Posts

আলোকের পথে, প্রভু, দাও দ্বার খুলে

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আলোকের পথে, প্রভু, দাও দ্বার খুলে— আলোক-পিয়াসী যারা আছে আঁখি তুলে, প্রদোষের ছায়াতলে হারায়েছে দিশা, সমুখে আসিছে ঘিরে নিরাশার নিশা। নিখিল ভুবনে তব যারা আত্মহারা আঁধারের আবরণে খোঁজে ধ্রুবতারা, তাহাদের দৃষ্টি আনো রূপের জগতে— আলোকের পথে। ২. ১১. ১৯৪০ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

সবারে করি আহ্বান

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সবারে করি আহ্বান— এসো উৎসুকচিত্ত, এসো আনন্দিত প্রাণ। জয় দেহো পাতি, হেথাকার দিবা রাতি করুক নবজীবনদান। আকাশে আকাশে বনে বনে তোমাদের মনে মনে বিছায়ে বিছায়ে দিবে গান। সুন্দরের পাদপীঠতলে যেখানে কল্যাণদীপ জ্বলে সেথা পাবে স্থান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

দিনের বিচার করো

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিনের বিচার করো— দিনশেষে তব সমুখে দাঁড়ানু ওহে জীবনেশ্বর। দিনের কর্ম লইয়া স্মরণে সন্ধ্যাবেলায় সঁপিনু চরণে— কিছু ঢাকা নাই তোমার নয়নে, এখন বিচার করো। মিথ্যা আচারে যদি থাকি মজি আমার বিচার করো। মিথ্যা দেবতা যদি থাকি ভজি, আমার বিচার করো। লোভে যদি কারে দিয়ে থাকি দুখ, ভয়ে হয়ে থাকি ধর্মবিমুখ, পরনিন্দায় পেয়ে থাকি সুখ, আমার বিচার করো। অশুভকামনা করি যদি কার, আমার বিচার করো। রোষে যদি কারো করি অবিচার, আমার বিচার করো। তুমি যে জীবন দিয়েছ আমারে কলঙ্ক যদি দিয়ে থাকি তারে আপনি বিনাশ করি আপনারে, আমার বিচার করো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

নব বৎসরে করিলাম পণ

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নব বৎসরে করিলাম পণ লব স্বদেশের দীক্ষা— তব আশ্রমে তোমার চরণে, হে ভারত, লব শিক্ষা। পরের ভূষণ, পরের বসন, তেয়াগিব আজ পরের অশন— যদি হই দীন না হইব হীন, ছাড়িব পরের ভিক্ষা। নব বৎসরে করিলাম পণ লব স্বদেশের দীক্ষা। থাকে প্রাসাদ আছে তো কুটির কল্যাণে সুপবিত্র। থাকে নগর আছে তব বন ফলে ফুলে সুবিচিত্র। তোমা হতে যত দূরে গেছি স’রে তোমারে দেখেছি তত ছোটো ক’রে। কাছে দেখি আজ, হে হৃদয়রাজ, তুমি পুরাতন মিত্র। হে তাপস, তব পর্ণকুটির কল্যাণে সুপবিত্র। পরের বাক্যে তব পর হয়ে দিয়েছি পেয়েছি লজ্জা। তোমারে ভুলিতে ফিবায়েছি মুখ, পরেছি পরের সজ্জা। কিছু নাহি গণি’ কিছু নাহি কহি’ জপিছ মন্ত্র অন্তরে বহি— তব সনাতন ধ্যানের আসন মোদের অস্থিমজ্জা। পরের বুলিতে তোমারে ভুলিতে দিয়েছি পেয়েছি লজ্জা। সে-সকল লাজ তেয়াগিব আজ, লইব তোমার দীক্ষা। তব পদতলে বসিয়া বিরলে শিখিব তোমার শিক্ষা। তোমার ধর্ম, তোমার কর্ম, তব মন্ত্রের গভীর মর্ম লইব তুলিয়া সকল ভুলিয়া ছাড়িয়া পরের ভিক্ষা। তব গৌরবে গরব মানিব, লইব তোমার দীক্ষা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002....

আমার মনের বাঁধন ঘুচে যাবে যদি

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমার মনের বাঁধন ঘুচে যাবে যদি ও ভাই রে, থাক্ বাইরে বাঁধন তবে নিরবধি। যদি সাগর যাবার হুকুম থাকে থাক্ তটের বাঁধন বাঁকে বাঁকে, তবে বাঁধে বাঁধে গান গাবে নদী ভাই রে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

নূতন পথের পথিক হয়ে আসে, পুরাতন সাথি

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নূতন পথের পথিক হয়ে আসে, পুরাতন সাথি, মিলন-উষায় ঘোমটা খসায় চিরবিরহের রাতি। যারে বারে বারে হারিয়ে মেলে আজ প্রাতে তার দেখা পেলে নূতন করে পায়ের তলে দেব হৃদয় পাতি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন

তোমার আনন্দ ওই গো

শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তোমার আনন্দ ওই গো তোমার আনন্দ ওই এল দ্বারে, এল এল এল গো, ওগো পুরবাসী। বুকের আঁচলখানি সুখের আঁচলখানি— দুখের আঁচলখানি ধুলায় পেতে আঙিনাতে মেলো গো। সেচন কোরো— তার পথে পথে সেচন কোরো— পা ফেলবে যেথায় সেচন কোরো গন্ধবারি; মলিন না হয় চরণ তারি— তোমার সুন্দর ওই গো— তোমার সুন্দর ওই এল দ্বারে, এল এল এল গো। হৃদয়খানি— আকুল হৃদয়খানি সম্মুখে তার ছড়িয়ে ফেলো— রেখো না, রেখো না গো ধরে, ছড়িয়ে ফেলো ফেলো গো। তোমার সকল ধন যে ধন্য হল হল গো। বিশ্বজনের কল্যাণে আজ ঘরের দুয়ার— ঘরের দুয়ার খোলো গো। রাঙা হল— রঙে রঙে রাঙা হল— কার হাসির রঙে হেরো রাঙা হল সকল গগন, চিত্ত হল পুলক-মগন— তোমার নিত্য আলো এল দ্বারে, এল এল এল গো। পরান-প্রদীপ— তোমার পরান-প্রদীপ তুলে ধোরো ওই আলোতে— রেখো না, রেখো না গো দূরে— ওই আলোতে জ্বেলো গো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, public domain since 2002. Text from Bengali Wikisource. মূল পাঠ দেখুন