঁচড় থেকে বের করল খান পঁচিশেক গীতা বলল যখন এতই পারিস লাফ আর ঝাঁপ আর নীচে পঁচিশ কপি দিলাম শুধু পারলে দেতো বেচে সেদিন থেকে কামড় ভুলে ঘুঙুর পরে নাচি সন্ধ্যা থেকে অ্যাকাডেমি লিটিল গীতা বেচি সেদিন আমার কদর লম্বু ল্যাজে ভর্তি কেরোসিন আজকে কাঁধে ঝোলা বেচি লিটিল ম্যাগাজিন আমরা হনু দাঁত দেখিয়ে নিজের বুকেই চিতা কৃষ্ণ আছেন মাথায়, আছেন সীতা ওউড় গীতা

কিছু নেই পুরো ফাঁকা (ডিম নেই)

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার কিছু নেই পুরো ফাঁকা শুধু দুটো ডিম ছিল গোটা ফ্রিজে ওকেই যদি দুটো দিয়ে দিই কী খাব আমি নিজে রাত্রি মধ্য গদ্য পদ্য কাব্য নিশুতি তারা সব ঢুকে গেছে ডিমের মধ্যে ভাবি কী লক্ষ্মীছাড়া নিরীহ দু’ চেতন অচেতনে অন্ধকারের মধ্যে দাঁড়িয়ে দুটো ডিম কটা হাত ? বাইরে এখন শিশিরের সাথে সঙ্গমে রাজি রাত হঠাৎ চাঁদের মুখ মনে পড়ে, মনে পড়ে ভাবিনি তো ডিম তাতে এই ভেবে দেখ যদি দু-দুখানা চাঁদ হত

হেতমপুরের মাঠে

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার হেতমপুরের মাঠে কে একটা তোর মতো ঠিক হাঁটে তার চলন বলন সব যেন পাখির কলরব যে পাখির নরম নরম ডানা হয় তুই বা হাসনুহানা যে হাসনুহানার নেশা যেন তোর সুবাসেই ঠাসা যে সুবাস আমি খুঁজি যখন তোর বুকে মুখ গুঁজি যখন তুই আমি ভঙ্গুর দ্রাদিম দ্রিম দ্রিমা দুর দুর দুর দুর দুরন্ত প্রাণ সুখ স্বপ্নে সব আনচান যে স্বপ্নে সাপ আর শিশির শিশির অন্ধকারে ভিজে যে অন্ধকারের রঙে তুই তোর তুলনা নিজে যে অন্ধকারের রসে ভেজে জংলি মনের ফুল যে জংলি মনের ফুলে আজ বাতাস দোদুল দুল সেই বাতাস আমার চেনা সেই বাতাস আমায় ধরে সেই বাতাস এতই সুখের আমি ভুগি বাতাস জ্বরে শরীর গরম শরীর কাঁপে তখন বাতাসই জ্বর মাপে তখন বাতাসই দেয় জল তখন বাতাসই দেয় সাড়া তখন বাতাসই ঝড় হয় ঝড় ঝিলিক ঝম ঝম সেই ঝিলিক যেন হাসি তোর চোখের কোণে খেলে যে খেলা খেলতে ভালোবাসি যে খেলা না হয় যেন সারা যে খেলায় না হার না জিৎ যে খেলায় খসে পড়বে তারা তারা পড়বে আমার বুকে তারা পড়বে ঢেউয়ের সুখে তারা পড়বে তুমুল টানে তারা উল্কা হয়ে জ্বলে পড়ে চিল্কা হ্রদের জলে মিশিয়ে তারা বুকে হ্রদ ঘুমিয়ে যাবে সুখে সুখ ঝরা পাতার মত...

