পোস্টগুলি

কেমনে পাইমুরে কালা তোর দরশন

শিল্পী: আরকুম শাহ গীতিকার: আরকুম শাহ চাইর চিজে পিঞ্জিরা বানাই, মোরে কইলায় বন্ধু রে বন্ধু নিরধনিয়ার ধন কেমনে পাইমু রে কালা তোর দরশন ।। সমদ্রে জল উঠে বাতাসের জোরে আবর হইয়া ঘুরে পবনের ভরে জমিনে পড়িয়া শেষে সমুদ্রেতে যায় জাতেতে মিশিয়া জাত তরঙ্গ খেলায় । তুমি আমি আমি তুমি জানিয়াছি মনে বিচিতে জন্মিয়া গাছ বিচি ধরে কেনে এক হইতে দুই হইল প্রেমেরই কারণ সে অবধি আশিকের দিল করে উচাটন ।। পরিন্দা জানোয়ার যদি কোন এক কলে জাতি ছাড়া বন্ধ হয় শিকারিয়ার জালে কিরুপে জিন্দেগি কাটে বন্ধ খানায় তার মাশুক হইয়া কর আশিকের বিচার । আশক মাশুক যদি থাকে দুই স্থানে টেলী দিয়া খুসীর মঙ্গল যদি জানে বিনা দরশনে কিলা বাঁচিব জীবন শুন প্রভু প্রাণ প্রিয়া মোর নিবেদন ।। পাগল আরকুমে কয় মাশুক বানিয়া দুহাং পাতাইয়া থইছে উলুরে গাথিয়া আহার করিতে যদি না যাইত মন না লাগিত প্রেম লাঠা না হইত মরণ ।।

না জাগিলে সব ভারত-ললনা

শিল্পী: দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় গীতিকার: দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় না জাগিলে সব ভারত-ললনা, এ ভারত আর জাগে না জাগে না। অতএব জাগ, জাগ গো ভগিনি, হও “বীরজায়া, বীর-প্রসবিনী”। শুনাও সন্তানে, শুনাও তখনি, বীর-গুণগাথা, বিক্রম-কাহিনী, স্তন্যদুগ্ধ যবে পিয়াও জজনী। বীরগর্বে তার নাচুক ধমনী, তোরা না করিলে এ মহাসাধনা, এ ভারত আর জাগে না জাগে না।

চোখে চোখে কে চোখ রেখে মনে মনে দিল দোল

শিল্পী: মোহিনী চৌধুরী ছবি: ব্লাইণ্ড লেন (শৈলজানন্দ পরিচালিত) গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী চোখে চোখে কে চোখ রেখে মনে মনে দিল দোল দিল দোল দিল গোল দিল দোল অঙ্গে অঙ্গে তাই জাগে ভরা অঙ্গে অঙ্গে তাই জাগে ঝর ঝর ঝরণার কল্লোল কল রোল মনে মনে দিল দোল দিল দোল দিল দোল দিল দোল চোখে চোখে কে চোখ রেখে বনের চকোরী বলে চির চাওয়া চাঁদ সে রনের চকোরী বলে চঞ্চলা বলে ভাঙ্গে মোর নাথ যে অনুরাগে আঁখি মেলি চম্পা চামেলী জাগে বলে সে কুণ্ঠা ভোল অবগুণ্ঠন খোল মনে মনে দিল দোল দিল দোল দিল দোল দিল দোল চোখে চোখে কে চোখ রেখে মনের ময়ূর নাচে আয় বঁধু আয়রে মনের ময়ূর নাচে মনের ময়ূর নাচে আয় বঁধু আয়রে যৌবন মৌবনে মধু ঝরে যায় রে মধু ঝরে যার রে যায় যে মাধবী রাতি আয়রে জাগার সাথী নুপুরে জাগায়ে তোল নুপুরে জাগায়ে তোল রুম্ ঝম্ ঝম্ বোল মনে মনে দিল দোল দিল গোল দিল দোল দিল গোল চোখে চোখে কে চোখ রেখে

