চোর

শিল্পী: নচিকেতা

ভিড় করে ইমারত, আকাশটা ঢেকে দিয়ে,

চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনা রোদ।

ছোটো ছোটো শিশুদের শৈশব চুরি ক’রে,

গ্রন্থ-কীটের দল বানায় নির্বোধ।

এরপর চুরি গেলে বাবুদের ব্রীফ-কেস

অথবা গৃহিণীদের সোনার নেকলেস,

সকলে সমস্বরে, একরাশ ঘৃণা ভরে

চিত্কার করে বলে —

চোর, চোর, চোর, চোর, চোর।

প্রতিদিন চুরি যায় মূল্যবোধের সোনা,

আমাদের স্বপ্ন, আমাদের চেতনা।

কিছুটা মূল্য পেয়ে ভাবি বুঝি শোধ-বোধ,

ন্যায় নীতি ত্যাগ করে, মানুষ আপোস ক’রে,

চুরি গেছে আমাদের সব প্রতিরোধ।

এর পর কোনো রাতে, চাকরটা অজ্ঞাতে,

সামান্য টাকা নিয়ে ধরা প’ড়ে হাতে নাতে।

সকলে সমস্বরে, একরাশ ঘৃণা ভরে

চিত্কার করে বলে —

চোর, চোর, চোর, চোর, চোর।

প্রতিদিন চুরি যায় দিন বদলের আশা,

প্রতিদিন চুরি যায় আমাদের ভালবাসা।

জীবনী শক্তি চুরি গিয়ে আসে নিরাশা,

সংঘাত্ প্রতিঘাত্ দেয়ালে দেয়ালে আঁকা,

তবু চুরি যায় প্রতিবাদের ভাষা।

কখনো বাজারে গেলে, দোকানী কিশোর ছেলে,

কাঁপা কাঁপা হাত নিয়ে, ওজনেতে কম দিলে,

সকলে সমস্বরে, একরাশ ঘৃণা ভরে

চিত্কার করে বলে —

চোর, চোর, চোর, চোর, চোর।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আজ কেন মন উদাসী হয়ে

তুমি মিশ্রিত লগ্ন মাধুরীর, বাংলাদেশ

রিমঝিম এ ধারাতে চায় মন হারাতে