আমি সেই হরিণটার কথা বলছিলাম

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার আমি সেই হরিণটার কথা বলছিলাম হরিণটা দৌড়চ্ছিল আমিও— পেছন পেছন—- কচি ঘাস মাড়িয়ে শাল শিমূল ফার্ন গাছের ফাঁক ফোকর দিয়ে জংলা কাদা জলে ক্ষুর চুবিয়ে ছিটকে ছিটকে দৌড়চ্ছিল হরিণটা আমিও—- পেছন পেছন শিং—এর মধ্যে অজানা অতেনা গুল্মলতা পিঠের মধ্যে অর্জুন গাছের ঘষটানি অসম্ভব পিপাসা কিন্তু নিঃশব্দে দৌড়চ্ছিল হরিণটা আমিও পেছন পেছন প্রায় চার ক্রোশ পথ পেরিয়ে জঙ্গল ছাড়িয়ে হঠাৎ একটা গোটা আকাশ দেখতে গেলে হরিণটা এতটা আকাশ দেখে একটু সংশয়ে ইতি উতি তাকিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল থমকে কিছুক্ষণ তারপর আলতো আলতো পায়ে হরিণটা হাঁটতে থাকল বালির ওপর দিয়ে আমিও— পেছন পেছন তারপর সে একটা মরুভূমি পেরোল আমিও — পেছন পেছন তারপর কয়েকটা পাহাড় ডিঙোল তারপর পাঁচটা সমুদ্র সাতাশটা নদী অজস্র শহর অসংখ্য গ্রাম লক্ষ লক্ষ পুকুর শতাধিক নদী অনর্গল পেরোতে থাকল এক একটা সীমান্ত এক একটা দেশ এক একটা কাঁটাতার এক একটা শীত এক একটা বসন্ত এক একটা মনুমেন্ট শহিদ বেদি—- দেওয়াল ম্যাগাজিন মিউজিয়াম—বিউটি পার্লার থিয়েটার হল— নিষিদ্ধ পল্লি ফুটপাথ—হাইওয়ে ওষুধের দোকান— চা বাগান মালভূমি —মালটিপ্...

ইতিহাস ওভাবে হয় না

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার ইতিহাস ওভাবে হয় না ইতিহাস এমনি এমনি হয় আমার শিরদাঁড়াতে খেজুর গাছের মিল খুঁজে পেতেই আমার দিকে সে বার বার তাকিয়েছিল | খেজুর গাছের সঙ্গে সুপুরি গাছের মিল কিন্তু আমার চোখে পড়ে গেছেবহুকাল আগে— দু-তিনশো বছর আগে আমি… তোমাকে বলেছিলাম সে কথা— তোমার মনে নেই ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক ভুলেও গেছ কিন্তু যা কিছুই আমরা ভুলে গেছি তা কিছুই তো ভুল নয় | অত আগের কথা মনে না থাকলেও না থাকতে পারে— কিন্তু মাত্র এক যুগ আগে আমি তাকে সুপুরি বলেছিলাম আর তার শিরদাঁড়াটা সোজা হয়ে গেছিল আর তার ভুরু দুটো নৌকা হয়ে গেছিল আর— আর তখন তাহার ঘাড়ে বিন্দু বিন্দু ঝরে ঘাম— সে দিকে তাকিয়ে গৃহের ভিতরে সিন্ধু দেখার অপেক্ষায়—লক্ষ চাষার মতো মৃত্যু হতে পারত আমারও তা হল না— কপালের ওপর ফুরফুর করে উঠল কয়েকটা চুল পিঠের ওপর নোনা ধরা দেওয়াল জামার হাতায় চুনের দাগ ঝাড়তে ঝাড়তে সেও বুঝতে পেরেছিল ইতিহাস ওভাবে হয় না এমনি এমনি হয় তারপর তারপর ট্রা লা লা লা লা তারপর ব্রা লা লা লা লা তারপর ট্রি লি লি লি লি তারপর খুলি লি লি লি লি তারপর চু চু মু চু চু ম তারপর বছর পাঁচেক ঘুম— আর সেই ঘুম ভেঙে...

এবার যখন কালবৈশাখী হবে (বেরোতে গেলে কালবৈশাখী লাগে )