তীর বেঁধা আমি পাখী ব্যাথায় কাঁদে এ প্রাণ

শিল্পী: মোহিনী চৌধুরী ছবি: ব্লাইণ্ড লেন (শৈলজানন্দ পরিচালিত) গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী তীর বেঁধা আমি পাখী ব্যাথায় কাঁদে এ প্রাণ বোলো না আমায় শোনাতে বলো না আনন্দ কলতান তীর বেঁধা আমি পাখী। আমার পৃথিবী রক্তে রোদনে ভরা যেন বিধাতার অভিশাপ দিয়ে গড়া পথে পথে আজ বাঁচার পথের মিছে অনুসন্ধান বোলো না আমায় শোনাতে বলো না আনন্দ কলতান, তীর ঘেঁষা আমি পাখী। অন্ধগলির অন্ধকারে যে অন্ধেরি মত চলি যত প্রেম ছিল যত গান ছিল ক্ষুধায় দিয়েছি বলি অন্ধেরি মত চলি। তবু দাও দাও আরো দাও কাদে ক্ষুধা (হায়) এই বসুধায় কোথায় স্বরগ সুধা হে মহামানব বলো বলো এ বেদনা কবে হবে অবসান কবে হবে অবসান?

কী দেব আমি অঞ্জলি চঞ্চল তব চরণে

শিল্পী: মোহিনী চৌধুরী ছবি: ব্লাইণ্ড লেন (শৈলজানন্দ পরিচালিত) গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী কী দেব আমি অঞ্জলি চঞ্চল তব চরণে বরণ ডালায় নাই প্ৰদীপ, প্রদীপ জ্বেলেছি নয়নে।। ফুল যদি চাও প্রিয়তম হৃদয় পদ্ম নাও মম, হৃদয় পদ্ম নাও মম ফুল যদি চাও প্রিয়তম তোমার পরশ পিয়াসে পরাণ কম্পিত সুখ স্বপনে।। দেবতা আমার দয়িত আমার ব্যাথার ব্যথী আমার তুমি চির আপনার কী তোমার পূজা জানি না গো জানি না কী তোমার পূজা জানি না গো সংগীতে মোর জাগো জাগো জীবন লীলার সংগী যে তুমি আমার জীবনে মরণে।।

কে আমায় কাছে চায় কে ভালবাসে

শিল্পী: মোহিনী চৌধুরী ছবি: ব্লাইণ্ড লেন (শৈলজানন্দ পরিচালিত) গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী কে আমায় কাছে চায় কে ভালবাসে? যেই আমার খুলি দ্বার কে ছুটে আসে? পথিক হাওয়া সে দখিন হাওয়া সে। কে আমার কাছে চায় কে ভালবাসে? ঝিকি মিকি আলোতে কে ভাঙে আমার ঘুম? চুপি চুপি আদরে কে আঁকে চোখে চুম? কে আমার জানালার আড়ালে হাসে? চাঁদ আকাশে সে চাঁদ আকাশে। কে আমার কাছে চায় কে ভালবাসে? যে আমায় গান শোনায় ডাকে ও পিয়া ভীরু সে যে উড়ে আসা বন পাপিয়া। মনে মনে নিরজনে আসা যাওয়া যার নয়নে সে স্বপনেরি আনে ফুল ভার এ জীবন এ ভুবন দোলে যার আশে মরীচিকা সে মরীচিকা সে। কে আমার কাছে চায় কে ভালবাসে?

