পোস্টগুলি

খান আতাউর রহমান লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আমাদের বন্দী করে যদি ওরা ভাবে

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান, আমাদের বন্দী করে যদি ওরা ভাবে দুনিয়ায় পাপের ভারে পুণ্য গেছে ডুবে ভুল ভুল ভুল কত বড় ভুল আমাদের সন্তানেরা দেবে সে ভুল ভেঙে দেবে ॥ আমাদের এই জীবনে সুখ-দুঃখের হিসাব-নিকাশ নাই আমাদের সুখের ভাগ ষোলো আনাই দুখে ভরা ভাই হবেই হবে হবে রে এর বিচার হবে আমাদের সন্তানেরা হিসাব করে বুঝে নেবে ॥ এই দিন তাই দিন নয় রে আরও দিন আছে এই দিনকে ঠেলে নেব সেই দিনের কাছে। আমাদের ঘরে ঘরে অনাদরে জন্ম নিল যারা অপমানে অভিমানে দিনে দিনে বড় হবে তারা নেবেই নেবে নেবে আদায় করে নেবে আমাদের পাওনাটুকু আদায় করে তারাই নেবে ॥ সুখ দুঃখ (৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১)

এ খাঁচা ভাঙব আমি কেমন করে

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান এ খাঁচা ভাঙব আমি কেমন করে এ খাঁচা ভাঙব আমি কেমন করে।। দিকে দিকে বাজল যখন শিকলভাঙার গান আমি তখন চোরের মতো হুজুর হুজুর করায় রত চাচা আপন বাঁচা বলে বাঁচিয়েছি প্রাণ আসলে ভাই একা একা বাঁচার নামে আছি মরে ॥ কথা-সুর-কণ্ঠ : খান আতাউর রহমান, জীবন থেকে নেয়া (১০ এপ্রিল ১৯৭০)

ঐ আকাশটা ঘুরে এসেছি

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান, ঐ আকাশটা ঘুরে এসেছি মেঘে মেঘে কত যে ভেসেছি ওগো তোমার প্রেমের তুলনায় ওরা কিছু নয় কিছু নয় তাই তোমাকেই ভালোবেসেছি।। ছিল যেথা নিঃসীম শূন্যতা সেই মনে এল কী যে পূর্ণতা তোমার দুখানি চোখে অপলকে চেয়ে থেকে আমি অন্তর ভরে নিয়েছি।। এই মন মাখি যদি আকাশে, ঐ প্রভাত হবে গো ম্লান এই সুর ঢালি যদি পাহাড়ে, থেমে যাবে ঝরনার গান। মন যখন তোমাকে চিনত না জীবনের মানেটাই জানত না তাই তো এ পৃথিবীতে তোমার দুখানি হাতে আমি জীবনের ভার দিয়েছি ॥[১৩] কসম উস ওয়াক্ত কি (১২ ডিসেম্বর ১৯৬৯)

কী আনন্দ দিয়ে এ ভুবন মাতিয়ে

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান, কী আনন্দ দিয়ে এ ভুবন মাতিয়ে এ কী স্বপ্ন এঁকেছ নয়নে কী যে গান শুনিয়ে এই মন মাতিয়ে এ কী আগুন জ্বেলেছ ফাগুনে ॥ দুটি পাখি-মন আপন মনে যায় উড়ে যায় কোন লগনে যেদিকে চোখ যায় যাক না চলে হারিয়ে যাব এই দুজনে কোন মায়াবী মায়া কোন সোনালি ছোঁয়া এ কী শান্তি এনেছে মিলনে ॥ তোমায় পেয়েছি পরান ভরে তাই তো বেঁধেছি জীবনডোরে স্মরণ রেখো মনের বদলে মনটি দিলাম উজাড় করে কোন সুর বাজিয়ে কী বা তাল সাজিয়ে এ কী ছন্দ জাগালে জীবনে ॥ আলিঙ্গন (১২ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯)