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার এবার যখন কালবৈশাখী হবে তোদের বাড়ি যাব | লাগোয়া বাগানের কালো পুরোনো পাঁচিল তার ওপর বসতে পারে একটা দুটো কাক ঘাসের ওপর লাল পিঁপড়েগুলোকে লক্ষ রেখে বসে পড়ব | ততক্ষণে আম গাছের প্রত্যেকটা পাতা ধুলোর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে লুটিয়ে পড়েছে ভিজে বাতাসের বুকে | উতালপাতাল আদরে বাতাসকেও করে ফেলেছে কচি সবুজ | বাতাসের গায়ে তখন সবুজ সবুজ গন্ধ, আমগাছের স্যাঁতসেঁতে কোমরে পিঠ বিছিয়েই তোকে একটা দেশলাই চাইব | তুই ছুটবি না— হাসবি একগোছা ফুলের মতো, তারপর ঘাস পেরিয়ে ঘাস পেরিয়ে রান্নাঘর | আমপাতাতে ধুলো নেই গড়গড়ের সুবলডোমের চোখের কোলে কালি নেই ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছে বৃষ্টি | হাইস্কুলের সামনের সরানে কাদা হয়েছে তেঁতুলবোনার জল উপচে পড়ে বলাই মামাদের বাড়ির সামনে ছোট্ট একটা ডোবা | তার ওপর পাটকাঠির বাঁধ দিয়ে কুঁচো মাছ ধরছে আবান, ওর পায়ে কাদা ওর হাঁটু ছড়ে যাচ্ছে ডাবু দিদিমা কি বেঁচে আছে ? না থাকলে অন্য কেউ ধুনো জ্বেলেছে | ‘আবান আর জল ঘাঁটিস না— বাড়ি আয়—’ তুই চলে এসেছিস, হাতে একটা মোম-দেশলাই | তোদের বাগানের প্রত্যেকটা পাখিকে তুই চিনিস ? তাদের আদর করে নাম দি...

নেই সংশয় নেই বিস্ময় (কেউ হিন্দু কেউ মুসলমান)

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার নেই সংশয় নেই বিস্ময়, একই খুনের ধারা সব দেহে বয় মিষ্টি মধুর হোক ভেদাভেদ দুর সবার প্রাণেতে বেজে যাক সুর মোদের সুরে বাঁধা হোক বেদ ও কোরান কেউ হিন্দু কেউ মুসলমান ( ২ ) কেউ পড়ে মন্ত্র কেউ আজান ( ২ ) কেই করে মুশকিল আসান কেউ ধরে যজমান কেউ হিন্দু কেউ মুসলমান একই বৃন্তে দুইটি কুসুম হিন্দু মুসলমান ( ২ ) ওরে বলে নজরুল হোক এ জান কবুল যেন করি নির্ভুল এর অর্থ প্রমাণ মোদের সুরে বাঁধা হোক বেদ ও কোরান কেউ হিন্দু কেউ মুসলমান ( ২ ) কেউ ডাকে আল্লা কেউ ভগবান ( ২ ) সবারই পেটেতে খিদে বুকে প্রাণ ওরে— ( ২ ) কেউ হিন্দু কেউ মুসলমান— বৌদ্ধ ভিখারি হোক নির্ভিক শিখ ( ২ ) অসমী বন্ধু —- গোর্খা সৈনিক ( ২ ) মন্দির মসজিদ গুরুদোয়ার ভক্তি শক্তি রূপের বাহার মোদের সুরে বাঁধা হোক বেদ ও কোরান জাতের দোহাই দিয়ে যারা নিতে চায় জান ( ২ ) ওরে সেই তো অসুর সেই শয়তান যায় যদি যাক তবে আগে যাক তার প্রাণ মোদের সুরে বাঁধা হোক বেদ ও কোরান

শোনো হে শোনো, শোনো হে শোনো (চাপান উতোর)

