পোস্টগুলি

কাজী নজরুল ইসলাম লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

জাগো অমৃত-পিয়াসী চিত

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম জাগো অমৃত-পিয়াসী চিত আত্মা অনিরুদ্ধ কল্যাণ প্রবুদ্ধ। জাগো শুভ্র জ্ঞান পরম নব -প্রভাত পুষ্প সম আলোক-স্নান-শুদ্ধ।। সকল পাপ কলুষ তাপ দু:খ গ্লানি ভোলো, পুণ্য প্রাণ-প্রদীপ-শিখা স্বর্গ-পানে তোলো। বাহিরে আলো ডাকিছে জাগো তিমির-কারারুদ্ধ।। ফুলের সম আলোর সম ফুটিয়া ওঠ হৃদয় মম রূপ-রস-গন্ধে অনায়াস আনন্দে জাগো মায়া-বিমুগ্ধ।।

নাচের নেশার ঘোর লেগেছে নয়ন পড়ে ঢুলে লো

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম নাচের নেশার ঘোর লেগেছে নয়ন পড়ে ঢু’লে লো– নয়ন পড়ে ঢুলে। বুনোফুল পড়লো ঝ’রে নাচের ঘোরে দোলন-খোঁপা খুলে লো– দোলন খোঁপা খুলে।। শুনে এই মাদল-বাজা নাচে চাঁদ রাতের রাজা নাচে লো নাচে – শালুকের কাঁকাল ধ’রে তাল-পুকুরের জলে হে’লে দু’লে (লো)– জলে হেলে দুলে। আঁউরে গেল ঝুমকো জবা লেগে গরম গালের ছোঁয়া, বাঁশি শুনে ঘুলায় মনে কয়লা-খাদের ধোঁওয়া । সই নাচ ফুরালে ফিরে’ ঘরে, রাত কাটাব কেমন ক’রে পড়বে মনে বাঁশুরিয়ার চোখ দু’টি টুলটুলে লো– চোখ দুটি টুলটুলে।।

হায় হায় উঠেছে মাতম

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম হায় হায় উঠেছে মাতম আকাশ পবন ভুবন ভরি। আখেরি নবী দ্বীনের রবি নিল বিদায় বিশ্ব-নিখিল আঁধার করি।। অসীম তিমিরে পুণ্যের আলো অানিল যে চাঁদ, সে কোথায় লুকালো; আকাশে ললাট হানি ‘কাঁদিছে মরুভূমি’ শোকে গ্রহ-তারকা পড়িছে ঝরি।। তৃণ নাহি খায় উট, মেষ নাহি মাঠে যায়; বিহগ-শাবক কাঁদে জননীরে ভুলি হায়! বন্ধুর বিরহ কি সহিল না আল্লার, তাই তাঁরে ডাকিয়া নিল কাছে আপনার; হায় কাণ্ডারি গেল চলে’ রাখিয়া পারের তরী।।

বন-কুন্তল এলায়ে বন-শবরী ঝুরে সকরুণ সুরে

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম বন-কুন্তলা-তেতালা বন-কুন্তল এলায়ে বন-শবরী ঝুরে সকরুণ সুরে। বিষাদিত ছায়া তার চৈতালি সন্ধ্যায় চাঁদের মুকুরে।। চপলতা বিসরি’ যেন বন-যৌবন বিরহ-ক্ষীণ আজি উদাস উন্মন, তোলে না ঝঙ্কার আর ঝরা পাতার মর্মর নূপুর।। যে কুহু কুহরিত মধুর পঞ্চমে বিভোর ভাবে, ভগ্ন কন্ঠে তার থেমে যায় সুর করুণ রেখাবে। কোন বন-শিকারির অকরুণ তীর আলো হরে নিল ওই উজল অাঁখির; ফেলে-যাওয়া বাঁশি তার অঞ্চলে লুকায়ে– গিরি-দরী-পান্তরে খোঁজে সে নিঠুরে।

আল্লাহ কে যে পাইতে চায় হযরত কে ভালবেসে

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম আল্লাহ কে যে পাইতে চায় হযরত কে ভালবেসে– আরশ কুর্সী লওহ কালাম না চাইতেই পেয়েছে সে।। রসুল নামের রশি ধ’রে যেতে হবে খোদার ঘরে, নদী-তরঙ্গে যে পড়েছে, ভাই দরিয়াতে সে আপনি মেশে।। তর্ক করে দুঃখ ছাড়া কী পেয়েছিস অবিশ্বাসী, কী পাওয়া যায় দেখনা বারেক হযরতে মোর ভালবাসি? এই দুনিয়ায় দিবা- রাতি ঈদ হবে তোর নিত্য সাথী; তুই যা চাস তাই পাবি হেথায়, আহমদ চান যদি হেসে।।