সুরের বাঁধনে তুমি যতই কণ্ঠ সাধো

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান, ছবি : সুরের বাঁধনে তুমি যতই কণ্ঠ সাধো তাকে আমি বলব না গান সে তো শুধু নিষ্প্রাণ ‘সা নি ধা পা মা গা রে সা’ নেই তাতে হৃদয়ের দান ॥ মরমের ছোঁয়া যদি শিল্পীর কণ্ঠে না থাকে গানের কবিতা যদি জীবনের ছবিটি না আঁকে তাকে আমি বলব না গান সে তো শুধু নিষ্প্রাণ ‘সা নি ধা পা মা গা রে সা’ নেই তাতে হৃদয়ের দান।। গান আহা গান যাকে বলে- লক্ষ মনের মধু স্বপ্ন, লক্ষ হারিয়ে যাওয়া লগ্ন তার বুকে ধিকিধিকি জ্বলে।। সে জ্বালার অনুভূতি যদি ঐ অন্তরে থাকে হৃদয় উজাড় করে সুরে সুরে ঢেলে দিও তাকে তাহলেই গান হবে গান না হলে তা নিষ্প্রাণ ‘সা নি ধা পা মা গা রে সা’ নেই তাতে হৃদয়ের দান ॥ মনের মত বউ (৪ এপ্রিল ১৯৬৯)

আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান, আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো জ্বালো আগুন আরও জ্বালো ঢালো আরও ব্যথা ঢালো ॥ আমি তো পুড়ে পুড়ে অঙ্গার হয়েছি দিয়েছ আঘাত যত সবই তা সয়েছি নিঠুর ওগো তবুও তোমাকে লেগেছে ভালো তোমাকে বেসেছি ভালো। এ হৃদয় ধূপসম তোমারই জ্বালায় যাক যদি জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।। কিছু তার সুরভি কিছু তার বেদনা পড়বে তোমার মনে যেখানেই থাকো না সেদিনের সে স্মৃতি জানি গো তোমার মনে জ্বালবে না আলো ॥ মনের মত বউ (৪ এপ্রিল ১৯৬৯)

আহা কী যে সুন্দর হারিয়েছি অন্তর

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান, আহা কী যে সুন্দর হারিয়েছি অন্তর ভাষা নেই, নেই ভাষা নেই কথা নেই, নেই কথা নেই ॥ এ কী ঢেউ জীবনে, এ কী রং নয়নে এ কী জাদু করেছ, কী যে সুর ভরেছ দিশা নেই, নেই দিশা নেই কথা নেই, নেই কথা নেই।। এত ছবি এঁকেছি, এত রূপে দেখেছি এত ভালোবেসেছি, কত কিছু ভেবেছি সীমা নেই, নেই সীমা নেই কথা নেই, নেই কথা নেই।। মনের মত বউ (৪ এপ্রিল ১৯৬৯)

হায় রে নিঠুর বাঁশি এ কী জালে জড়ালি

শিল্পী: কলিম শরাফী, গীতিকার: খান আতাউর রহমান, হায় রে নিঠুর বাঁশি এ কী জালে জড়ালি বাঁশি রে তুই মধু বলে এ কী গরল ছড়ালি ॥ বাঁশি তোর ডাক শুনে আমি তো এসেছি বনে, সে তো এল না নিদয়া বিধির মনে দয়া হলো না যে পথে কাঁটার জ্বালা সে পথে ফুলের মালা কেন ফোটালি ॥ গগনে হারাল বেলা আশা-নিরাশার খেলা সারা হলো না বাঁশি তোর মনে ছিল এত ছলনা সুখের প্রদীপ বলে দুখের অনল জ্বেলে কেন পোড়ালি ॥ অনেক দিনের চেনা (১৭ জুলাই ১৯৬৪)