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার শোনো হে শোনো, শোনো হে শোনো শোনো সুধীজন, গেয়ো না গান না শিখে ব্যাকরণ যতই থাকুক গান টগবগে প্রাণে অনুচিত গান গাওয়া যে না গান জানে ভোর হলে গলা খুলে শেখো সারেগামা ভাঙলে ভাঙুক প্রতিবেশীদের ঘুম ভাঙুক গলা অতিরিক্ত রেওয়াজে দেখো যেন শেখার এ নিয়ম না ভাঙে চাপান উতোর দুর দুত্তোর ভালো লাগে না প্লিজ বাতেলা থামান চাপান উতোর দুর দুত্তোর করব যা খুশি চায় মোর মন প্রাণ তালিম তালিম নাও শেখো সুর-তাল পাশ করো গুরুদের নামি দামি সুরে পাখিদের ডাকে সুর খুঁজো না ভায়া সুর খুঁজো সুর শেখো নামি-দামি বইয়ে চাপান উতোর দুর দুত্তোর ভালো লাগে না প্লিজ বাতেলা থামান চাপান উতোর দুর দুত্তোর করব যা খুশি চায় মোর মন প্রাণ প্রথম পাঠেই শেখো — আয় তবে সহচরী হাতে হাতে ধরি ধরি হাত ধরার ইচ্ছে যদিও না থাকে হও করমেতে বীর, হও ধরমেতে ধীর ধর্মে কর্মে যদি মনও না থাকে শেখানো বুলি বলো শিখে তোতাপাখি নিজের মনকে অহরহ দিয়ে ফাঁকি গিটার নিও না কাঁধে জাত যাবে চলে জিন্ স পোরো না মওকা পেলে নেবে খুলে মাকুন্দ থেকো নেই নেই কোনো ক্ষতি চোয়ালে গজালে দাড়ি যত দুর্গতি সমালোচকেরা হেথা দেখে বেসবাস গানেরও জাত...

ওগো ঝুমুর গায়েন তোমার দিন কাটে না

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার ওগো ঝুমুর গায়েন তোমার দিন কাটে না তোমার রাত কাটে না তবু ঢোল কাটে নেংটি ইদুঁরে ভুখা পেটে তুই মাদল বাজা ( ৩ ) ও লাল পলাশের বনে বনে মাতল রে প্রাণ কী আগুনে মন জ্বলে সে আগুনে আখা জ্বলে না ওগো ঝুমুর গায়েন তোমার দিন কাটে না তোমার রাত কাটে না তবু ঢোল কাটে নেংটি ইদুঁরে গানে পাবে প্রাণের আরাম লাগে মনে ধন্দ তোমারও সুরে গায়েন খালি পেটের গন্ধ গায়েন খালি পেটের গন্ধ ও শুকনো ক্ষেতের আলে আলে কাঁধে মাদল মাতাল তালে নেচেই ভরে মন গায়েন পেট ভরে না ওগো ঝুমুর গায়েন তোমার দিন কাটে না তোমার রাত কাটে না | তবু ঢোল কাটে নেংটি ইদুঁরে |

জানি না এ পথ কবে হল ঠিক শুরু

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার জানি না এ পথ কবে হল ঠিক শুরু জানি না এ পথ কবে হবে ঠিক শেষ জানি না কবে যে ফুরোবে বেচাকেনা জানি না কবে যে ফুরোবে স্বপ্নরেশ জানি আমি জানি শুধু জানি আমি জানি তুমি ছিলে তাই সবই ছিল এলোমেলো তবুও তো কেটে গেল দিনগুলো জানি আমি জানি শুধু জানি আমি জানি তুমি ছিলে তাই সবই ছিল এলোমেলো তবুও তো কেটে গেল দিনগুলো এ জীবন পথ চলা কাঁধ ছুঁয়ে ছুঁয়ে পেরিয়েছি কত কিছু অসময় সময় ফেলে পথ চলা তবু হয় না তো পুরোনো | জানি না সীমানা পেরোতে পারবে কি না আর সীমানা পেরিয়ে যাবেই বা কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছি মৃত্যুর মুখোমুখি আজ বা কাল নিতেই হবে বিদায় | জানি আমি জানি শুধু জানি আমি জানি তুমি ছিলে তাই আজও আছি বেপরোয়া এ জীবনে খেলেছি যে কানামাছি এ জীবন পথ চলা কাঁধ ছুঁয়ে ছুঁয়ে পেরিয়েছি কত কিছু অসময় সময় ফেলে পথ চলা তবু হয়নি তো পুরোনো |