আজ এলে বুঝি এলে ফিরে

শিল্পী: মোহিনী চৌধুরী ছবি: রায়-চৌধুরী (শৈলজানন্দ পরিচালিত) গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী আজ এলে বুঝি এলে ফিরে। সেই হারানো পাখী এই নতুন নীড়ে। বনে তাই ফুল ফুটেছে মনে মনে গান জেগেছে ঝিকি মিকি আলো নাচে তোমায় ঘিরে, সেই হারানো পাখী সেই নতুন নীড়ে।

অভিনয় নয় গো অভিনয় নয়

শিল্পী: মোহিনী চৌধুরী গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী ছায়াছবি – অভিনয় নয় (শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়-এর পরিচালিত) অভিনয় নয় গো— অভিনয় নয়। এই হাসি এই গান, এই যে প্রণয় অভিনয় নয় গো অভিনয় নয়।। ভুল বোঝো ক্ষতি নেই ভুল ভাঙ্গে দু’ দিনেই ক্ষণিকের ভাল লাগা মনে জেগে রয়।। নিতি মোর অভিসার নিতি ফুল সজ্জা তাই বলে’ হে অতিথি মিছে কেন লজ্জা বুকভরা মধু মোর নিয়ে যাও হে ভ্রমর জেনে যাও অজানার কিছু পরিচয়।।

জয় বাংলা বাংলার জয়

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: আনোয়ার পারভেজ, জয় বাংলা বাংলার জয় হবে হবে হবে, হবে নিশ্চয় কোটি প্রাণ একসাথে জেগেছে অন্ধরাতে নতুন সূর্য ওঠার এই তো সময়।। বাংলার প্রতি ঘর ভরে দিতে চাই মোরা অন্নে, আমাদের রক্ত টগবগ দুলছে মুক্তির দীপ্ত তারুণ্যে। এই পথ— হয় হোক রক্তের প্রচ্ছদপট তবু করি না করি না করি না ভয় ॥ অশত্থের ছায়ে যেন রাখালের বাঁশরি হয়ে গেছে একেবারে স্তব্ধ চারিদিকে শুনি আজ নিদারুণ হাহাকার আর ঐ কান্নার শব্দ। শাসনের নামে চলে শোষণের সুকঠিন যন্ত্র, বজ্রের হুংকারে শৃঙ্খল ভাঙতে সংগ্রামী জনতা অতন্দ্ৰ। আর নয়— তিলে তিলে বাঙালির এই পরাজয় তবু করি না করি না করি না ভয় ॥ ভুখা আর বেকারের মিছিলটা যেন ঐ দিন দিন শুধু বেড়ে যাচ্ছে, রোদে পুড়ে জলে ভিজে অসহায় হয়ে আজ ফুটপাতে তারা ঠাঁই পাচ্ছে। বারবার ঘুঘু এসে খেয়ে যেতে দেব না তো আর ধান, বাংলার দুশমন তোষামোদি চাটুকার সাবধান সাবধান সাবধান এই দিন— সৃষ্টির উল্লাসে হবে রঙিন আর মানি না মানি না কোনো সংশয় ॥ মায়েদের বুকে আজ শিশুদের দুধ নেই, অনাহারে তাই শিশু কাঁদছে, গরিবের পেটে আজ ভাত নেই...

দিন দুনিয়ার মালিক, তোমার দীনকে দয়া হয় না

শিল্পী: মোহিনী চৌধুরী গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী ছায়াছবি – অভিনয় নয় (শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়-এর পরিচালিত) দিন দুনিয়ার মালিক, তোমার দীনকে দয়া হয় না এ দীনকে দয়া হয় না। কাঁটার জ্বালা দাও তারে যার ফুলের আঘাত সয় না।। এই খেলাঘর ভাঙ্গবে যদি কেনই-বা ঘর বাঁধলে সব-হারাকে কাঁদাও যত নিজেও তত কাঁদলে। (তাই) সব দিয়ে যার সব কেড়ে নাও সেও তো কথা কয় না ॥ সব কথা যার ব্যথায় ভরা কোন্ কথা সে বলবে? সব পথই যার কাঁটায় ঘেরা কোন্ পথে সে চলবে? (তার) মনের বনে লাগে আগুন, ফাগুন হাওয়া বয় না।।