পায়েল বোলে রিনিঝিনি

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম রূপমঞ্জরি তেতালা পায়েল বোলে রিনিঝিনি। নাচে রূপমঞ্জরী শ্রীরাধার সঙ্গিনী।। ভাব-বিলাসে চাঁদের পাশে ছড়ায়ে চাঁদের ফুল নাচে যেন নিশীথিনী।। নাচে উড়ায়ে নীলাম্বরী অঞ্চল ; মৃদু মৃদু হাসে আনন্দ-রাসে শ্যামল চঞ্চল। কভু মৃদু মন্দ কভু ঝরে দ্রুত তালে সমধুর ছন্দ; বিরহের বেদনা মিলন-আনন্দ ফোটার তনুর ভঙ্গিমাতে ছন্দ-বিলাসিনী।।

দীপ নিভিয়াছে ঝড়ে জেগে আছে মোর আঁখি

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম মর্ডান দীপ নিভিয়াছে ঝড়ে জেগে আছে মোর আঁখি। কে যেন কহিছে কেঁদে মোর বুকে মুখ রাখি’ ‘পথিক এসেছ না কি’।। হারায়ে গিয়াছে চাঁদ জল-ভরা কালো মেঘে, আঁচলে লুকায়ে ফুল বাতায়নে আছি জেগে, শূন্য গগনে দেয়া কহিতেছে যেন ডাকি’ ‘পথিক এসেছ না কি’।। ভাঙিয়া দুয়ার মম কাড়িয়া লইতে মোরে– এলে কি ভিখারি ওগো প্রলয়ের রূপ ধ’রে? ফুরাইয়া যায় বঁধূ শুভ-লগনের বেলা আনো আনো ত্বরা করি’ ওপারে যাবার ভেলা। ‘পিয়া পিয়া’ ব’লে বনে ঝুরিছে পাপিয়া পাখি ‘পথিক এসেছ না কি’।।

খেলা শেষ হল, শেষ হয় নাই বেলা

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম খেলা শেষ হল, শেষ হয় নাই বেলা। কাঁদিও না কাঁদিও না — তব তরে রেখে গেনু প্রেম-আনন্দ মেলা।। খেলো খেলো তুমি আজো বেলা আছে, খেলা শেষ হলে এসো মোর কাছে, প্রেম-যমুনার তীরে বসে র’ব লইয়া শূন্য ভেলা।। যাহারা আমার বিচার করে’ছে — ভুল করিয়াছে জানি; তাহাদের তরে রেখে গেনু মোর বিদায়ের গানখানি! হই কলঙ্কী, হোক মোর ভুল, বালুকার বুকে ফুটায়েছি ফুল; তুমিও ভুলিতে নারিবে সে-কথা– হানো যত অবহেলা।।

ইয়া মোহাম্মদ বেহেশত হতে

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম ইয়া মোহাম্মদ বেহেশত হতে খোদায় পাওয়ার পথ দেখাও। এই দুনিয়ার দুঃখ থেকে এবার আমার নাজাত দাও।। পীর মুর্শিদ পাইনি আমি, তাই তোমায় ডাকি দিবস-যামী, তোমারই নাম হউক হযরত আমার পর-পারের নাও।। অর্থ-বিভব যশ- সম্নান চেয়ে চেয়ে নিশিদিন দুঃখ- শোকে জ্বলে মরি প্রান কাঁদে শান্তিহীন।। আল্লাহ ছাড়া ত্রিভূবনে শান্তি পাওয়া যায় না মনে, কোথায় পাবো সে আবেহায়াত– ইয়া নবীজী, রাহ বাতাও।।

তোমারি আঁখির মত আকাশের দুটি তারা

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক তোমারি আঁখির মত আকাশের দুটি তারা চেয়ে থাকে মোর পানে নিশীথে তন্দ্রাহারা। সে কি তুমি? সে কি তুমি? ক্ষীণ আঁখি-দীপ জ্বালি বাতায়নে জাগি একা অসীম অন্ধকারে খুঁজি তব পথ-রেখা সহসা দখিনবায়ে চাঁপাবনে জাগে সাড়া। সে কি তুমি? সে কি তুমি? তব স্মৃতি যদি ভুলি ক্ষণতরে আন-কাজে কে যেন কাঁদিয়া ওঠে আমার বুকের মাঝে। সে কি তুমি, সে কি তুমি? বৈশাখী ঝড়ে রাতে চমকিয়া উঠি জেগে বুঝি অশান্ত মম আসিলে ঝড়ের বেগে ঝড় চলে যায় কেঁদে ঢালিয়া শ্রাবণধারা। সে কি তুমি? সে কি তুমি?