শ্যামলবরণ মেয়েটি ডাগর কালো আঁখিটি

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান শ্যামলবরণ মেয়েটি ডাগর কালো আঁখিটি না না, তার নাম বলব না নাম বলব না তোমরা তাকে দেখেছ গল্প পড়ে জেনেছ শুধু তাহার নাম জানো না নাম জানো না ॥ মিষ্টি তাহার সোনামুখে হাসি ধরে না এত বকাঝকি তবু প্ৰাণ ভাঙে না এত করে বলেছি এত বারণ করেছি বললে কারোর কথা শোনে না কথা শোনে না এখানে এই দালান কোঠার ভিড়ে কিংবা কোন গাঁয়ের কুঁড়েঘরে তোমরা তারে কত দেখেছ শুধু নাম জানো না ॥ হায় রে সেই অভাগিনীর স্বপ্ন ছিল যত তিলে তিলে নিজে হলো পোড়া ধূপের মতো আকাশভরা মিটিমিটি তারা জ্বলে যত অভাগিনীর দুচোখ জুড়ে আশা ছিল তত ॥ পথের পানে চেয়ে এবার কেটে যাবে দিন চোখের জলে গাঁথা মালা ধুলায় হবে লীন সকাল-সাঁঝের কুড়িয়ে পাওয়া ঝরা ফুলের মতো গানের মালায় গাঁথা হবে তাহার কথা তত এখানে এই দালানকোঠার ভিড়ে দেখেছি সেই অভাগিনী কেঁদে কেঁদে ফেরে ॥ সাগর সেচে খোঁজেনি সে হীরা মোতির মালা কুঁড়েঘরে রাখবে কোথায় অত সুখের জ্বালা বসে ছিল খেয়ার আশে নদী হবে পার ধুলোমাটির কড়ি কিছু আঁচল বাঁধা তার হায় রে কখন অথই জলে আঁচল গেল ছিঁড়ে অভাগী তাই এপার-ওপার কেঁদে কেঁদে ফেরে এখ...

এখন রাত্রি কুয়াশার কোলে পৃথিবী ঘুমায়

শিল্পী: খান আতাউর রহমান ছবি: কখনো আসেনি (২৪ নভেম্বর ১৯৬১)। গীতিকার: খান আতাউর রহমান, এখন রাত্রি কুয়াশার কোলে পৃথিবী ঘুমায় এই তো সময় ভালোবাসবার ‘ভালোবাসি’ সেই কথাটি বলার এই তো সময় ॥ দুজনে নীরবে রয়েছি একা যেন এ প্রথম হয়েছে দেখা যেন এ প্রথম হলো পরিচয়—এই তো সময় ॥ জোছনা ছড়ানো আকাশের গায় তারার দেয়ালি জ্বলে নিরালায় দখিনা বাতাস ধীরে বয়ে যায়—এই তো সময় ॥ জীবনে বেজেছে মিলনের সুর পেখম মেলেছে মনের ময়ূর এখন রাতের হয়েছে দুপুর—এই তো সময় ॥

আজকে আমার হৃদয় জুড়ে এ কী ফাগুন জাগল

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান, আজকে আমার হৃদয় জুড়ে এ কী ফাগুন জাগল কৃষ্ণচূড়ার বনে কি তাই ফুলের আগুন লাগল ॥ একটুখানি আকাশ আর একটুখানি মাটি একটি ছোট্ট কুটিরভরা মায়া তোমায় নিয়ে এই তো আমার কল্পনা কোকিল বলে সেদিন বুঝি আসলো ॥ যেদিন প্রাণে প্রথম দোলা লাগল প্রথম ফুলের ঘুম যেদিন ভাঙল সেদিন আমি যা-ই বা কিছু চেয়েছি তোমার মাঝে সবকিছু তার পেয়েছি। একটুখানি বাতাস আর একটুখানি হাসি একটি শান্ত দুপুরভরা ছায়া তোমায় নিয়ে এই তো আমার কল্পনা কোকিল বলে সেদিন বুঝি আসলো ॥ সোনার কাজল (২৯ জানুয়ারি ১৯৬২)

পথে পথে দিলাম ছড়াইয়া রে

শিল্পী: কলিম শরাফী, গীতিকার: খান আতাউর রহমান, পথে পথে দিলাম ছড়াইয়া রে সে দুঃখে চক্ষের পানি ও আমার চক্ষু নাই, পার নাই কিনার নাই রে ॥ ঘর নাই ও মোর জন নাই তবু দিলাম ভাঙা নায়ে অকূল সায়র পাড়ি ॥ ও আমার বইঠা নাই, ছেঁড়া পালে আমার হাওয়া নাই রে ও আমার সুখ তো নাই, নিদ নাই চোখে নিদ নাই ॥ বিধি রে, তোমার খেয়ালের শেষ নাই দয়া নাই তোমার মায়া নাই তবু জনমদুঃখী আমি তোমায় আপন জানি ॥ সূর্যস্নান (৫ জানুয়ারি ১৯৬২)