আবু সুফিয়ান চৌধুরীর গান

শিল্পী: বাংলা গান ১) ও তুই ভেবে দেখরে মন চোখ মুঝিলে এই দুনিয়ার কেউ নি তর আপন রাখতে নি পারবো তরে কেউ আসিলে স্বমন ও তুই ভেবে দেখরে মন চোখ মুঝিলে এই দুনিয়ার কেউ নি তর আপন যারে তুই ভুলিয়া রইলি এই দুনিয়ায় রঙে স্ত্রী-পুত্র আত্মীয় স্বজন যাইবো নি তর সঙ্গে যাইবি রে তুই একলা একা (২) করবি স্বামীর চোখ এই মুঝিলে এই দুনিয়ার কেউ নি তর আপন ও তুই ভেবে দেখরে মন চোখ মুঝিলে এই দুনিয়ার কেউনি তর আপন যাইবি যেদিন স্বামীর ঘরে জিজ্ঞাসিবে তরে কি কর্ম করেছো আমার দুনিয়ার ভীতরে ভাবছো নি কি জবাব দিবি (২) স্বামীর কাছে তর চোখ মুঝিলে এই দুনিয়ার কেউ নি তর আপন ওই তুই ভেবে দেখরে মন চোখ মুঝিলে এই দুনিয়ার কেউ নি তর আপন করলি না কাম আদেশ মতে রঙের দুনিয়ায় মাটির ঘরে যাইবে যেদিন কি হবে উপায় সেদিন তিনি বিনে কেউনি আপন ভেবে দেখরে মন চোখ মুঝিলে এই দুনিয়ার কেউ নি তর আপন সুফিয়ান কয় ডাকো তারে থাকিতে সময় সে বিনে আর ওই দিনেতে আপন কেহো নয় করো রে মন তাহার কর্ম যিনি আপনজন ও তুই ভেবে দেখরে মন চোখ মুঝিলে এই দুনিয়ার কেউ নি তর আপন ২) যার কারনে আইলি ভবে চাইলি না তো তারে (২) মন তু...

ভোলো ভোলো ব্যথা ভোলো

শিল্পী: মোহিনী চৌধুরী গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী ছায়াছবি – অভিনয় নয় (শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়-এর পরিচালিত) ভোলো ভোলো ব্যথা ভোলো। তব বেদনা আঁধারে ঢাকা ছিল যে নভ রঙে রঙে রঙে রঙে রাঙ্গা হ’লো।। জাগে আলো জাগে আশা প্রাণে জাগে ভালো বাসা রজনী ভোরে ভাঙ্গা বাঁশরী খানি সুরে সুরে সুরে সুরে ভরে’ তোলো।। দুখের স্বপনে বল কে রাখে মনে, সুখের দিনে সে কি স্মরণে থাকে, তবু হারাণো দিনের স্মৃতি ভুলি কেমনে সে যে বারে বারে পিছু ডাকে।। আঁখি কোণে যদি কোনো ব্যথা জাগে শোনো শোনো প্রাণের প্রণতি গানে মিনতি করে ভোলো ব্যথা, ব্যথা ভোলো কথা বলো॥

আমাদের বন্দী করে যদি ওরা ভাবে

শিল্পী: খান আতাউর রহমান গীতিকার: খান আতাউর রহমান, আমাদের বন্দী করে যদি ওরা ভাবে দুনিয়ায় পাপের ভারে পুণ্য গেছে ডুবে ভুল ভুল ভুল কত বড় ভুল আমাদের সন্তানেরা দেবে সে ভুল ভেঙে দেবে ॥ আমাদের এই জীবনে সুখ-দুঃখের হিসাব-নিকাশ নাই আমাদের সুখের ভাগ ষোলো আনাই দুখে ভরা ভাই হবেই হবে হবে রে এর বিচার হবে আমাদের সন্তানেরা হিসাব করে বুঝে নেবে ॥ এই দিন তাই দিন নয় রে আরও দিন আছে এই দিনকে ঠেলে নেব সেই দিনের কাছে। আমাদের ঘরে ঘরে অনাদরে জন্ম নিল যারা অপমানে অভিমানে দিনে দিনে বড় হবে তারা নেবেই নেবে নেবে আদায় করে নেবে আমাদের পাওনাটুকু আদায় করে তারাই নেবে ॥ সুখ দুঃখ (৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১)