আহার দিবেন তিনি, রে মন

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম আহার দিবেন তিনি, রে মন, জীব দিয়েছেন যিনি। তোরে সৃষ্টি করে তোর কাছে যে আছেন তিনি ঋণী। সারা জীবন চেষ্টা করে ভিক্ষা-মুষ্টি আনলি ঘরে; ও মন, তাঁর কাছে তুই হাত পেতে দেখ কী দান দেন তিনি।। না চাইতে ক্ষেতের ফসল পায় বৃষ্টির জল; তুই যে পেলি পুত্র-কন্যা তোরে কে দিল তা বল। যার করুণায় এত পেলি, তাঁরেই কেবল ভুলে গেলি; তোর ভাবনার ভার দিয়ে তাঁকে ডাক রে নিশিদিনই।।

গগনে খেলায় সাপ বরষা-বেদিনী

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম গগনে খেলায় সাপ বরষা-বেদিনী। দূরে দাঁড়ায়ে দেখে ভয়-ভীতা মেদিনী।। দেখায় মেঘের ঝাঁপি তুলিয়া, ফনা তুলি’ বিদ্যুৎ-ফণি ওঠে দুলিয়া, ঝড়ের বাঁশিতে বাজে তার অশান্ত রাগিণী।। মহাসাগরে লুটায় তার সর্পিল অঞ্চল, দিগন্তে দুলে তার এলোকেশ পিঙ্গল, ছিটায় মন্ত্রপূত ধারাজল অবিরল তন্বী-মোহিনী।। অশনি-ডমরু ওঠে দমকি’ পাতালে বাসুকি ওঠে চমকি’ তার ডাক শুনে ছুটে আসে নদীজল (যেন) পাহাড়িয়া নাগিনী।।

এ কোন মধুর শরাব দিলে আল আরাবি সাকি

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম এ কোন্ মধুর শরাব দিলে আল আরাবি সাকি, নেশায় হলাম দিওয়ানা যে রঙিন হল আঁখি।। তৌহিদের শিরাজি নিয়ে ডাকলে সবায় : ‘যা রে পিয়ে!’ নিখিল জগৎ ছুটে এলো রইল না কেউ বাকি।। বসলো তোমার মহ্ফিল দূর মক্কা মদিনাতে, আল্-কোরানের গাইলে গজল শবে কদর রাতে। নরনারী বাদশা ফকির তোমার রূপে হয়ে অধীর যা ছিল নজ্রানা দিল রাঙা পায়ে রাখি’।।

ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না। মরা ফুলের সাথে ঝরিল যে ধূলি-পথে – সে আর জাগিবে না, তারে ডাকিও না।। তাপসিনী-সম তোমারি ধ্যানে সে চেয়েছিল তব পথের পানে, জীবনে যাহার মুছিলে না আঁখি ধার আজি তাহার পাশে কাঁদিও না।। মরণের কোলে সে গভীর শান্তিতে পড়েছে ঘুমায়ে, তোমারি তরে গাঁথা শুকানো মালিকা বক্ষে জড়ায়ে যে মরিয়া জুড়ায়েছে– ঘুমাইতে দাও তারে জাগিও না।।

বর্ষা ঋতু এলো এল বিজয়ীর সাজে

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম বর্ষা ঋতু এলো এল বিজয়ীর সাজে। বাজে গুরু গুরু আনন্দ-ডমরু অম্বর মাঝে।। (বাঁকা) বিদ্যুৎ তরবারি ঘন ঘন চমকায়,– শুনি রথচক্রের ধ্বনি অশনির রোল, সিন্ধু-তরঙ্গে মঞ্জীর বাজে।। ভীত বন উপবন লুটায়ে লুটায়ে প্রণতি জানায় সেই বিজয়ীর পায়ো; (তার) অশান্ত গতিবেগ শুনি পুব-হাওয়াতে চলে মেঘ-কুঞ্জর-সেনা তার সাথে, তূণীর কেতকী জল-ধনু হাতে হের চঞ্চল দুরন্ত গগনে বিরাজে।।