দুনিয়া বড় এলোমেলো

শিল্পী: খান আতাউর রহমান ছবি: কখনো আসেনি (২৪ নভেম্বর ১৯৬১)। দুনিয়া বড় এলোমেলো লম্বা-বেটে সাদা-কালো সবাই বলে ‘আমি ভালো’ তুমি ভালো আমি ভালো মন্দ তবে কাকে বলো আসল কথা হলো, দিনের বেলায় অনেক আলো রাত্রি হলে সবই কালো তাই বলি তাই বলি সবকিছু ভাই ভুলে গিয়ে একটু হাসো ॥ দুনিয়ার এ এক আজব রীতি নানান দেশে নানান নীতি, সবাই গাহে প্রণয়গীতি আজকে যারে ভালোবাসো, কাল কেন তার সর্বনাশো আসল কথা হলো, নতুন নতুন সবই ভালো পুরোনো হলে দেখতে কালো তাই বলি তাই বলি সবকিছু ভাই ভুলে গিয়ে একটু হাসো। দুনিয়া ঘোরে টাকার চাকায় সাহেব যারা গাড়ি হাঁকায়, সবাই তাদের সালাম জানায় টাকাই যদি সবার বড়, ধর্মকর্ম কেন করো আসল কথা হলো, কাজের বেলা তুমি ভালো কাজ ফুরোলে তুমি কালো তাই বলি তাই বলি সবকিছু ভাই ভুলে গিয়ে একটু হাসো ॥ কথা-সুর-কণ্ঠ : খান আতাউর রহমান, অভিনয় : খান আতাউর রহমান,

নয়নে লাগল যে রং

শিল্পী: খান আতাউর রহমান ছবি: এ দেশ তোমার আমার (২৫ ডিসেম্বর ১৯৫৯) গীতিকার: খান আতাউর রহমান, কণ্ঠ : মাহবুবা রহমান, নয়নে লাগল যে রং আহা তা কেউ জানে না পরানে জাগল, জাগল যে গান আহা তা কেউ জানে না ৷৷ গুন গুন গুন মনে মনে গেয়ে যাই আমি প্রজাপতির পাখায় পাখায় উড়ে যাই একলা পথে একা যে আর চলতে হবে না ৷৷ অচেনাকে আপন করে বাসব আমি ভালো সেই তো আমার পাগল করা সূর্য ফোঁটায় আলো। প্রাঙ্গণে মোর মেঘের ছায়া কেটে যায় আজ সপ্তরঙে রামধনু কে এঁকে যায় উজাড় করে দিলাম যারে সে তো জানে না ॥

কে কাঁদিস এই দুদিনের খেলাঘরে

শিল্পী: খান আতাউর রহমান ছবি: এ দেশ তোমার আমার (২৫ ডিসেম্বর ১৯৫৯) গীতিকার: খান আতাউর রহমান, কণ্ঠ : সোহরাব হোসেন, কে কাঁদিস এই দুদিনের খেলাঘরে অবুঝের মতো রে কেন এত প্রেম এত ভালোবাসা হারানো দিনের তরে ৷ কত যে আশায় বাঁধে ওরা ঘর তবু তো সে ঘর ভাসে কত যে আঘাত ধরণিরে দিয়া একেলা নিয়তি হাসে কত যে প্রাণের আধো ফোঁটা ফুল বাতাসে ঝরিয়া পড়ে ৷৷ হয়তো কোথায় নিভেছে বাতি জেগে থাকা কার ঘরে হয়তো কোথায় জেগেছে কাঁদন বিদায় দেবার পরে। হৃদয় ভরিয়া রেখেছিস তুই চলে যাওয়া কার স্মৃতি এ মাটির দেহ স্মৃতিটুকু নিয়া একদিন হবে মাটি মহাকাল বুঝি উদাসীন মনে হিসাব-নিকাশ করে ॥