এমন লগনে আহা মান করে না

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, এমন লগনে আহা মান করে না কেন ও মুখে কথা সরে না ॥ হাতখানি যদি রাখো হাতে তুমি বলো ওগো দোষ কী তাতে দূর হতে দেখে শুধু মন ভরে না যদি ও মুখে কথা সরে না ॥ সখা গো, কালো চুল ভালো, কালো চোখ ভালো লাগে কালো মুখে বড় ভয় দয়া করে তুমি ক্ষমা করো, মানিয়াছি পরাজয় সখা তোমারই হয়েছে জয়। কত ভালো লাগে যখন হাসো একটু না হয় আরও কাছে আসো মিলনমালা যেন কভু ঝরে না ॥ আমার বউ (২২ জানুয়ারি ১৯৭১)

এই সে সোনার দেশ যার শ্যামল প্রান্তরে

শিল্পী: নূরুল ইসলাম গীতিকার: নূরুল ইসলাম, সুরকার: মালিক মনসুর, এই সে সোনার দেশ যার শ্যামল প্রান্তরে স্বপ্নভরা সবুজ আঁচল দোলে নীল-সবুজের বাসরঘরে হেথায় সোনার ফসল ফলে।। বাউল সুর আর রাখালিয়া গানে ভাটিয়ালি ঢেউ তুলে দেয় প্ৰাণে (আহা রাখালিয়া গানে দোয়েল শ্যামা কোকিল ডাকে মনভোলানো সুরে ॥ রূপে ঘেরা রূপকথারই দেশে নাই ভেদাভেদ রই যে মিলেমিশে (আহা রূপকথারই দেশে) মাটির মানুষ পরম সুখে থাকি মাটির ঘরে ॥ শেষ রাতের তারা (২২ জানুয়ারি ১৯৭১)

এই শহরে আমি যে এক নতুন ফেরিওয়ালা

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, এই শহরে আমি যে এক নতুন ফেরিওয়ালা হরেক রকম সওদা নিয়ে ঘুরি সারা বেলা— ফেরিওয়ালা ॥ আয়না আছে চিরুনি আছে নেবে যদি এসো কাছে আয়না আছে চিরুনি আছে আছে কাচের চুড়ি স্নো পাউডার আলতা সাবান মিলবে না তার জুড়ি আরও আছে চুলের ফিতা রঙিন মোতির মালা— ফেরিওয়ালা ॥ চার চাকাতে ভাগ্য বেঁধে বুঝে নিলাম ভাই সব জিনিসের মূল্য আছে মানুষের দাম নাই। ভাই বন্ধু সবাই শোনো মিছে এত ভাবছ কেন ভাই বন্ধু সবাই শোনো, শোনো খোকাখুকি সস্তা দামে কিনবে যদি এসো গরিব-দুখি সবার মুখের হাসি দেখে ভুলব মনের জ্বালা— ফেরিওয়ালা ॥* মানুষের মন (১৪ জানুয়ারি ১৯৭২) * পৃথিবী আমারে চায় (১৯৫৭) ছবিতে বিধায়ক ভট্টাচার্যের লেখা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া ‘নীলামওয়ালা ছ’আনা’ গানের বাণীর সঙ্গে ওই গানের সাদৃশ্য লক্ষণীয়। একই রকম সাদৃশ্য দেখা যায় তোমার আমার (১৯৬১) ছবিতে আবু হেনা মোস্তফা কামাল রচিত ‘আয়না আছে, আয়না আছে’ গানটিতেও।