চলো মামা পালিয়ে

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার কী হবে নিখোঁজ শান্তিতে খুঁজে তার চেয়ে নিজেই যাই হারিয়ে অলি গলি ঘর গেরস্থালি ফেলে সব সীমা ছাড়িয়ে এ Concrete জঙ্গলে শিকার না হয়ে চলো যাই জঙ্গলে চলো চলে যাই সেখানে যেখানে নিভৃতে সব নিঝুম সবুজে সবুজে শালের দঙ্গলে ফুল ফোটার যেথা ধুম চলো মামা পালিয়ে ( ৩ ) ও মামা রে ( ২ ) কে জিতবে ভোটে বাজেটে কী জোটে শহরে এ ভীড়ে হিরে থেকে জিরে না ভেবে ও মামা রে ( ২ ) কী আফশোস কী আক্ষেপ দিনরাত কী ফোঁসফোঁস এটা হল না ওটা পেল না কেউ সময়ে পটল তোলে না কেউ ভালোবাসাতেও গলে না কেউ ঠিক সেরকম কালো না কেউ ঠিক সেরকম লালও না কেউ সুবিধে বুঝে গোলাপী কেউ সারাদিন কিছু খেলো না কেউ রবিবার ভেবে জিলিপি খায় খায় আর শুধু দাঁত দেখায় এ ভালো লাগে না ( সত্যি ভালো লাগে না ) চলো মামা পালিয়ে ( ২ ) ও মামা রে ( ২ ) বিগ্রেডে বিক্ষোভে বি-গ্রেড নেতার ঘ্যানঘ্যান বুকনি ডালহৌসিতে পচা ছানার সন্দেশ হাফ বয়েলড্ ঘুগ্ নি ভিক্ টোরিয়াতে খাকি পোশাকে ছেলেধরাদের রাজ প্রতি মাসে একবার একই contractor –এর একই রাস্তা সারাই কাজ সস্তা shuttle-এ রোজ রোজ এই মধ্যবিত্ত ভীড়ে কে যাবে আগে আগে কে যাবে নিজের বাড়ি ফ...

হে আমার পরম পিতঃ

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার হে আমার পরম পিতঃ যদি ভুলেও আবার জন্ম নিই তো তুমি যেন ভুল কোরো না আমাকে আর স্কুলে পাঠিয়ো না | স্কুলের এ শিক্ষা ভীষণ, ভুগোল ইতিহাস তারিখ বা সন ভর, ভার, পরিমিতি বা ত্রিকোন মেপেও কোনো লাভ হল না পাঠাবার আর জায়গা পেলে না গোল কৃমির জনন অঙ্গ অনিচ্ছাতেও বঙ্গভঙ্গ কুনো ব্যাঙের নার্ভতন্ত্রে অঙ্ক শিখেও গণতন্ত্রে কিছুতেই কোনো হিসাব মেলে না আমাকে আর স্কুলে পাঠিয়ো না হে আমার পরম পিতঃ যদিও ভুলেও আবার জন্ম নিই তো তুমি যেন ভুল কোরো না আমাকে আর স্কুলে পাঠিয়ো না | শিক্ষা মানেই এ পরীক্ষা পরীক্ষা মানেই কত নম্বর নম্বরের জন্য দুবেলা শুধুই পড়া বন্ধ খেলা নম্বরের জন্য অবেলায় ট্রেনের চাকা পড়ছে গলায় বুঝছ না কি আজ এ বেলায় পাশ আর ফেলের ফালতু খেলায় জিতেও কোনো লাভ হল না হে আমার পরম পিতঃ যদিও ভুলে আবার জন্ম নিই তো তুমি যেন ভুল কোরো না আমাকে আর স্কুলে পাঠিয়ো না

বহুদিন আগে নাকি ছিল ভগবান

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার বহুদিন আগে নাকি ছিল ভগবান ধনুকেতে টান দিয়ে ছুঁড়ে দিত বান কথা নাকি শুনে তার সব হনুমান যুদ্ধের ক্ষেত্রে দিয়ে দিত প্রাণ দাতা ছিল ত্রাতা ছিল করে দিত দান প্রজারা তাকে কত করে সম্মান তাই সীতা সতী কিনা করতে প্রমাণ প্রজাদের অনুরোধে আগুন জ্বালান এ বেচারা, এ বেচারা ভাবে বসে বসে ভেবে সারা | স্বর্গে তখন ছিল দেবতার রাজ মধ্যমনি তিনি গুণী দেবরাজ যখন তখন তিনি ছুঁড়তেন বাজ মর্ত্যে শান্তি রাখা ছিল তার কাজ রূপসী উর্বশী আর সোমরস স্বর্গটা ছিল নাকি তারই হাতে বশ দেবগুণে গুণী তুমি কি করিলে কাজ সারা দেহ লোচনে ভরে কাটে লাজ এ বেচারা ভাবে, বসে বসে ভেবে সারা | আগুন আজও জ্বলে ভীষণ জ্বলন পিতৃ-আজ্ঞা আজও হচ্ছে পালন বিভীষণ আজও আছে আছেন রাবণ আজও বীরেরা মরে লড়ে মহারণ আজও আছে ভগবান তাকত বহুত উর্বশী সোমরস তাও মজুত আগুন আজও জ্বলে জ্বলে ধুনোধূপ বদলায় চেহারা বদলায় রূপ এ বেচারা, এ বেচারা ভাবে বসে বসে ভেবে সারা |