খয়বর-জয়ী আলী হায়দর

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম খয়বর-জয়ী আলী হায়দর, জাগো জাগো আরবার! দাও দুশমন-দুর্গ-বিদারী দুধারী জুলফিকার।। এস শেরে-খোদা ফিরিয়া আরবে– ডাকে মুসলিম ইয়া আলী রবে; হায়দরি-হাকে তন্দ্রা-মগনে করো করো হুঁশিয়ার।। আলবোর্জের চূড়া গুঁড়া-করা গোর্জ আবার হানো; বেহেশতি সাকি,মৃত এ জাতিরে আবে-কওসর দানো। আজি বিশ্ব-বিজয়ী জাতি যে বেহুঁশ, দাও তারে নব কুয়ত ও জোশ; এস নিরাশার মরু-ধূলি উড়ায়ে দুলদুল-আসওয়ার।।

রুম ঝুম ঝুম বাদল নুপুর বোলে

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম রুম ঝুম ঝুম বাদল নুপুর বোলে। তমাল-বরনী কে নাচে গগন কোলে তার অঙ্গের লাবনী যেন ঝরে অবিরল হয়ে শীতল মেঘলামতির ধারাজল; কদম ফুলের পীত উত্তরী তার পুব হাওয়াতে দোলে। বিজলি ঝিলিকে তারবন মালার আভাস জাগে, বন-কুন্তলা ধরা হল শ্যাম মনহরা তাহারই অনুরাগে। তারে হেরি পাপিয়া পিয়া পিয়া কহে, সাগর কাঁদে, নদীজল বহে; ময়ূর-ময়ূরী বন-শর্বরী নাচে টলে টলে।।

খেলে চঞ্চলা বরষা-বালিকা

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম খেলে চঞ্চলা বরষা-বালিকা মেঘের এলোকেশে ওড়ে পুবালি বায় দোলে গলায় বলাকার মালিকা।। চপল বিদ্যুতে হেরি’ সে চপলার ঝিলিক হানে কণ্ঠের মণিহার, নীল আঁচল হতে তৃষিত ধরার পথে ছুঁড়ে ফেলে মুঠি মুঠি বৃষ্টি শেফালিকা।। কেয়া পাতার তরী ভাসায় কমল -ঝিলে তরু-লতার শাখা সাজায় হরিৎ নীলে। ছিটিয়ে মেঠো জল খেলে সে অবিরল কাজলা দীঘির জলে ঢেউ তোলে আনমনে ভাসায় পদ্ম-পাতার থালিকা।।

ওরে ও মদিনা, বলতে পারিস কোন সে পথে তোর

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম ওরে ও মদিনা, বলতে পারিস কোন সে পথে তোর খেলতো ধূলা-মাটি নিয়ে মা ফাতেমা মোর।। হাসান-হোসেন খেলতো কোথায় কোন সে খেজুর বনে– পাথর-কুচি কাঁকর ল’য়ে দুম্বা শিশুর সনে সেই মুখকে চাঁদ ভেবে রে উড়িত চকোর।। মা আয়েশা মোর নবীজীর পা ধোয়াতেন যথা– দেখিয়ে দে সে বেহেশত আমায়, রাখরে আমার কথা তোর প্রথম কোথায় আজান-ধ্বনি ভাঙলো ঘুমের ঘোর।। কোন পাহাড়ের ঝর্ণা-তীরে মেষ চরাতেন নবী কোন পথ দিয়ে রে যেতেন হেরায় আমার আল-আরবী, তুই কাঁদিস কোথায় বুকে ধ’রে সেই নবীজীর গোর।।

মম তনুর ময়ূর-সিংহাসনে

শিল্পী: কাজী নজরুল ইসলাম গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম মম তনুর ময়ূর-সিংহাসনে এস রূপ-কুমার ফরহাদ্। (মোর)ঘুম যবে ভাঙিল, প্রিয়, গগনে ঢলিয়া পড়িল চাঁদ।। আমি শিঁরি–হেরেমের নন্দিনী গো ছিনু অন্ধকারের কারা-বন্দিনী গো, ভেবেছিনু তুমি শুধু রূপের পাগল — বুঝি নাই কা’রে বলে প্রেম-উন্মাদ।। গিরি-পাষাণে আঁকিলে তুমি যে ছবি মম, দিলে যে মধু, সেই মধু চেয়ে, সেই শিলা বুকে ল’য়ে কাঁদি,ফিরে এস, ফিরে এস বঁধু।। মোরে ল’য়ে যাও সেই প্রেম-লোকে, বিরহী কাঁদিছে যেথায় ‘শিরী শিরী কহি; আজ ভরিয়াছে বিষাদের বিলাপে গোলাপের সাধ।।