রাত বলে, ওগো তুমি যে আমার

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: সত্য সাহা, রাত বলে, ওগো তুমি যে আমার সে কথা বলার অধিকার পেয়েছি চাঁদ বলে, ওগো তুমি যে আমার তাই তো আঁধার আলোকে ছেয়েছি ॥ দুজনার অনুরাগে হৃদয়ের দোলা পেয়ে বনতল ফুলে ফুলে নীরবে গেল ছেয়ে এত গান তাই তো আমি গেয়েছি ॥ প্রণয়ের তিথিডোরে অলখে বেঁধে নিলে মধুময় অভিসারে এ জীবন ভরে দিলে তোমাকে ছাড়া আর কী বা চেয়েছি ॥ আমার বউ (২২ জানুয়ারি ১৯৭১)

এক বরষার বৃষ্টিতে ভিজে দুটি মন কাছে আসলো

শিল্পী: গাজী মাজহারুল আনোয়ার গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: খোন্দকার নূরুল আলম, এক বরষার বৃষ্টিতে ভিজে দুটি মন কাছে আসলো এক সমুদ্র কল্পনা বেয়ে দুটি মন ভালোবাসল।। এক ভাবনার একটু আকাশ অনুরাগের লেখে ইতিহাস (সা নি সা রে নি সা দা নি পা গা পা গা সা) এক ফাগুনের মন্ত্রণা নিয়ে দুটি চোখ যেন হাসল ॥ এক বাসনার একটু সময় অবকাশের হলো সঞ্চয় এক জীবনের রোমাঞ্চ নিয়ে দুটি প্রাণ স্রোতে ভাসল।। জলছবি (১ জানুয়ারি ১৯৭১)

শহর থেকে অনেক দূরে চলেছি

শিল্পী: মুকুল চৌধুরী গীতিকার: মুকুল চৌধুরী, সুরকার: আলম খান, শহর থেকে অনেক দূরে চলেছি পথ চলি আমি এক যাত্রী মাঠ ঘাট প্রান্তর ছাড়িয়ে চলেছি একা একা।। দেখি এক চাঁদমুখ খোলা জানালায় কত কী ভাবে বসে একেলা ঠোঁট দুটি কাঁপে তবু কথা বলে না এ কোন খেলা এ কোন চলা পথের সাথি হয়ে।। আড়চোখে চেয়ে দেখা সে তো ভালো নয় ক্ষতি কী যদি হয় পরিচয় হাত দুটি হাতে রেখে কথা বিনিময় চলার পথে নতুন বেশে মনের সাথি হয়ে ॥ স্মৃতিটুকু থাক (১৭ জানুয়ারি ১৯৭১)

একটি কাগজ কিনে নিন

শিল্পী: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান গীতিকার: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সুরকার: রবীন ঘোষ, একটি কাগজ কিনে নিন আপনার ক্ষতি হবে না আমার কেটে যাবে দিন গরম খবর পড়ে নিন একটি কাগজ কিনে নিন বড় বড় মানুষের বড় বড় খবর হয় ছোট ছোট মানুষের নেই কোনো পরিচয়।। কেউ তো ফিরে দেখে না, কেউ তো ভুলে ডাকে না আমায় কিছু পয়সা দিন, আপনার ক্ষতি হবে না একটি কাগজ কিনে নিন এত বড় শহরের অলিগলি ঘুরে যাই হায় এ গরিবের আশা কেন মিছে হয়।। কেউ তো কভু খোঁজে না, ব্যথা যে কেউ বোঝে না কাগজ কিনে পয়সা দিন, আপনার ক্ষতি হবে না আমার কেটে যাবে দিন বড় বড় সাহেবের গাড়িঘোড়া ছুটে যায় ফুটপাতে অভাগার পেট চলা বড় দায় ॥ সবাই পায়ে ঠেলে যায়, আমরা কেন অসহায় আমায় কিছু পয়সা দিন, আপনার ক্ষতি হবে না একটি কাগজ কিনে নিন বড় বড় মানুষের বড় বড় আশা হয় কেন হায় গরিবের চোখে শুধু ধাঁধা রয় ॥ নাচের পুতুল (৮ জানুয়ারি ১৯৭১)