ঘুম পেয়েছে বাড়ি যা

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার ঢুলু ঢুলু চোখ শালা দেখি কত লোক দিয়ে তাকিয়াতে ঠেস বলে আহা বেশ বেশ বেশ বেশ বেশ বলে আর শুধু যায় ঢুলে ঢুলে চোখ হল লাল লাল লাল সে সকাল আর কবে লাল হবে আর কবে লাল হবে আর কবে লাল হবে তোদের ঘুম পেয়েছে বাড়ি যা স্বপ্ন দেখ ঘুমের ফাঁকে যাবি যাবি করলি তবু কেন গেলি না রে বাড়ি চলে যা চলে যা চেপে বুলেট PROOF গাড়ি তোর ধা চকচকে জুতোর পালিশ চোখ করে বড্ড নালিশ চুনোট করা ধুতির কোঁচা বুকে মারে বড্ড খোঁচা ঘুম পেয়েছে বাড়ি যা স্বপ্ন দেখ ঘুমের ফাঁকে ||

নিরালা দুপুর

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার এই নিরালা দুপুর টিপ টিপ টাপুর টুপুর যেন প্রেমিকা নূপুর পরে হঠাৎ এসেছে মোর গাঁয় থাকে না বেশিক্ষণ, ক্ষণিকের শিহরণ যেন রনন লাগিয়ে চলে যায় এই নিরালা দুপুর ছাদের ওপর বৃষ্টি পড়ে অদ্ভুত সোদা গন্ধ ছড়ায় মন চলে যায় চোখকে ফেলে দূরে ( দূরে ) মাকে খুঁজছে দুষ্টু বাছুর টিপটিপটিপ টাপুর টাপুর পাখনা ভেজা পায়রা আস্তানা খোঁজে দূরে হাইওয়ের হাতছানি ছোটো হতে হতে উধাও লোকাল বাস চোখ চলে যায় আলের ধারে মাথালি মাথায় বাদামী শরীর কাঁধে জোয়াল কে করছে চাষ ? এই নিরালা দুপুর — | ঘুম ঘুম ভাত ঘুম ঘুমোয় গোটা গ্রাম এদিকে বৃষ্টিকে পেয়ে সোহাগী জামগাছ জল টলটল তেতুলবোনায় অলস দুপুরে একটা কোনায় হাতে ছিপ কে ধরছে মাছ এই নিরালা দুপুর —

বেতাল বেচাল এ দিনকাল

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার বেতাল বেচাল এ দিনকাল ভেবে ভেবে নাজেহাল তবুও না ছেড়ে হাল ভাবনা ভুলতে পারছি না ক্লান্ত বিকেল ব্যস্ত সকাল নিয়ম করে হচ্ছি নাকাল সু-সময়টা সত্যি পাঁকাল পিছল নাগাল পাচ্ছি না বেতাল বেচাল এ দিনকাল || V . I . P Road যত্নে মোড়া আমার গলির রাস্তা খোঁড়া V. I. P Road যত্নে মোড়া তোমার গলির রাস্তা খোঁড়া জীবন নামক গোদের ওপর ধর্মঘটের বিষফোঁড়া Fashion ব়্যাশন কাঁকড় চাল রাজনীতিতে নোংরা চাল ধুলো ধোঁয়া এ জঞ্জাল তবুও হাল ছাড়ছি না বেতাল বেচাল এ দিনকাল স্কুল কলেজ অফিস পাড়ায় বন্ধু পেলাম হাতে গোনা কেউ বা শুধুই বন্ধু হলো কেউ বা আবার খুব সেয়ানা টুকলু বুবাই প্রবাল বুবুন গুপী ছেকু দোস্তি দারুণ দোস্তি দুধের এ পেয়ালায় ছোট্ট চোনা চোর বরুন জ্যান্ত ভূতের ক্লান্ত স্লোগান মানছি না আর মানব না তান জ্যান্ত ভূতের ক্লান্ত স্লোগান মিছিল জনগণের যোগান এই আঁধারে আলোর বান নিত্য-নতুন টাটকা গান তাই তো এ হাল ছাড়ছি না তাই তো এ হাল ছাড়ব না বেতাল বেচাল এ দিনকাল ঠিক বেঠিক বেঠিক ঠিক ডান বাম বিভিন্ন দিক বড্ড জ্বালায় যত্রতত্র পান পরাগের নোংরা পিক্ রবিতে ছুটি সনিতে সুখ...

তুমি যা জিনিস গুরু আমি জানি আর কেউ জানে না

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার সুগন্ধি ধূপ —-চুপ চুপ কেন ? রেগে যাবে মও কা পেলে শাপ দেবে বয়ে গেল গা তবে— সুগন্ধি ধূপ দিল চাল দিল কলা দিল প্রসাদের থালা দিল চেটে পুটে খেলে গুরু কিছু পেলো না তুমি যা জিনিস গুরু আমি জানি আর কেউ জানে না | ছুপে ছুপে কত রূপে তুমি এসে ধরা দাও সে রূপের বাহার আমি জানি কেউ জানে না তুমি যা জিনিস গুরু আমি জানি আর কেউ জানে না | এ শালারা চেল্লাবে কিছু পাবে না কিছু পাবে না, কিছু পাবে না চিল্লিয়ে গলা ফেটে যাবে তবু পাবে না তুমি যা জিনিস গুরু— দলবল নিয়ে এসে কিছু হবে না কিছু হবে না, কিছু হবে না কত মালই এল গেল বাঁয়া খাতা চলে গেল তোমার অতল তলে কূল পেল না তুমি যা জিনিস গুরু আমি জানি আর কেউ জানে না তুমি যা জিনিস গুরু সত্যি বলছি আমিও চিনি না |

শোনো ঠিক শুরুর আগে (ভূমিকা)

শিল্পী: শিলাজিৎ মজুমদার শোনো ঠিক শুরুর আগে ভূমিকাটা ছোট্ট করে জমিয়ে বলি যদিও অনেক বলার তবুও খানেক কমিয়ে বলি চারিদিকে চলছে যা তা— চারিদিকে চলছে যা তা বুঝলে পরে বুঝবে এসব সবাইকে তুষ্ট করা স্পষ্ট কথায় নয় সম্ভব ভালোবেসে কেউ বা ঘাসে খালি পায়ে পথ চলতে কেউ আবার সাবাড় করে পথের কাঁটা অনেকেই জ্বলতে শুধু জ্বলতে যে চায় কেউ আবার সলতে খোঁজে আগুন হাতে এ সবই ভালোবাসা মনের মতো যে যা চায় তার পেছনে তুরন্ত ছোটে ভালোবাসা কারোর শুধুই ভালোবাসায় কারও বা ভালোবাসা কোর্টেও ওঠে অনেকে ভালোবাসে অমুক তমুক এটা সেটা অনেকে ভালোবাসে সোনা রঙের রোদের ছটা অনেকে ভালোবাসে তোমার আমার মা-বোনেদের অনেকে ভালোবাসে নকল সাজা তানসেনেদের এসবই ভালোবাসা মনের মতো এসবই হয় বাঁচে বা হয় নিহত— এতসব ভেবেই তো ভাó#2439; গান বেঁধেছি বাধা গান বাঁধ ভেঙেছে বান এসেছে কারও কারও বেলায় এ গান বাণ হয়ে যায় বিঁধলেও বিঁধতে পারে বুকে পেটে তবে এ হলফ করে বলতে পারি গান আমার বিঁধবে নাকো খিদের পেটে যে পেট আজও রয়েছে বেঁচে দারুণ খেটে যদিও চাই না আমি গান হোক বাণ তার চেয়ে এ গান উঠুক তোমার আমার সবার ঠোঁটে তবেই তো ভরবে এ বুক দুকূল ছেপে যে...